অসচেতনতায় ‘গুরুত্বহীন’ ডিজিটাল স্বাক্ষর সার্টিফিকেট

Evaly in News page (Banner-2)

টেক শহর কনটেন্ট কাউন্সিলর : ইন্টারনেটে তথ্যের নিরাপত্তা ও অথিনটিসিটিতে ডিজিটাল স্বাক্ষর সার্টিফিকেটের ব্যবহার সাইবার হামলা, ই-লেনদেন সংক্রান্ত ঝুঁকি হতে সুরক্ষা দিয়ে থাকে। অথচ প্রচারণার অভাব ও অসচেতনতায় এই সার্টিফিকেটের ব্যবহার বাড়ছে না বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা।

বাংলাদেশে সম্প্রতি কার্যক্রম শুরু করা বাংলাদেশ পাবলিক কি ইনফ্রাস্ট্রাকচার বা পিকেআই ফোরাম জানায়, দেশে ২০১২ সালে সরকারের সার্টিফাইং অথরিটি (সিসিএ) কার্যক্রম শুরু করছে। প্রায় ৫ বছরেও দেশব্যাপী উল্লেখযোগ্য এর ব্যবহার নেই। এখন পর্যন্ত প্রায় ৫৫ হাজার যে ডিজিটাল স্বাক্ষর সার্টিফিকেট ইস্যু করা হয়েছে তার বেশিরভাগই সরকারি দপ্তরগুলোতে কর্মকর্তাদের জন্য।

সরকারের সিসিএ এ পর্যন্ত ৬টি লাইসেন্স ইস্যু করেছে। এই ৬টি কোম্পানি বাংলাদেশ পিকেআই ফোরামের সদস্য। দেশে লাইসেন্সপ্রাপ্ত এই কোম্পানিগুলোই একমাত্র ডিজিটাল স্বাক্ষর সার্টিফিকেট দিতে পারে। ফোরামে কোম্পানিগুলো ছাড়াও শিক্ষাবিদ ও পেশাজীবি সদস্য রয়েছেন।

সিসিএ এর কন্ট্রোলার আবুল মনসুর মোহাম্মদ শরফুদ্দিন আহমেদ জানান, সরকারি কার্যক্রমে শিগগির ই-নথি ও ডিজিটাল স্বাক্ষর সার্টিফিকেট ব্যবহার শুরু করা সম্ভব হবে।

পিকেআই বিষয়ে জনগনকে আরও ভালোভাবে সচেতন করলে সহজে সফলতা পাওয়া সম্ভব উল্লেখ করে তিনি জানান, নাগরিক ই-সেবায় দক্ষিণ কোরিয়া এখন বিশ্বে এক নম্বর। দেশটি কয়েক বছর আগে গৃহিনীদের দিয়ে এ বিষয়ে সচেতনতা শুরু করেছিলো। এখন তাদের সব নাগরিক সেবা অনলাইনের মাধ্যমে নিরাপদভাবে পাওয়া যাচ্ছে এবং নাগরিকরা তা ব্যবহার করছে।

রাজধানীর ঢাকা ক্লাবে বৃহস্পতিবার সংবাদ সম্মেলনে বাংলাদেশ পিকেআই ফোরামের সভাপতি এ কে এম শামসুদ্দোহা জানান, মূলত বাংলাদেশে তথ্যপ্রযুক্তি সংক্রান্ত বেসিক নিরাপত্তা ইস্যুগুলো নিয়ে কাজ করবে ফোরাম। নবগঠিত ফোরামটি ইতোমধ্যে এশিয়া পিকেআই কনসোর্টিয়ামেরও প্রিন্সিপাল সদস্য মনোনীত হয়েছে।

২৪ মে চীনের ফুজোওয়ে অনুষ্ঠিত এশিয়া পিকেআই কনসোর্টিয়ামে বাংলাদেশ এই সদস্যপদ পেয়েছে বলে জানান তিনি।

শামসুদ্দোহা বলেন, সরকারের ই-টেন্ডারিং, কাস্টমস ক্লিয়ারিং ডকুমেন্টস, জয়েন্ট স্টক কোম্পানির রিটার্ন জমা, আয়কর রিটার্ন, ন্যাশনাল আইডি স্মার্টকার্ডসহ ইত্যাদিতে পিকেআই কার্যকরের বিকল্প নেই।

বর্তমান সময়ে দিন দিন সাইবার হামলার আশংকা বাড়ছে এ প্রেক্ষিতে ডিজিটাল স্বাক্ষর সার্টিফিকেট অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে উল্লেখ করেন তিনি।

এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন বুয়েটের কম্পিউটার বিজ্ঞান ও প্রকৌশল বিভাগের ডিন অধ্যাপক ড. মো. কায়কোবাদ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কম্পিউটার বিজ্ঞান ও প্রকৌশল বিভাগের অধ্যাপক ও সাবেক বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক ড. সুরাইয়া পারভীন, সিসিএ এর ডেপুটি কন্ট্রোলার আবদুল্লাহ আল-মামুন ফারুক, পিকেআই ফোরামের সাধারণ সম্পাদক ও ডাটাএইজ লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আশিফুজ্জামান।

এত দীর্ঘ সময় পরও ডিজিটাল স্বাক্ষর সার্টিফিকেট ব্যবহারের হার অত্যন্ত কম থাকায় সংবাদ সম্মেলনে অসন্তোষ প্রকাশ করেন উপস্থিত বিশেষজ্ঞজনরা।

আল-আমীন দেওয়ান

*

*