Techno Header Top and Before feature image

বেসিসের ৩ পরিচালক নির্বাচনে বাধা কাটল, মনোনয়ন আহবান

টেক শহর কনটেন্ট কাউন্সিলর : বেসিসের ৩ পরিচালক নির্বাচনের মনোনয়ন আহবান করা হয়েছে। গত বৃহস্পতিবার বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের ডিটিও শাখার এক চিঠিতে দেশের তথ্যপ্রযুক্তি খাতের শীর্ষ এই বাণিজ্য সংগঠনটির ২০১৭-১৮ টার্মের নির্বাচনের কার্যক্রম স্থগিত হয়ে গিয়েছিল। এটি ২০১৬-১৯ সাল মেয়াদের কমিটির প্রথম টার্মের নির্বাচন।

ওই দিন মনোনয়ন আহবান করে নোটিশ দেয়ার কথা থাকলেও ডিটিওর চিঠির কারণে তা করা হয়নি। রোববার নির্বাচন বোর্ড দু’দিন সময় বাড়িয়ে এই মনোনয়ন আহবান করার নোটিশ দিয়েছে। আগের সিডিউলে এই মনোনয়ন জমা দেয়ার শেষ দিন ছিল ৭ জুন।

আর এর মধ্য দিয়ে স্থগিত হয়ে যাওয়া নির্বাচনী কার্যক্রম আবার শুরু হল। সে হিসেবে গত মঙ্গলবার পদত্যাগের লটারিতে নাম ওঠা বেসিস কার্যনির্বাহী কমিটির সভাপতি মোস্তাফা জব্বার,  সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট রাসেল টি আহমেদ এবং ভাইস প্রেসিডেন্ট ফারহানা এ রহমানকে পদত্যাগ করতে হচ্ছে।

সংগঠনটির গঠনতন্ত্র অনুয়ায়ী ৩ বছরের সেশন সময়ে প্রতি টার্মে(প্রতি বছর) কার্যনির্বাহী কমিটি হতে ৩ জন পদত্যাগ করবেন। পদত্যাগ করে শূন্য হওয়া ৩ পদে হবে নির্বাচন। নতুন নির্বাচিত এবং পুরোনো মিলে ৯ পরিচালক নতুন করে কার্যনির্বাহী কমিটির পদের দায়িত্ব নেওয়ার নির্বাচন করবেন।

বেসিস নির্বাচন বোর্ডের চেয়ারম্যান এস.এম কামাল টেকশহরডটকমকে জানান, ‌‌‌’মনোনয়ন আহবান করা হয়েছে। যে দু’দিন দেরি হয়েছে সে দু’দিন বাড়িয়ে সময় দেয়া হয়েছে।’

বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের ডিটিও শাখা চিঠিতে যে গঠনতন্ত্র সংশোধন করে নির্বাচন অনুষ্ঠানের কথা বলা হয়েছিল, সেটি কীভাবে মানা হয়েছে এমন প্রশ্নে তিনি জানান, ‌‌’আমাদের কে নয়। বেসিস সভাপতিকে একটি চিঠি দিয়েছিল।’

ডিটিও বিধিবিধানে এখন কোনো সমস্যা হবে কিনা জানতে চাইলে বোর্ড চেয়ারম্যান বলেন, ‌’এটা কোনো সমস্যা নয়। নির্বাচন বোর্ড চিঠিটি নিয়ে আলোচনা করেছে। চিঠিতে বলছেন যে সংশোধন করে নির্বাচন দিতে। কিন্তু সংশোধন কী লাগবে সেটা বলেন নাই।’

‘চিঠিতে যে দুটি জিনিস লেখা রয়েছে, সে বিষয় নিয়ে মোস্তাফা জব্বার কথা বলছিলেন-সেই ব্যাপারে অলরেডি সিদ্ধান্ত আমাদের কাছে আছে। লটারি হবে না সিনিয়রিটিতে হবে তা নিয়ে ডিটিও অলরেডি নির্দেশ দিয়েছেন আগে। সুতরাং সেই নির্দেশনা মেনেই আমরা নির্বাচন করছি।’

তিনি বলেন, ‌’গঠনতন্ত্র সংশোধনীর ব্যাপারটা উনি বলছেন কিন্তু গঠনতন্ত্র সংশোধনী কিসে হবে, দোষ থাকলে কোথায়, কী করতে হবে সে বিষয়ে কিছু বলেন নাই। আর গঠনতন্ত্র সংশোধনীর বিষয়ে বেসিস অলরেডি এ বছরের প্রথম দিকে তাদের মিটিংয়ে কতগুলো সংশোধনী প্রস্তাব করেছে। উনি সাধারণভাবে বলেছেন সংশোধন করে নির্বাচন করা হোক।’

