STE 2019 (summer) in news page

হার্ভার্ডে জাকারবার্গ : লড়াইটা দেশভিত্তিক নয় বরং চিন্তাভিত্তিক

Laptop fair 2019 (in page)

টেক শহর কনটেন্ট কাউন্সিলর : এখন থেকে ফেইসবুকের প্রতিষ্ঠাতা মার্ক জাকারবার্গকে আর কেউ ড্রপ আউট শিক্ষার্থী বলতে পারবেন না। ১২ বছর পর হলেও হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয় থেকে তিনি ডিগ্রি অর্জন করেছেন।

বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে পেয়েছেন সম্মানজনক ‘ডক্টর অব ল’ ডিগ্রি। সম্মানসূচক সেই ডিগ্রি নিতে বাবা-মাকে নিয়ে জাকারবার্গ হাজির হয়েছিলেন হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে।

বৃহস্পতিবার নিজের পুরনো ক্যাম্পাসে ফিরে এসে অনুজদের জন্য বক্তৃতাও দিয়েছেন। বক্তৃতায় তিনি বৈষম্যের বিরুদ্ধে লড়াই করতে এবং উদ্ভাবনী কাজে ঝুঁকি নেওয়ারও পরার্মশ দিয়েছেন।

mark-techshohor (2)

তার সেই দীর্ঘকায় বক্তব্য থেকে বাছাই করা ১০ কথা উল্লেখ করা হলো :

১. আপনারা এখানে এসে যা করতে পেরেছেন আমি তা পারিনি। যদি এই বক্তৃতা আমি শেষ করতে পারি তবে প্রথমবারের মতো আমি হার্ভার্ডের কোনো যাত্রা শেষ করতে পারবো।

২. হার্ভার্ডে আমার সবচেয়ে ভালো স্মৃতিগুলো আসলে প্রিসিলাকে ঘিরে। মজার ছলে ফেইসম্যাশ বানিয়েছিলাম যাতে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের কাছে আমার ডাক পড়ে আর আমি প্রিসিলার চোখে পড়ি। এ থেকে সবাই ধরেই নিল আমাকে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বের করে দেওয়া হবে।

বাবা-মা আমার ব্যাগ গুছিয়ে দিতে আসলো, বন্ধুরা বিদায় জানানোর জন্য একটি পার্টির আয়োজন করলো। ভাগ্য ভালো সেখানে প্রিসিলাও এসেছিল। পার্টি চলাকালে আমরা বাথরুমে যাওয়ার জন্য লাইনে দাঁড়িয়ে ছিলাম। এক পর্যায় আমি প্রিসিলার দিকে ঘুরে বললাম, তিন দিনের মধ্যে আমাকে বের করে দেওয়া হবে। তাই খুব তাড়াতাড়িই ডেটে যেতে হবে।

৩. কখনোই কোনো আইডিয়া পূর্ণাঙ্গভাবে প্রকাশ পায় না। আইডিয়াগুলো নিয়ে কাজ করতে হয়। যদি আমার আগেই জানা থাকতো, মানুষকে ভার্চুয়ালি কিভাবে যুক্ত করা যায় তাহলে ফেইসবুক তৈরি করার আগ্রহ আমার মধ্যে তৈরি হতো না।

৪. নতুন কিছু শুরু করার আগে জেনে নিন, প্রথমেই মানুষ আপনাকে ভুল বুঝবে। অনেক বড় লক্ষ্য নিয়ে কাজ করে সফলতা পেতে শুরু করলেও মানুষ আপনাকে পাগল বলবে।

mark-techshohor

৫. আমাদের সিস্টেমেই কিছু সমস্যা আছে। আমি ১০ বছরেই বিলিয়নিয়ার হয়ে গেছি। কিন্তু এখানে লাখ লাখ শিক্ষার্থী আছে যারা নিজেদের ঋণগুলোই ঠিকমতো পরিশোধ করতে পারে না। ব্যবসা শুরু করা তো বহু দূরের ব্যাপার।

৬. প্রতিটি প্রজন্মের কাছে সমঅধিকারের সজ্ঞা প্রসারিত হয়। আমাদের আগের প্রজন্ম ভোট আর নাগরিক অধিকার নিয়ে লড়াই করেছে। এর ফলে চমৎকার একটি সমাজ ব্যবস্থা তৈরি হয়েছে। এখন আমাদের সময় এসেছে সম্পর্ক স্থাপনের নতুন ক্ষেত্র খুঁজে বের করার।

৭. নতুন আইডিয়া যেমন, বৈশ্বিক সার্বজনিন সর্বনিম্ন আয়ের মতো বিষয়গুলো নিয়ে আমাদের কাজ করা উচিত। যাতে সবাই তাদের আইডিয়াগুলো নিয়ে কাজ করার সুযোগ অন্তত পায়। শুধু গুটি কয়েক কর্মীদের জন্য নয়, সবার জন্যই নিশ্চিত করতে হবে চাইল্ড কেয়ার ও স্বাস্থ্য সেবা।

৮. পুরো বিশ্বেই আমাদের নতুন প্রজন্ম এখন নেতৃত্ব প্রদান করছে। কিন্তু বর্তমানে আমরা খুব অস্থির একটা সময় পার করছি। বিশ্বায়নের কারণে কিছু মানুষ পিছনে পড়ে যাচ্ছে। নিজের বাড়িতেই যদি আমরা অসুখী হই তাহলে চেনা পরিচিত গণ্ডির বাইরে থাকা মানুষগুলোর জন্য কিছু করা খুব কঠিন হয়ে পড়ে।

৯. ইতিহাসে মিলেনিয়ালাররা (২০০০ সালের পর যারা প্রাপ্ত বয়স্ক হয়েছে) মানুষকে সহায়তা করার দিক দিয়ে সবচেয়ে এগিয়ে আছে। প্রতি ৪ জন মার্কিনির মধ্যে ৩ জনই দান করেন। প্রতি ১০ জনে ৭ জন্য অন্যের জন্য অর্থ সংগ্রহ করেন।

কিন্তু সমাজসেবা বিষয়টি শুধু দান করার মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। চাইলে আপনি আপনার সময়ও দিতে পারেন। প্রতি সপ্তাহে যদি এক বা দুই ঘণ্টা করে সময় বের করেন তাহলেই হাত বাড়িয়ে কাউকে সহায়তা করা যায়।

১০. আমাদের সময়ে কিছু বিষয় নিয়ে বিবাদ চলছে। একদিকে আছে স্বাধীনতা, উন্মুক্ততা ও গ্লোবাল কমিউনিটিগুলো, অন্যদিকে আছে স্বৈরতন্ত্র, বিচ্ছিন্নতাবাদ ও জাতীয়তাবাদ। যারা জ্ঞান, ব্যবসা বাণিজ্যের প্রসার ও অভিবাসনের বিরুদ্ধে তারাই সবকিছুর গতি কমিয়ে দিতে চায়। এই লড়াইটা দেশভিত্তিক নয় বরং চিন্তা ভিত্তিক।

আনিকা জীনাত

*

*

আরও পড়ুন