Techno Header Top and Before feature image

বেসিস নির্বাচন ডিসেম্বরে, ২ বছর মেয়াদ সব পদে

টেক শহর কনটেন্ট কাউন্সিলর : নির্বাচন নিয়ে বছরজুড়ে আলোচিত-সমালোচিত তথ্যপ্রযুক্তি খাতের শীর্ষ বাণিজ্য সংগঠন বেসিসের নির্বাচন অবশেষে অনুষ্ঠিত হচ্ছে।

বেসিসের কার্যনির্বাহী কমিটি ২০১৭ সালের ২৩ ডিসেম্বর এই নির্বাচন অনুষ্ঠানের জন্য নির্বাচন বোর্ডকে প্রস্তাব দিয়েছে বলে জানিয়েছেন কমিটির একাধিক সদস্য।

তবে বেসিস নির্বাচন বোর্ডের চেয়ারম্যান এস. এম কামাল টেকশহরডটকমকে জানিয়েছেন, এখনও তারিখ চূড়ান্ত নয়। কিছু নিয়মতান্ত্রিক আনুষ্ঠানিকতা পূরণের সময় হিসাব করে তারিখ ঠিক করতে হয়। তবে ডিসেম্বরের শেষের দিকে এই নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।

ডিটিওর নির্দেশনা অনুসারে সব পদে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে এবং কমিটির মেয়াদ হবে ২ বছর, জানান এস. এম কামাল। সংগঠনটির কার্যনির্বাহী কমিটি ৯ সদস্যের।

নির্বাচন পদ্ধতি নিয়ে নেতাদের মতদ্বৈততার জেরে মে মাসের শুরুতে নির্বাচন আয়োজনের কার্যক্রম ভণ্ডুল হয়ে যায়। আপিল-অভিযোগে শেষ পর্যন্ত সংগঠনটির গঠনতন্ত্রই সংশোধন করতে বলে দেয় বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের ডিটিও।

এরপর গঠনতন্ত্রে এসব সংশোধন আনে বেসিস।

এর আগে সংগঠনটির গঠনতন্ত্রে বলা ছিল ৩ বছরের সেশন সময়ে প্রতি টার্মে(প্রতি বছর) কার্যনির্বাহী কমিটি হতে ৩ জন পদত্যাগ করবেন। পদত্যাগ করে শূন্য হওয়া ৩ পদে হবে নির্বাচন।

নতুন নির্বাচিত এবং পুরোনো মিলে ৯ পরিচালক নতুন করে কার্যনির্বাহী কমিটির পদের দায়িত্ব নেওয়ার নির্বাচন করবেন।

কিন্তু মে মাসে তখন পদত্যাগ নিয়ে সমঝোতা না হওয়ায় এবার ‘পদে থাকার জ্যেষ্ঠতা’র ভিত্তিতে কমিটির সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট রাসেল টি আহমেদ, ভাইস প্রেসিডেন্ট এম রাশিদুল হাসান ও পরিচালক উত্তম কুমার পালকে পদত্যাগ করতে চিঠি দিয়েছিল নির্বাচন বোর্ড।

নির্বাচন বোর্ডের ওই সিদ্ধান্তে ‘আপত্তি’ করে আপিল বোর্ডে পুনর্বিবেচনার আবেদন করেন তারা।

পরে নির্বাচন বোর্ড আপিল বোর্ডের সিদ্ধান্ত তুলে ধরে চিঠি দিয়ে জানায়, জ্যেষ্ঠতা নয় পদত্যাগ হবে লটারি করে।

অনুষ্ঠিত হয় লটারি। পদত্যাগের ওই লটারিতে নাম ওঠে বেসিস কার্যনির্বাহী কমিটির সভাপতি মোস্তাফা জব্বার,  সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট রাসেল টি আহমেদ এবং ভাইস প্রেসিডেন্ট ফারহানা এ রহমানের।

বিষয়টি নিয়ে আপত্তি জানিয়ে বেসিস সভাপতি মোস্তাফা জব্বার বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের বাণিজ্য সংগঠন পরিচালকের কাছে আবেদন করেন।

যার প্রেক্ষিতে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের ডিটিও শাখা এক চিঠিতে সংগঠনটির সংঘস্মারক ও সংঘবিধি সংশোধনের পর নির্বাচন অনুষ্ঠানের নির্দেশনা দেয়া হয়। ফলে ওই নির্বাচন অনুষ্ঠানে সব কার্যক্রম আটকে যায়।

এবং এরপর বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে বেসিস নির্বাচন নিয়ে ডিটিও’র শুনানি করে।  বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব (ডিটিও) আবদুল মান্নান এই শুনানিতে বেসিস নির্বাচন বোর্ডের চেয়ারম্যান এস.এম কামাল, আপিল বোর্ডের চেয়ারম্যান এ তৌহিদ, বেসিস কার্যনির্বাহী কমিটির ভাইস প্রেসিডেন্ট রাসেল টি আহমেদ, ভাইস প্রেসিডেন্ট এম রাশিদুল হাসান, পরিচালক উত্তম কুমার পাল এবং সভাপতি মোস্তাফা জব্বার উপস্থিত থাকেন।

শুনানি শেষে ডিটিওর নির্দেশনায় বলা হয়, সংগঠনটির বর্তমান গঠনতন্ত্র সংশোধনের পর হবে নতুন নির্বাচন, যা অনুষ্ঠিত হবে সবগুলো কার্যনির্বাহী পদে। এছাড়া নতুন নির্বাচনে কমিটির মেয়াদ হবে ২ বছর।

এর ফলে বেসিসের ২০১৭-১৮ টার্মের তিনটি পদে নির্বাচনের সকল কার্যক্রম বাতিল হয়ে যায়।

আল-আমীন দেওয়ান

*

*

আরও পড়ুন