Techno Header Top and Before feature image

আউটসোর্সিং খাতের শঙ্কা কাটল, ভ্যাটে অব্যাহতি

আল-আমীন দেওয়ান, টেক শহর কনটেন্ট কাউন্সিলর : চলতি বাজেট ঘোষণার পর বিপিও বা বিজনেস প্রসেস আউটসোর্সিং সেবায় ১৫ শতাংশ ভ্যাট আরোপ নিয়ে শঙ্কিত হয়ে পড়েছিলেন খাতটির ব্যবসায়ীরা।

২০১৭-১৮ বাজেট প্রস্তাবের পর শুক্রবার সকালে বাজেট প্রতিক্রিয়া নিয়ে তথ্যপ্রযুক্তি বিভাগের এক সংবাদ সম্মেলনেও এই ভ্যাট আরোপ নিয়ে আশংকার কথা জানান বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব কল সেন্টার অ্যান্ড আউটসোর্সিং (বাক্য) এর সভাপতি ওয়াহিদ শরীফ।

‘আগের সাড়ে ৪ শতাংশ হতে এবার সাড়ে ১০ শতাংশ বেড়েছে’- এমন তথ্য জানিয়ে টিকে থাকার শঙ্কার কথা জানান সাধারণ সম্পাদক তৌহিদ হোসেনও।

কিন্তু বাজেটে দেখা যায় ডেটা এন্ট্রি, ডেটা প্রসেসিং, কল সেন্টারসহ পুরো বিপিও খাতকে ভ্যাট অব্যাহতির প্রস্তাব করেছে সরকার। ফলে আগে যে সাড়ে ৪ শতাংশ ভ্যাট দিতে হত সেটিও মওকুফ পাচ্ছে খাতটি।

২০১২ সালের নতুন ভ্যাট আইন অনুযায়ী তথ্যপ্রযুক্তি খাতের বিভিন্ন সেবায় ভ্যাট অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। নতুন অর্থবিলে এ বিষয়টি সুস্পষ্ট করে ৮৪ পৃষ্ঠায় এ খাতের অব্যাহতিপ্রাপ্ত সেবাগুলোর উল্লেখ রয়েছে। সেখানে বিপিও, ডেটা এন্ট্রি, ডেটা প্রসেসিং, কল সেন্টারও অন্তর্ভূক্ত রয়েছে।

তৌহিদ হোসেন বলেন, ‘দ্রুত সময়ে আসলে কি দেয়া হয়েছে তা খতিয়ে দেখার সুযোগ হয়নি। আমরা ভেবেছিলাম অনেক সেবার মতো গড়ে ১৫ শতাংশে ভ্যাটের আওতায় বিপিও খাতও পড়েছে।’

‘বিপিও খাতকে এই ভ্যাট অব্যাহতি দেয়ার জন্য সরকার, অর্থমন্ত্রী, তথ্যপ্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী, এনবিআরকে ধন্যবাদ জানাই। এই সুযোগের ফলে খাতটিকে আরও উন্নয়নের পথে নিয়ে যেতে পারবো আমরা।’

বিপিও খাতে বাক্যর সদস্য রয়েছেন ৯৪টি কোম্পানি। সদস্য নয় এমন ছোট-বড় কোম্পানিসহ সব মিলিয়ে ১৭০টির মতো কোম্পানি কাজ করছে বলে জানান তৌহিদ।

সংগঠনটির এই সাধারণ সম্পাদক জানান, এ খাতে এখন ৩০ হাজার মানুষ কাজ করছে। ২০২১ সাল নাগাদ তা ২ লাখে নেয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। এখন আয় হয় ৮০০ হতে ১০০০ কোটি টাকা। ২১ সালের মধ্যে ১ বিলিয়ন ডলার আয়ের লক্ষ্য নির্ধারণ রয়েছে।

এর আগে ১৫ শতাংশ ভ্যাট আরোপ হয়েছে জেনে দুশ্চিন্তার কথা উল্লেখ করে ভারতের উদাহরণ দিয়ে এই বিপিও ব্যবসায়ী বলেন, ‘ভারত এই খাতে ২০ বছর সাবসিডি দিয়েছে। আমাদের খাতের বয়স মাত্র ৮ বছর। আমাদের অগ্রগতি ভাল, সে হিসেবে খাতটি পরিণত হওয়া জন্য ভারতের মত দীর্ঘ সময় সাবসিডির দরকার হবে না। অন্তত ২০২১ সাল পর্যন্ত এই ভ্যাট মওকুফ বা কমিয়ে না দিলে খাতটিতে আশা রাখা মুশকিল।’

*

*

আরও পড়ুন