Techno Header Top and Before feature image

'সাইবার নিরাপত্তায় প্রয়োজন সঠিক অবকাঠামো'

টেক শহর কনটেন্ট কাউন্সিলর : তথ্যপ্রযুক্তি আইন প্রয়োগে কড়াকড়ি নয়, সাইবার নিরাপত্তা খাতে আরো বেশি অবকাঠামো নির্মাণ ও খসড়া নীতিমালাটি দ্রুত বাস্তবায়নের উপর গুরুত্বারোপ করেছেন সাইবার নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞরা।

দেশে তথ্যপ্রযুক্তির সবচেয়ে বড় আসর ‘ডিজিটাল ওয়ার্ল্ড’- এর তৃতীয় দিনে ‘সাইবার সিকিউরিটি ফর পাবলিক সার্ভিস’ শিরোনামের সেমিনারে এসব বিষয়ের উপর জোর দেওয়ার কথা বলা হয়েছে।

এছাড়াও তরুণ হ্যাকারদের খুঁজে এনে জাতীয় নিরাপত্তার ইস্যুতে কাজে লাগানোর পরামর্শ দেন বিশেষজ্ঞরা।

বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে শুক্রবার সকালের সেমিনারে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে এটুআই প্রকল্পের আইটি ম্যানেজার মোহাম্মদ আরফি এলাহীর সঞ্চালনায় অংশ নেন বাংলাদেশের ব্যাংকের মহাব্যবস্থাপক দেবদুলাল রায়, বাংলাদেশ পুলিশের ডেপুটি ইনস্পেক্টর জেনারেল হারুন অর রশিদ, সিটিও ফোরামের প্রেসিডেন্ট তপন কান্তি সরকার, সিলন কমার্শিয়াল ব্যাংকের আইটি বিভাগের প্রধান ইজাজুল হক।

সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন যুক্তরাষ্ট্রের হুজটন কোম্পানির সিনিয়র আইটি এক্সিকিউটিভ আজাদুল হক।

আজাদুল হক বলেন, হ্যাকাররা প্রতি মুহূর্তে অপেক্ষায় থাকে একটা দেশের সাইবার নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে ধ্বংস করে দেওয়ার। যত আইন করুন না কেন, কড়াকড়ি প্রয়োগ করুন, কোনো কাজ হবে না।

হ্যাকাররা অতটা বোকা নয়, ওরাও যথেষ্ট মেধা নিয়ে কাজ করে। তাদের ঠেকাতে হলে ব্যক্তিগত, প্রাতিষ্ঠানিক ও রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে সাইবার নিরাপত্তার অবকাঠামোগুলো আরো বেশি উন্নত করতে হবে। সাইবার নিরাপত্তার আইনি কাঠামোতেও আনতে হবে পরিবর্তন বলেও জানান তিনি।

‘ফায়ার আই সাইবার থ্রেট ম্যাপ’ এর মাধ্যমে তিনি বিশ্বের বিভিন্ন দেশের প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো ও টেক জায়ান্টগুলো হ্যাকিংয়ের শিকার হয়ে কিভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে-তার একটি পরিসংখ্যান তুলে ধরেন।

তিনি জানান, হ্যাকিংয়ের শিকার হয়ে সার্চ ইঞ্জিন ইয়াহু ২০০ কোটি ডলার খরচ করেছে অন্যদিকে উবার তাদের সাইট হ্যাক হওয়া ঠেকাতে ১ লাখ ডলার ব্যয় করেছে।

তিনি বলেন, আমরা সাধারণত যে ফিশিং, ম্যালওয়ারগুলো দেখতে পাই তা মাত্র ৩ শতাংশ। বাকি ৯৭ শতাংশ হল ডার্কওয়েব। এই ডার্কওয়েব নিয়ে যত কাজ হ্যাকারদের। ইন্টারনাল আর এক্সটারনাল হ্যাকারদের মধ্যে ইন্টারনাল হ্যাকারদের মধ্যে আমি বলবো, ইন্টারনাল হ্যাকররাই ভয়ঙ্কর। তারাই ডার্কওয়েবের সুযোগটা বেশি করে নেয়।

