গ্রীষ্মে যে পাঁচ বই পড়েছেন বিল গেটস

bill-gates-techshohor-book
Evaly in News page (Banner-2)

টেক শহর কনটেন্ট কাউন্সিলর : মাইক্রোসফটের প্রতিষ্ঠাতা বিল গেটস নিয়মিত বই পড়েন এবং সেই বইগুলো সম্পর্কে ব্লগে লেখেন।

বিল গেটস এখন মাইক্রোসফটে খুব বেশি সময় দেয় না। বেশির ভাগ সময় কাটে মেলিন্ডা গেটস ফাউন্ডেশনের কাজে এবং নিজের ব্লগে লিখে। ব্লগে গেলেই চোখে পড়বে তার পড়ার অভ্যাস। সেখানে বই নামে একটি আলাদা বিভাগও রয়েছে। ফলে গেটস ভক্তরা জানতে পারেন প্রিয় মানুষটি কি কি বই পড়লেন।

এবার গ্রীষ্মে তিনি কোন বইগুলো পড়ছেন তা এক ব্লগপোস্টে তুলে ধরেছেন। সেই বইগুলো সম্পর্কে তুলে ধরা হলো এই প্রতিবেদনে।

ব্রন অব ক্রাইম-ট্রেভর নোয়া
ট্রেভর নোয়া একজন জনপ্রিয় দক্ষিণ আফ্রিকান কমেডিয়ান, রেডিও ও টেলিভিশন উপস্থাপক এবং অভিনেতা। তিনি সুনাম অর্জন করছেন মার্কিন টেলিভিশন চ্যানেল দ্য ডেইল শো’য়ে মাধ্যমে। বিল গেটস নিয়মিত এই শো দেখেন। ব্রন অব ক্রাইম বইটিতে ট্রেভর তার জীবনের কথা তুলে ধরেছেন।

ট্রেভর নোয়া দক্ষিণ আফ্রিকার জোহানেসবার্গে জন্মগ্রহণ করেন। তার মা, প্যাট্রিশিয়া নম্বায়্যিসেলো নোয়াহ, খোসা বংশোদ্ভূত এবং তার বাবা রবার্টের পূর্বপুরুষরা সুইস জার্মান। তার শৈশবে তার মা ইহুদি ধর্মে ধর্মান্তরিত হন। নোয়াহ কৈশোরের দিনগুলো কাটান ম্যারিভেল প্রাইভেট স্কুল অ্যান্ড কলেজ নামক জোহানেসবার্গের একটি ক্যাথলিক স্কুলে।

তার জন্মের সময়কালে বর্ণবৈষম্যনীতি বা আপার্টহাইটের কারণে তার বাবা-মায়ের সম্পর্ক বেআইনী বলে গণ্য হতো। দক্ষিণ আফ্রিকান সংখ্যালঘু শ্বেতাঙ্গ সরকারের শাসনামলে তার মাকে কারাবরণ করতে হয় ও জরিমানা গুনতে হয়। আর তার বাবাকে ফেরত পাঠিয়ে দেওয়া হয় সুইজারল্যান্ডে।

বিল গেটস তার ব্লগে লিখছেন, এই বইটি পড়ে চমৎকার একটি সংগ্রামী জীবনী হাসির ছলে জানা যাবে।

দ্য হার্ট – মায়লিস দে কেরনগাল
এই বইয়ের গল্প এক তরুণের হার্ট ট্রান্সফারের ঘটনাকে কেন্দ্রে করে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে। বইটি বিল গেটসকে পড়তে পরামর্শ দিয়েছিলেন তার সহধর্মী মেলিন্ডা গেটস। বইটি সম্পর্কে বিল গেটস বলেন, বইটির ভাষা অনেক সুন্দর, একজন পাঠক বইটি পড়ার সময় নিজেকে অনুভব করতে পারবেন। বইটি পড়ার কিছু সময়ের মধ্যে পাঠকের মনে হবে তিনি গল্পের একটি চরিত্র।