ডিটিও’র চিঠির কোনো উত্তর নির্বাচন বোর্ড দেবে কিনা জানতে চাইলে এস.এম কামাল বলেন,‌ ‘ডিটিও আমাদের চিঠি দেননি এবং আমাদের কাছে কোনো উত্তরও চাননি। আমরা ডিটিও আইন অনুয়ায়ী নির্বাচন পরিচালনা করছি।’

basis-techshohor-211

বৃহস্পতিবার বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের ডিটিও শাখা এক চিঠিতে সংগঠনটির সংঘস্মারক ও সংঘবিধি সংশোধনের পর নির্বাচন অনুষ্ঠানের নির্দেশনা দেয়া হয়।

ডিটিও এর চিঠিতে বলা হয়,  ‘বাণিজ্য সংগঠন বিধিমালা ১৯৯৪ এর বিধি ২১ বিলুপ্ত করা হয়েছে । এমতাবস্থায় বাংলাদেশ সফটওয়্যারে  বেসিস এর সংঘস্মারক এবং সংঘবিধি সংশ্লিষ্ট ধারাসমূহ পরিবর্তন বা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে সংশোধন করে নির্বাচন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার জন্য নির্দেশনা দেয়া হল।’

বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের উপ-সচিব মিরাজুল ইসলাম উকিল ওইদিন টেকশহরডটকমকে জানান, ‘বেসিসকে আইন অনুযায়ী তাদের সংঘস্মারক ও সংঘবিধি সংশোধন করে তারপর নির্বাচন অনুষ্ঠান করতে বলা হয়েছে।’

সংশোধনের জন্য নিদির্ষ্ট কোনো সময় দেয়া হয়েছে কিনা জানতে চাইলে এই  উপ-সচিব বলেন, ‘এটি তারা যত দ্রুত করে পারবেন তত দ্রুত নির্বাচন হবে। যদি এক সপ্তাহে পারেন এক সপ্তাহে, এক মাসে হলে এক মাসে । ’

বেসিস সভাপতি তথ্যপ্রযুক্তিবিদ মোস্তাফা জব্বার বলেন, ‘ডিটিও এর সিদ্ধান্ত মূল্যায়ন করা উচিত ছিল। ফরম্যালি নির্বাচন বোর্ডের নির্দেশনা পেলে পরবর্তী করণীয় ঠিক করা হবে।’

এর আগে তিনি বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের বাণিজ্য সংগঠন পরিচালকের কাছে আবেদনে বলেন, ‘কার্যনির্বাহী কমিটির জ্যেষ্ঠ তিন সদস্য সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট রাসেল টি আহমেদ, ভাইস প্রেসিডেন্ট এম রাশিদুল হাসান ও পরিচালক উত্তম কুমার পালকে পদত্যাগ করতে চিঠি দিয়েছিল নির্বাচন বোর্ড। কিন্তু আপিল বোর্ডের বরাত দিয়ে সেই সিদ্ধান্ত বাতিল করে সংঘবিধি লংঘন করে আমাকেও লটারির মাধ্যমে পদত্যাগ করতে বলে। এটি আমার প্রতি অন্যায়। আমি কেবলমাত্র এক বছর ধারাবাহিকভাবে দায়িত্ব পালন করে আসছি।’

ওই আবেদনে তিনি ‘পদত্যাগে লটারি’ পদ্ধতি বেসিস সংঘবিধির ১২.৫ এবং ১৪.৫ এর লংঘন বলে উল্লেখ করেন।

আবেদনে বলা উল্লেখ করা হয়,  ‘বস্তুত এই দুটি ধারা অনুসারে ধারাবাহিকভাবে তিন বছর পরিচালকের দায়িত্ব পালন করার পর থেকে এই পরিচালকগণ সংঘবিধি লংঘন করে পরিচালকের দায়িত্ব পালন করছেন। এমনকি তারা পরিচালক পদে অবৈধভাবে নির্বাচনেও অংশ গ্রহণ করেছেন।’

আবেদনে বিষয় ছিল, ‘বেসিস পরিচালক হিসেবে অবসর গ্রহণের জন্য কৃত লটারি বাতিল, জ্যেষ্ঠ পরিচালকদের অবসর গ্রহণের নির্দেশ দান ও ৩ বছর ধারাবাহিকভাবে দায়িত্ব পালনকারী ৩ পরিচালককে পরিচালক পদ থেকে অপসারণের আবেদন’।

যার প্রেক্ষিতে ডিটিও গঠনতন্ত্র সংশোধন করে নির্বাচন অনুষ্ঠানের চিঠি দিয়েছিল।

আল-আমীন দেওয়ান

আরও পড়ুন: 

*

*

আরও পড়ুন