Techno Header Top and Before feature image

পেপ্যাল নিয়ে সমালোচনার জবাব দিলেন জয়

টেক শহর কনটেন্ট কাউন্সিলর : দেশে পেপ্যাল সেবা চালু নিয়ে ‘কিছু কিছু, কয়েকজন ব্যক্তি’র সমালোচনার জবাব দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্যপ্রযুক্তি উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয়।

বৃহস্পতিবার রাজধানীর বঙ্গবন্ধু সম্মেলন কেন্দ্রে ফ্রিল্যান্সার সম্মেলনে প্রধান অতিথি থেকে পেপ্যাল সেবার উদ্বোধনকালে জয় বলেন, ‘কিছু কিছু, কয়েকজন ব্যক্তি এটি নিয়ে সমালোচনা করার চেষ্টা করেছে যে, না এটাতো সম্পূর্ণ পেপ্যাল না। পেপ্যাল দিয়ে তো আমি বিদেশে পেমেন্ট দিতে পারছি না। পেপ্যাল দিয়ে বিদেশে টাকা পাঠাতে পারছি না।’

‘এটা কিন্তু পেপ্যালের কোনো ব্যর্থতা নয়, বিষয়টা হচ্ছে আমাদের দেশের আইনে, আমাদের বাংলাদেশ ব্যাংকের আইনে দেশের বাইরে টাকা পাঠানো নিষিদ্ধ করি-এবং সেটার কারণ আছে।’- বলছিলেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা।

‘ধরেন বিদেশে ১০ বছর পর পর একটি ইকোনমিক ক্রাইসিস হয়। ২০০৯ ও ১০ যে ইন্টারন্যাশনাল ক্রাইসিস পড়েছে তার প্রভাব কিন্তু বাংলাদেশের ওপর পড়েনি। বাংলাদেশের টাকার ভ্যালু কমেনি যেখানে মার্কিন ডলারের ভ্যালু কমেছে, ব্রিটিশ পাউন্ড কমেছে ইউরোরটা তো কমেই গেছে।’

জয় জানান, ‘আমাদের আওয়ামী লীগ সরকার দেশের অর্থনীতিকে কিছুটা আইসোলেটেড করে রেখেছে, কিছুটা আলাদা রেখেছে যাতে বিদেশে কি হয় না হয় সেটার প্রভাব আমাদের অর্থনীতির ওপর সরাসরি না পড়ে। সে কারণে আমরা বাংলাদেশ হতে টাকা ফ্রিলি না যেতে পারে তা দেখা হচ্ছে, এটা আমাদের পলিসি।’

তাও আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে এটাকে রিল্যাক্স করা হয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘আগে বছরে বিদেশে গেলে মাত্র ১ হাজার ডলার নিতে পারতেন। যারা ব্যবসায়ী তাদের হোটেল ভাড়াই তো এক হাজার ডলারের বেশি হত। সে কারণে যারা গার্মেন্টস ব্যবসা করে তারা সবাই বিদেশে টাকা রাখে এটা আমরা জানি। প্রয়োজনের কথা ভেবে আমরা সেই টাকা নেয়ার লিমিট ধাপে ধাপে বাড়িয়েছি।’

‘১০ হাজার ডলার করেছি আর তারপর যদি টাকা পাঠাতে হয় সে বাংলাদেশ ব্যাংকের পারমিশন নিয়ে পাঠাতে পারবে। আমাদের আইটি ব্যবসায়ীরা তাদের প্রয়োজনে বছরে ৩০ হাজার ডলার বিনা পারমিশনে পাঠাতে পারেন।’

সজীব ওয়াজেদ জয় বলেন, ‘আমাদের ভবিষ্যতের যে চিন্তা বাংলাদেশের অর্থনীতি যখন উন্নয়নশীল হবে। যখন আমরা বিদেশী যেকোনো দেশের অর্থনীতির সঙ্গে পাল্লা দিয়ে চলতে পারবো তখন আর এই কারেন্সি রেসট্রিকশন আমাদের থাকবে না। যেটা অন্যান্য উন্নয়নশীল দেশে আছে, সিঙ্গাপুর হতে আপনি যত টাকা লেনদেন করতে চান করতে পারেন।’

‘আমাদের আওয়ামী লীগের পরিকল্পনা আছে ভবিষ্যতে যখন আমাদের অর্থনীতি সেই পর্যায়ে যাবে আমরাও সেভাবে আমাদের কারেন্সিকে মুক্ত করে দেবো। আপনারা বাণিজ্য করতে পারবেন, যে পরিমান টাকা আনতে চান, নিতে চান কোনো সীমা থাকবে না।’

এখনও আমরা সে পর্যায়ে পৌঁছাইনি উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘আর এই কারনেই পেপ্যালের আউটবাউন্ড বিদেশে টাকা পাঠানো আমাদের দেশে আইনে নাই, সেটা আমরা পারছি না।’

