Techno Header Top and Before feature image

লটারি বাতিল, গঠনতন্ত্র সংশোধনের পর ৯ পদেই বেসিস নির্বাচন

আল-আমীন দেওয়ান, টেক শহর কনটেন্ট কাউন্সিলর : বর্তমান নির্বাচন স্থগিতের পাশাপাশি এবার নির্বাচন পদ্ধতিই বদলে যাচ্ছে দেশের তথ্যপ্রযুক্তি খাতের শীর্ষ বাণিজ্য সংগঠন বেসিসের।

লটারির মাধ্যমে প্রতি বছর ৩ পরিচালকের পদত্যাগ পদ্ধতি আর থাকছে না । হচ্ছে না ৩ পদের নির্বাচনও। সংগঠনটির বর্তমান গঠনতন্ত্র সংশোধনের পর হবে নতুন নির্বাচন, যা অনুষ্ঠিত হবে সবগুলো কার্যনির্বাহী পদে। এছাড়া নতুন নির্বাচনে কমিটির মেয়াদ হতে পারে ২ বছর।

বৃহস্পতিবার বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে বেসিস নির্বাচন নিয়ে ডিটিও’র শুনানিতে এসব নির্দেশনা দেয়া হয়। বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব (ডিটিও) আবদুল মান্নান এই শুনানি করেন।

শুনানি বেসিস নির্বাচন বোর্ডের চেয়ারম্যান এস.এম কামাল, আপিল বোর্ডের চেয়ারম্যান এ তৌহিদ, বেসিস কার্যনির্বাহী কমিটির ভাইস প্রেসিডেন্ট রাসেল টি আহমেদ, ভাইস প্রেসিডেন্ট এম রাশিদুল হাসান, পরিচালক উত্তম কুমার পাল এবং সভাপতি মোস্তাফা জব্বার উপস্থিত ছিলেন।

ডিটিওর এই নির্দেশনার ফলে তথ্যপ্রযুক্তি খাতের শীর্ষ বাণিজ্য সংগঠনটির ২০১৭-১৮ টার্মের তিনটি পদে নির্বাচনের সকল কার্যক্রম পদ্ধতিগতভাবে আর হচ্ছে না। নির্বাচন বোর্ড শিগগিরই চলমান নির্বাচন স্থগিত ও পরবর্তী নির্দেশনার জন্য অপেক্ষার নোটিশ দেবেন।

বেসিস নির্বাচন বোর্ডের চেয়ারম্যান এস.এম কামাল টেকশহরডটকমকে জানিয়েছেন, ‘ডিটিও নির্দেশনা দিয়েছেন গঠনতন্ত্র সংশোধন করে নির্বাচন করতে। এটি করতে মাসখানেক সময় তো লাগবে। ফলে নির্বাচন অন্ততপক্ষে এক মাস পিছিয়ে যাবে। এতে চলতি নির্বাচন স্থগিত করতে হবে।’

‘প্রতিবার লটারি করে তিন জন পদত্যাগ ও তিন পদে নির্বাচন হচ্ছে। ডিটিও জানিয়েছেন আগে যে এই আইন ছিল সরকার তা পরিবর্তন করেছেন। সম্ভবত এখন যা হবে তা হলো সব পদেই নির্বাচন।’

বোর্ড চেয়ারম্যান জানান, ‘এখন আমরা ডিটিওর কাছে লিখিত নির্দেশনা চেয়েছি যে, কোন আইন-সূত্র অনুয়ায়ী সব হবে। তা দেয়া হলে আমরা সে অনুযায়ী কাজ করবো।’

নির্বাচনের মেয়াদের বিষয়ে তিনি বলেন, ‘মেয়াদ দুই বছর, তিন বছর যেটা ইচ্ছা রাখা যাবে। যেহেতু নির্বাচন ৩ বছরে হওয়ার চেয়ে ২ বছর হওয়া ভাল, ফেডারেশনও ২ বছর করে। তাই মাদার অর্গানাইজেশনের সঙ্গে সঙ্গতি রেখেই ২ বছর মেয়াদে নির্বাচনের পরামর্শ দিয়েছেন ডিটিও।’

উদ্ভুত পরিস্থিতে কার্যনির্বাহী কমিটি রোববার বৈঠকে বসার কথা।

নির্বাচন নিয়ে বেসিস সভাপতি তথ্যপ্রযুক্তি মোস্তাফা জব্বার এর কাছে জানাতে চাইলে তিনি বলেন, ডিটিওর নির্দেশনা অনুযায়ী সব হওয়া উচিত। আইন-নিয়মের বাইরে যাওয়ার সুযোগ নেই।

বৃহস্পতিবারের নির্দেশনায় করণীয় কী হবে তা জিজ্ঞেস করলে তিনি বলেন, গঠনতন্ত্র সংশোধনের নির্দেশনা আগেই ছিল। বিষয়টির প্রক্রিয়া তখনই উল্লেখ করেছিলাম।

গত ২৫ মে বেসিস সভাপতিকে লেখা ডিটিও’র চিঠিতে বলা হয়েছিল,  ‘বাণিজ্য সংগঠন বিধিমালা ১৯৯৪ এর বিধি ২১ বিলুপ্ত করা হয়েছে । এমতাবস্থায় বাংলাদেশ সফটওয়্যারে  বেসিস এর সংঘস্মারক এবং সংঘবিধি সংশ্লিষ্ট ধারাসমূহ পরিবর্তন বা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে সংশোধন করে নির্বাচন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার জন্য নির্দেশনা দেয়া হল।’

তখন মোস্তাফা জব্বার টেকশহরডটকমকে জানিয়েছিলেন, ‘একটি উপ-কমিটি করে দেয়া হবে। এর পর সংঘস্মারক-সংঘবিধির কোথায় কী সংশোধন হবে তা সনাক্ত করতে হবে।’

‘কমিটি পুরো গঠনতন্ত্র যাচাই-বাছাই করে সংশোধন চিহ্নিত করে নির্বাহী কমিটির কাছে সুপারিশ করবে। নির্বাহী কমিটি পর্যালোচনা করে  এতে মতামত বা অনুমোদনের জন্য মন্ত্রণালয়ে পাঠাবে। মন্ত্রণালয় সংশোধন যথাযথ বলার পরে অতিরিক্ত সাধারণ সভা (ইজিএম) ডেকে সেখানে তা তোলা হবে।’

তিনি বলেন, ‘ইজিএম এর জন্য ২১ দিনের সময় লাগবে। ইজিএমে পাশ হলে উপস্থিত সদস্যদের স্বাক্ষরসহ সংশোধিত গঠনতন্ত্র মন্ত্রণালয়ে জমা দিতে হবে। মন্ত্রণালয় অনুমোদন দেয়ার পরে জয়েন্ট স্টকে দিয়ে হালনাগাদ করতে হবে। আর এর পরই ওই সংশোধিত গঠনতন্ত্র অনুয়ায়ী নতুন করে নির্বাচন প্রক্রিয়া শুরু হবে।’

 

 

*

*

আরও পড়ুন