হিলবিলি এলিজি’- জে.ডি. ভেন্স
আত্নজীবনীমূলক এই বইটি নিউইয়র্ক টাইমসের ২০১৬ সালে বেস্ট সেলার তালিকায় ছিল। এই বইয়ে লেখক ভেন্সের দারিদ্র্য নিরসনের জটিল সাংস্কৃতিক ও পারিবারিক বিষয়গুলির মধ্যে অন্তর্দৃষ্টি তুলে ধরা হয়েছে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের অ্যাপালেচিয়ান শহরের কেটেছে লেখকদের জীবন। সেখানকার সংগ্রামী জীবন নিয়ে বইটি পড়তে গেটসে বেশ ভালো লেগেছে বলে ব্লগ জানান তিনি।

হোমো ডেউস-নোয়া ইউভাল হারারি
গত গ্রীষ্মে বিল গেটল নোয়া ইউভাল হারারির লেখা সেপিয়েন্স বইটি পড়েছিলেন। বইটি তার স্ত্রী মেলিন্ডা গেটসও পড়েছেন। সেই ধারাবাহিকতায় লেখকের এই বইটি পড়া বলে ব্লগে জানান তিনি।

বইটিতে আমাদের আজকের মানবজাতি ও সামনের দিনের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, জিনতত্ত্ব, প্রকৌশল ও অন্যান্য প্রযুক্তি নিয়ে লিখেছেন, যা ভবিষ্যতে আমাদের জীবনধারা পাল্টে দেবে। এমন একটি ধর্মীয় নিয়ম রয়েছে যা ভালো জীবনযাপন করতে বা অসুস্থতা, ক্ষুধা এবং যুদ্ধ থেকে বেরিয়ে আসার মত আরও পার্থিব লক্ষ্যসমূহের মত। আমরা কি আসলেই এসব জিনিস অর্জন করেছি? এমন বিষয়ে বিভিন্ন মতামত লেখক বইটিতে তুলে ধরেছেন।

তবে লেখকের কিছু বক্তব্যের সঙ্গে দ্বিমত আছে বলে ব্লগে জানান  বিল গেটস। মানবজাতি নিয়ে যাদের আগ্রহ রয়েছে, তাদের অবশ্যই এই বইটি পড়া উচিত বলে মনে করেন বিল গেটস।

অ্যা ফুল লাইফ -জিমি কার্টার
একজন আমেরিকান রাজনীতিবিদ, লেখক এবং ডেমোক্রেটিক পার্টির সদস্য জিমি কার্টার। যিনি ১৯৭৭ থেকে ১৯৮১ সাল মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ৩৯তম রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করেন। তিনি ২০০২ সালে শান্তিতে নোবেল পুরস্কার পেয়েছেন। তার গড়া কার্টার সেন্টার দরিদ্র্য মানুষের স্বাস্থ্যসুরক্ষা নিয়ে কাজ করছে। বইটিতে তার ব্যক্তিগত ও প্রকাশ্য জীবনের বেশ সাহসী স্মৃতিচারণ তুলে ধরা হয়েছে।

বিল গেটস ও মেলিন্ডা গত বছর জিমি কার্টারের সাথে একটি সন্ধ্যা কাটান। সেই স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে বিল লেখেন, বাড়িতেও কার্টারের কোনো অবসর ছিল না। কয়েক বছর ধরে তিনি বাড়িটি সাজাচ্ছেন। জানতে পারি অবসর সময়ে ছবিও আঁকেন তিনি।

এক ডজনের বেশি বই লিখেছেন তিনি। এই বইটিতে  রাজনৈতিক , অর্থনৈতিকসহ হোয়াটস হাউজের নানা বিষয় উঠে এসেছে।

বিল গেটসের ব্লগ অবলম্বনে তুসিন আহমেদ

*

*

আরও পড়ুন