ভিডিও গেইম আসক্তি মানসিক রোগ : বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা

Evaly in News page (Banner-2)

টেক শহর কনটেন্ট কাউন্সিলর : ভিডিও গেইমের আসক্তিকে মানসিক স্বাস্থ্য সমস্যা বলে আখ্যা দিয়েছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা।

সংস্থাটি এই প্রথমবারের মত এটাকে একটা মানসিক স্বাস্থ্য সমস্যা হিসেবে চিহ্নিত করলো। যেটাকে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে রোগব্যাধির শ্রেণী বিন্যাসের তালিকায় ‘গেইমিং রোগ’ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।

সংস্থার প্রকাশিত একটি খসড়া নথিতে ভিডিও গেইমের আসক্তিকে আচরণগত সমস্যা হিসেবে উল্লেখ করে বলা হয়েছে, এই আচরণে আসক্তির সব লক্ষ্মণ রয়েছে। অর্থাৎ বারবার এই খেলার প্রবণতা দেখা যায় এবং এর থেকে সরে আসা কঠিন বলেও দেখা যায়।

ভিডিও-গেইমম-খেলা-টেকশহর

এছাড়াও ‘জীবনের অন্যান্য সব কিছু ছাপিয়ে প্রাধান্য পায়’ এই গেইমিংয়ের নেশা।

কোনো কোনো দেশে ভিডিও গেইম খেলার নেশাকে ইতোমধ্যেই বড়রকম জন স্বাস্থ্য সমস্যা হিসেবেও চিহ্নিত করা হয়েছে।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তালিকা সবশেষ পর্যালোচনা করে প্রস্তুত করা হয়েছিল ১৯৯২ সালে। নতুন নির্দেশিকা প্রকাশ করা হবে ২০১৮ সালে।

এই নির্দেশিকায় রোগব্যাধির কোড, উপসর্গ, লক্ষ্মণ এগুলো দেওয়া থাকে। চিকিৎসক ও গবেষকরা রোগ নির্ণয় ও রোগের চিকিৎসা পর্যালোচনার জন্য এই নির্দেশিকা ব্যবহার করেন।

এই নির্দেশিকায় বলা হবে, অন্তত ১২ মাস কারো ওপর নজর রেখে পর্যালোচনা করতে হবে ভিডিও গেইম খেলার ব্যাপারে সে নেশাগ্রস্ত হয়ে পড়েছে কিনা, খেলার ব্যাপারে তার আচরণ অস্বাভাবিক কিনা ।

‘কিন্তু কারো ক্ষেত্রে উপসর্গ যদি খুবই বেশি মাত্রায় দেখা যায়, তাহলে ১২ মাসের কম সময়ের মধ্যেই তাকে রোগগ্রস্ত বলে চিহ্ণিত করা যাবে।’

যেসব উপসর্গ দেখে বলা হবে গেইমিং রোগ
ভিডিও গেইম খেলার ক্ষেত্রে নিয়ন্ত্রণের অভাব (খেলার সময়কাল, ইচ্ছার তীব্রতা, এবং খেলার সংখ্যার বিচারে)
গেইমিংকে যখন কেউ অন্য সব কাজের ওপরে রাখছে।

এর নেতিবাচক প্রভাব সত্ত্বেও যখন কেউ ভিডিও গেইম খেলার ছাড়তে পারছে না বা খেলার তীব্রতা বাড়াচ্ছে।

লন্ডনের নাইটিঙ্গেল হাসপাতালের প্রযুক্তিতে নেশা বিষয়ক বিশেষজ্ঞ ড. রিচার্ড গ্র্যায়াম এই আসক্তিকে রোগ হিসাবে গণ্য করার সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছেন।

এর ফলে এইধরনের আসক্তি মোকাবেলায় বিশেষ চিকিৎসা পদ্ধতি নিয়ে গবেষণার সুযোগ তৈরি হবে। এছাড়াও বিষয়টাকে মানুষ গুরুত্বের সঙ্গে নেবে।

তবে যারা মনে করেন এধরনের আসক্তিকে রোগ মনে করার পেছনে যথেষ্ট যৌক্তিকতা নেই, তাদের যুক্তিকে তিনি পুরোপুরি উড়িয়ে দিচ্ছেন না।

যেসব ছেলেমেয়ে আসলে খেলায় উৎসাহী অনেকসময় তাদের বাবামা তাদের আগ্রহকে আসক্তি বলে ভুল করতে পারেন-বিভ্রান্ত হতে পারেন।

তিনি বলেন, তিনি প্রতি বছর ৫০টির মত নতুন রোগী দেখেন যারা ডিজিটাল নেশার শিকার। তিনি দেখেন এসব ব্যক্তির আচরণ তার জীবনকে কীভাবে প্রাভাবিত হচ্ছে-তার ঘুম, খাওয়াদাওয়া, সামজিক জীবন এবং শিক্ষা এর ফলে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে কীনা।

ড. গ্র্যায়াম বলছেন, এটা রোগের পর্যায়ে পৌঁছেছে কীনা তা মূল্যায়ন করতে সবচেয়ে গুরুত্ব তিনি দেন যে বিষয়টির ওপর সেটা হল, এই আসক্তি স্নায়ুতন্ত্রের ওপর কোনরকম প্রভাব ফেলছে কীনা?

এটা এখন বিশ্বের অনেক দেশেই বড় সমস্যা তৈরি করছে। দক্ষিণ কোরিয়ার সরকার একটা নতুন আইন করেছে যাতে ১৬ বছরের কমবয়সীদের মধ্যরাত থেকে ভোর ছয়টা পর্যন্ত অনলাইন গেইমস খেলার ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে।

জাপানে যারা খেলে তারা প্রতি মাসে একটা নির্দিষ্ট সময়ের বেশি খেললে তাদের সতর্কবার্তা পাঠানো হয়।

চীনে টেনসেন্ট নামে বড় ইন্টারনেট কোম্পানি বাচ্চারা কত ঘণ্টা ইন্টারনেটে তাদের সবচেয়ে জনপ্রিয় খেলাগুলো খেলবে তার সময়সীমা বেঁধে দিয়েছে।

অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয় ৮ থেকে ১৮ বছর বয়সীদের মধ্যে গবেষণা চালিয়ে দেখেছে মেয়েদের থেকে ছেলেরা ভিডিও গেইমে সময় কাটায় বেশি।

বিবিসি বাংলা অবলম্বনে

*

*

আরও পড়ুন