অনলাইনে শিশুদের সুরক্ষার আহ্বান ইউনিসেফের

টেক শহর কনটেন্ট কাউন্সিলর : বিশ্বে প্রতিদিন এক লাখ ৭০ হাজার শিশু অনলাইনে যুক্ত হচ্ছে।

তবে কোন দেশেই এসব শিশুদের ইন্টারনেটে সুরক্ষা দেওয়ার মতো পর্যাপ্ত কোনো ব্যবস্থা এখনো নেওয়া হচ্ছে না বলে জানিয়েছে জাতিসংঘের শিশু সুরক্ষা নিয়ে কাজ করা সংস্থা ইউনিসেফ।

সোমবার সংস্থাটি এ সম্পর্কিত একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করে । এতে শিশু ও তরুণ ইন্টারনেট ব্যবহারকারীদের সুরক্ষায় আরও ব্যবস্থা নেয়ার জন্য বিশ্বের শীর্ষ প্রযুক্তি বিষয়ক প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রতি আহবান জানায় ।

একইসঙ্গে যেহেতু ইন্টারনেটে শিশু ব্যবহারকারীর সংখ্যা বেড়েই চলেছে সে কারণে তাদের অনলাইন পরিচয় ও তথ্য উপাত্ত নিরাপদ রাখায় আরও ব্যবস্থা নেয়া প্রয়োজন বলে জানাচ্ছে সংস্থাটি ।

পাশাপাশি শিশুদের শৈশবের বানিজ্যিকীকরণ নিয়েও ইউনিসেফের ওই রিপোর্টে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে।
সংস্থাটি পরামর্শ দিয়ে বলেছে, একজন শিশু যখন সোশ্যাল মিডিয়ায় অ্যাকাউন্ট খোলে তখন সেসব সাইটে তার সর্বোচ্চ প্রাইভেসি সেটিংসের ব্যবস্থা থাকা উচিত।

বাংলাদেশে এখন ইন্টারনেটে যুক্ত আছে প্রায় সাড়ে ৬ কোটি মানুষ আর এখানে ১৫ থেকে ১৯ বছর বয়েসী শিশুদের মধ্যে ৩ দশমিক ৩ শতাংশ অনলাইনে যুক্ত বলে রিপোর্টে দেখিয়েছে ইউনিসেফ।

অন্যদিকে নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন বা বিটিআরসির হিসাবে ৮০ শতাংশ ইন্টারনেট ব্যবহাকারী যুক্ত আছেন ফেইসবুকে।

অনলাইনে শিশুদের নিরাপদ রাখতে বাংলাদেশেও সরকারি ও বেসরকারি ভাবে নানা উদ্যোগের কথা শোনা গেছে বিভিন্ন সময়।

চলতি বছরের শুরুতে দেশের শীর্ষ মোবাইল সেবাদাতা প্রতিষ্ঠানের মাতৃপ্রতিষ্ঠান টেলিনর বাংলাদেশসহ ভারত, মালয়েশিয়া, মিয়ানমার, পাকিস্তান, সিঙ্গাপুর, থাইল্যান্ডসহ কয়েকটি দেশে এক জরিপ চালিয়েছিল।

সেই জরিপের ফলাফলে প্রতিষ্ঠানটি বলছে, এসব দেশ সাইবার বুলিংয়ের ঝুঁকি মারাত্মক পর্যায়ে রয়েছে। তাদের মধ্যে যারা অনলাইনে গেইম খেলে তাদের ক্ষেত্রে এই ঝুঁকি আরো বেশি।

এই জরিপের উত্তরদাতাদের বয়সসীমা ছিল ১৮ থেকে ৬৪ পর্যন্ত। কিন্তু তাদের পরিবারের আরো কমবয়স্ক শিশুরা সাইবার বুলিংয়ের শিকার হচ্ছে।

জরিপে ৭৯ শতাংশ উত্তরদাতা জানিয়েছিলো, তাদের সন্তান এবং পরিচিত শিশুরা বিশেষ করে ওয়েবসাইট বা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে অনলাইন গেমস খেলার সময় শারীরিকভাবে আক্রান্ত হওয়ার হুমকির শিকার হয়েছে। এটা ঘটে বিশেষ ওয়েবসাইটে অথবা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের প্ল্যাটফর্মে।

আর ৪১ শতাংশ জানিয়েছেন, শিশুরা অনলাইনে যেসব আপত্তিকর মন্তব্যের শিকার হয়েছে তার মধ্যে রয়েছে গালাগালি, বর্ণবাদী ও যৌনতা বিষয়ক মন্তব্য।

ইউনিসেফ তাদের জরিপে শিশুদের সুরক্ষায় প্রতিটি দেশকে আরও সচেতন হওয়ার পরামর্শ দিয়েছে। সংস্থাটি বলছে, বিভিন্ন দেশে শিশুদের অনলাইনে নিরাপদ রাখতে ইন্টারনেট সংযোগের সময় বিভিন্ন সাইট ব্লক করে রাখা হয়। ওয়াইফাই রাউটার বা ইন্টারনেট সেবাদাতা প্রতিষ্ঠানই শিশুদের জন্য ক্ষতিকর সাইটগুলো বন্ধ রাখে।

এই প্রক্রিয়ায় অনেকটাই শিশুদের নিরাপদ রাখা যায় বলেও বলছে সংস্থাটি। তবে এমন প্রক্রিয়া বাংলাদেশে নেই। ফলে এখন ক্রমবর্ধমান ইন্টারনেট ব্যবহারকারী শিশুদের যৌন হয়রানি প্রতিরোধে কোনো ব্যবস্থা নেই। ইউনিসেফের পরিচালিত জরিপের ফলাফলে সাইবার পরিসরে শিশুদের এমন যৌন হয়রানি বন্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার অনুরোধ জানানো হয়েছে প্রতিটি দেশের সরকার এবং নিয়ন্ত্রক প্রতিষ্ঠানগুলোকে।

বিবিসি ও ইউনিনেফের রিপোর্ট অবলম্বনে ইমরান হোসেন মিলন

*

*

আরও পড়ুন