‘সোফিটিকেটেড’ হার্ডওয়্যার, সফটওয়্যারের ব্যবহারের পরামর্শ দিয়ে তিনি ব্যক্তিগত পর্যায়ের গ্রাহকদের তাদের কম্পিউটার সিস্টেম নিয়মিত ‘ক্লিন’ করার পরামর্শ দেন।

তিনি বলেন, বাজারে নানা ধরণের অ্যান্টিভাইরাস কিনতে পাওয়া যায়। যেগুলো আমাদের টাকা দিয়ে কিনতে হবে। কিন্তু ভাইরাস, ম্যালওয়ার মোকাবেলায় আমাদের এখন নিজস্ব সিস্টেম থাকা উচিত। বাংলাদেশের প্রতিটি মানুষ সেই সিস্টেমটি যেন বিনামূল্যে ব্যবহার করতে পারে, তা নিয়ে ভাবা উচিত।

কেন্দ্রীয়ভাবে ‘সাইবার অ্যালার্ট সিস্টেম’ নির্মাণের প্রস্তাব দিয়ে তিনি বলেন, এই সিস্টেমের সঙ্গে যুক্ত প্রতিষ্ঠা, সরকার ও রেগুলেটরি কমিশনগুলোকেও এই সিস্টেম ব্যবহারের সুযোগ দিতে হবে, যেন কোনো সাইবার অ্যাটাকের হুমকি পেলেই তৎক্ষণাৎ একটি অ্যাকশন নেওয়া যায়।

সাইবার এক্সপার্টদের একটি গ্রুপ তৈরি করে এ সিস্টেমের মনিটরিংয়ের দায়িত্ব দেওয়ার ‘সাইবার হাইজিন’ চর্চার উপরও গুরুত্বারোপ করেন যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী এই বাঙালি প্রকৌশলী।

বাংলাদেশ ব্যাংকের মহাব্যবস্থাপক দেবদুলাল গুহ জানান, ৮০ শতাংশ হ্যাকিং হয় গ্রাহকদের অসচেতনতার কারণে। এই গ্রাহকদের অনেকেই অ্যান্টিভাইরাস ব্যবহার করলেও তারা প্রতিকার পাচ্ছেন না।

ভুলের মাশুল হিসেবে তারা আইনি জটিলতার মুখেও পড়তে পারেন বলে সতর্ক করে দেন তিনি।
তথ্যপ্রযুক্তি খাতের ব্যবসায়ী তপন কান্তি সরকার হ্যাকারদের প্রতি কঠোর না হয়ে তাদের মেধাকে সঠিকপথে কাজে লাগাতে তথ্যপ্রযুক্তি বিভাগের দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলেন, তাদের মাধ্যমে সরকার বৈদেশিক মুদ্রাও অর্জন করতে পারবে।

বাংলাদেশ পুলিশের ডেপুটি ইনস্পেক্টর জেনারেল হারুন অর রশিদ জানান, বিশ্ব জুড়ে ট্রান্স-নেশন সাইবার ক্রাইম মোকাবেলায় আইনি কার্যক্রম নিতে গেলে নানা দেশের আইনি জটিলতার মুখে পুলিশ অনেক সময়ই সঠিকভাবে কাজ করতে পারে না। আইনের ফাঁকফোকড় গলে পার পেয়ে যায় হ্যাকার।

বাস্তবায়নের পথে থাকা ডিজিটাল সিকিউরিটি অ্যাক্ট- এর সঙ্গে জড়িত এই আইন বিশেষজ্ঞ পরে জানান, অ্যাক্ট বাস্তবায়ন হলে দেশের সাইবার ক্রাইম মোকাবেলায় আরো বেশি সক্রিয় ভূমিকা রাখবে পুলিশ।

ইমরান হোসেন মিলন

*

*

আরও পড়ুন