জিপি অ্যামপ্লয়িজ ইউনিয়নের প্রথম সম্মেলন শুক্রবার

টেক শহর কনটেন্ট কাউন্সিরর : প্রথমবারের মতো সম্মেলন করতে যাচ্ছে গ্রামীণফোন অ্যামপ্লয়িজ ইউনিয়ন বা জিপিইইউ (প্রস্তাবিত)। টেলিকম খাতে দেশের সবচেয়ে বড় ও সক্রিয় শ্রমিক অধিকার সংগঠন এটি।

শুক্রবার সকাল ৯টায় রাজধানীর ধানমণ্ডিস্থ কবি নজরুল ইনস্টিটিউটে দিনব্যাপী এ সম্মেলন শুরু হবে।  ২০১২ সালের ২৩ জুন আত্মপ্রকাশের পর যাত্রার পাঁচ বছরে অনেক চড়াই-উতড়াই পেরিয়েছে সংগঠনটি। জিপিইইউ এর বর্তমান সদস্য সংখ্যা ১৮০০।

বলা চলে লড়াইয়ের মধ্যেই জন্ম সংগঠনটির। ২০১২ সালের মে মাসে অন্তত ২৫০ কর্মী ছাঁটাইয়ের সিদ্ধান্ত নিয়েছিল গ্রামীণফোন। এর প্রতিবাদে তখন আন্দোলনে নামে প্রতিষ্ঠানের কর্মীরা। আর  সে সময়ই জন্ম হয় জিপিইইউ এর।

আর দেড় বছরের মাথায় বাংলাদেশের কোনো সংগঠন হিসেবে ‘ফ্রিডম ফর ফিয়ার’ পুরস্কার-২০১৩ পায় জিপিইইউ।

এছাড়া শ্রম আইন অনুয়ায়ী কোম্পানির লভ্যাংশ হতে ৫ শতাংশ করে কর্মীদের প্রদানের  দাবি আদায়ের লড়াইয়ে সফল হয় সংগঠনটি।

এরপর সংগঠনের অগ্রগতি ও সদস্যদের স্বার্থ রক্ষায় কাজ করে ২০১৫ সালে ইউরোপভিত্তিক আন্তর্জাতিক সংগঠন ইউনি গ্লোবাল ইউনিয়নের বেস্ট অর্গানাজিং অ্যাওয়ার্ড পায় জিপিইইউ।

gpeu.techshohor

প্রতিষ্ঠার পর হতে সংগঠনটি এখনও আইনি লড়াইয়ের মধ্যে যাচ্ছে। অনানুষ্ঠিকভাবে জিপিইইউ গঠন হয় ২০১২ সালের ১৪ জুন। ২৩ জুন নিবন্ধনের জন্য শ্রম পরিচালকের কাছে আবেদন করে সংগঠনটি। শ্রম পরিচালক আবেদন বাতিল করে দেন ২৯ জুলাই। এর বিরুদ্ধে একই বছরের ২৬ আগস্ট  ২ নং  শ্রম আদালতে আপিল করে ইউনিয়ন।

এর পর আপিলের শুনানীতে বিব্রত বোধ করায় ২০১৪ সালের শেষে নাগাদ বিচারক মামলাটি শ্রম আপিল ট্রাইবুনালের পঠিয়ে দেন। সেখানে আবেদন করা হয় শুনানীর জন্য।  ২০১৫ সালের শুরুর দিকে ইউনিয়ন নিজেদের পক্ষে রায় পায়।

এতে গ্রামীণফোন কর্তৃপক্ষ ১৫ দিনের মধ্যে হাইকোর্টে রিট করে। হাইকোর্ট তা আবার ট্রাইবুনালে অন্য বিচারকের আদালতে ফেরত পাঠায়। ট্রাইবুনাল হতে এটি যায় ১ নং শ্রম আদালতে।  সেখানে গ্রামীণফোন কর্তৃপক্ষের পক্ষে রায় দেন শ্রম আদালত।

এই রায় নিয়ে ইউনিয়ন আপিল ট্রাইবুনালে আবেদন করে। এর পর   ইউনিয়নের(জিপিইইউ) নিবন্ধনের আপিল মঞ্জুর করে শ্রম আপিল ট্রাইব্যুনাল।

২০১৬ সালের জুনে শ্রম আপিল ট্রাইব্যুনালের দ্বৈত বেঞ্চের চেয়ারম্যান বিচারপতি শামসুল হুদা এবং সদস্য বিচারক গোলাম রব্বানি জিপিইইউ এর পক্ষে রায় দেন। আদালত ইউনিয়নের নিবন্ধন চাওয়ার আবেদন গ্রহণ করে শ্রম পরিচালককে নিবন্ধন দিতে নির্দেশ দেন তিনি।

জিপিইইউ  নেতা সুব্রত দাস খোকন জানান, ট্রেড ইউনিয়ন আমাদের করতে হয়েছে বাস্তব কারণেই। আইনী অধিকার হিসেবে ইউনিয়ন করবার অধিকার আমাদের সব সময়ই ছিলো। অধিকারের জন্য আমরা লড়াই করছি, করতে থাকবো।

তিনি উল্লেখ বলেন, ‘এখন আউটসোর্সিংয়ের নামে, ডিজিটালাইজেশনের নামে এবং গ্লোবালাইজেশনের নামে এবং ট্রান্সফরমেশনের নামে এক অনিশ্চিত পরিবেশ সৃষ্টি করা হচ্ছে। যেখানে মানুষের ক্যারিয়ারের উন্নতি হবার কথা সেখানে চাকরি থাকবে কিনা সেটাই এখন প্রশ্নবিদ্ধ?’

আল-আমীন দেওয়ান

*

*

আরও পড়ুন