‘তবে যে পরিমাণ টাকা আপনারা আনতে চান আনতে পারেন। এখানে বাৎসরিক কোনো সীমা নেই। একসঙ্গে ১০ হাজার করে আনতে পারেন সেটা প্রতিদিন যতবার আনেন কোনো সীমা নেই পেপ্যালের মাধ্যমে। এই সিস্টেম আজকে উদ্বোধন করা হয়েছে। যদিও এটি কয়েকমাস ধরে পরীক্ষামূলকভাবে চলছে।’

‘এই যে ফ্রিল্যান্সারদের আয় যেটা বেশিরভাগ বাইরে থাকে অনেকখানি হুন্ডি দিয়ে আসে। এখন এটা একটা লিগ্যাল চ্যানেলে চলে আসবে। তখন ফ্রিল্যান্সারদের চিট করার সুযোগ বন্ধ হয়ে যাবে, যা হুন্ডি করে তারা তো সুবিধা নেয়, তারা তো অনেককে চিট করে। এখন সেই সুযোগ বন্ধ হয়ে যাবে। দুর্ণীতির সুযোগ, ফ্রিল্যান্সারদের টাকা, রেমিট্যান্সের টাকা চুরি হওয়ার সম্ভাবনা আর থাকছে না।’

‘আমাদের ১ কোটি ১৮ লাখ প্রবাসী গত বছর ১৩ বিলিয়ন ডলার রেমিট্যান্স পাঠিয়েছে। যদিও আমাদের রেমিট্যান্স ব্যাংক আছে, প্রবাসী ব্যাংক আছে তারপরও এই টাকাটা বেশিরভাগ হুন্ডির মাধ্যমে আসে।’

‘কারণ ব্যাংকের মাধ্যমে পাঠাতে হলে অনেক ফরম্যালিটিস-নিয়মকানুন আছে, টাকা পাঠাতে কমপক্ষে ৩দিন লাগে, কিছুক্ষেত্রে ৭দিন লাগে, বেশি ফিও আছে।’

বক্তব্যের এ পর্যায়ে নিজেকে দেখিয়ে প্রধানমন্ত্রীর তথ্যপ্রযুক্তি উপদেষ্টা বলেন, ‘ আমারও পেপ্যাল অ্যাকাউন্ট আছে। এখন আমার মতো প্রবাসীরা এই পেপ্যাল অ্যাকাউন্ট হতে টাকা পাঠাতে পারবে।’

গত কয়েকদিন ধরে এই পেপ্যাল-জুম নিয়ে ‘বিতর্ক ও প্রশ্নবাণে’ জর্জরিত ছিলেন তথ্যপ্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক। মঙ্গলবার রাতে টেকশহরডটকমের সঙ্গে বিশেষ সাক্ষাতকারে পলক বলেছিলেন, ‘যারা সমালোচনা করছেন যে-এর আগে জুম ছিলই তাহলে এখন নতুন কী আসলো? এর আগে জুমের কোনো প্লার্টফর্মের  মাধ্যমে ই-ওয়ালেট থেকে টাকা পাঠানো যেত না। পেপ্যালের সঙ্গে কোনো ইন্টিগ্রেশন ছিল না বাংলাদেশের কোনো ব্যাংকের। জুম সার্ভিস এবং পেপ্যালের এক্সপ্রেস সার্ভিস দুটি তো ভিন্ন জিনিস।’

‘পেপ্যালকে একধাপ এগিয়ে এনেছি। প্রথমে আমরা জুমের ব্যাংক টু ব্যাংক ট্রানজিকশনে গিয়েছিলাম। প্রথম স্টেপে জুমের সঙ্গে বাংলাদেশের যে ট্রানজিকশনটা হয়েছে সেখানে পেপ্যালের ওয়ালেটের সঙ্গে কোনো ইন্টিগ্রেশন ছিল না। এ কারণে সে সময় এটির কোনো আনুষ্ঠানিকতা করা হয়নি।’

পলক জানান ‘এখন আপনি যখন যাবেন পেপ্যালের ওয়েবসাইটে, আপনি আমেরিকার একজন ক্লাইন্টকে যখন বলবেন যে আপনার পেপ্যাল ই-ওয়ালেট থেকে আমার সোনালী ব্যাংকের অ্যাকাউন্টে টাকা পাঠান। ওই ক্লাইন্ট তখন যাবেন। পেপ্যালের ই-ওয়ালেট হয়ে ওয়েবসাইটে গিয়ে বাংলাদেশ অপশনটা পাবেন। বাংলাদেশের অপশনে গিয়ে সোনালী ব্যাংকের অ্যাকাউন্টে টাকাটা পাঠিয়ে দিতে পারবেন। আর ৪০ মিনিটে টাকাটা চলে আসবে বাংলাদেশের গ্রাহকের কাছে। এটা আগে সম্ভব ছিল না।’

বৃহস্পতিবার ফ্রিল্যান্সার সম্মেলনে এই পেপ্যাল-জুম মাধ্যমে কীভাবে টাকা ট্রান্সফার হয় তা দেখানো হয়।

আল-আমীন দেওয়ান

১ টি মতামত

  1. Pingback: পেওনিয়ারে টাকা পাঠাবে না ফ্রিল্যান্সার ডটকম – টেক শহর

*

*

আরও পড়ুন