তথ্যপ্রযুক্তি : বিশ্বজুড়ে বাংলাদেশের জয়জয়কারের বছর

Evaly in News page (Banner-2)

আল-আমীন দেওয়ান, টেক শহর কনটেন্ট কাউন্সিলর : তথ্যপ্রযুক্তি খাতে এগিয়ে চলার নানা স্বীকৃতিতে বিশ্বজুড়ে ২০১৬ সাল বাংলাদেশের জয়জয়কারের বছর। দেশের টেক ও টেলিকম খাতের সরকারি-বেসরকারি নানা প্রকল্প, উদ্যোগ ও উদ্ভাবনের সাফল্য বিশ্ব অবাক হয়েই দেখেছে।

আইসিটি ফর ডেভেলপমেন্ট অ্যাওয়ার্ড : তথ্যপ্রযুক্তি খাতে বাংলাদেশের সম্মানের মূল্যায়নে ২০১৬ সালে ‘আইসিটি ফর ডেভেলপমেন্ট অ্যাওয়ার্ড’ সবচেয়ে সেরা অর্জন। দেশের তথ্যপ্রযুক্তি খাতকে সামনে এগিয়ে নিয়ে ডিজিটাল বিশ্বের পথে অভাবনীয় অগ্রগতি এবং ডিজিটাল বাংলাদেশ বিনির্মাণে কাজ করার স্বীকৃতিস্বরূপ এই অ্যাওয়ার্ড পান প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও প্রযুক্তি বিষয়ক উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয়।

১৯ সেপ্টেম্বর যুক্তরাষ্ট্রে পুরস্কারটি গ্রহণ করেন জয়। বিখ্যাত হলিউড অভিনেতা রবার্ট ডেভি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ছেলে ও তাঁর উপদেষ্টাকে সম্মানজনক পুরষ্কারটি তুলে দেন।

জাতিসংঘের টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা গ্রহণের প্রথম বার্ষিকীতে এই লক্ষ্য অর্জনের পথে প্রতিযোগিতামূলক তথ্যপ্রযুক্তি ও ফ্যাশনের গুরুত্ব নিয়ে নিউইয়র্কের হোটেল মিলিয়েনিয়ামের রিভারভিউ সম্মেলন কক্ষে এক উচ্চ পর্যায়ের সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে এই অ্যাওয়ার্ড তুলে দেওয়া হয়।

ICT FOR DEVELOPMENT-JOY-TECHSHOHOR

পুরস্কার প্রদান অনুষ্ঠানে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, বিভিন্ন দেশের গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব, জাতিসংঘের উচ্চ পর্যায়ের কর্মকর্তাবৃন্দ, বিভিন্ন আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানের প্রধান, বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রদূত, বিশ্ব সুশীল সমাজের নেতৃবৃন্দ এবং অভিনয় ও সংগীত ক্ষেত্রের শিল্পীরা উপস্থিত ছিলেন।

ওয়ার্ল্ড অর্গানাইজেশন অব গভর্নেন্স অ্যান্ড কম্পিটিটিভনেস, প্ল্যান ট্রিফিনিও, গ্লোবাল ফ্যাশন ফর ডেভেলপমেন্ট এবং যুক্তরাষ্ট্রের কানেকটিকাট স্টেটের নিউ হেভেন বিশ্ববিদ্যালয়ের স্কুল অব বিজনেস সম্মিলিতভাবে এই পুরস্কারটি প্রদান করেছে।
‘ডিজিটাল বাংলাদেশ’ প্রকল্প গ্রহণের মাধ্যমে বাংলাদেশের নাগরিকদের সহায়তা করায় তাকে এই পুরস্কারের জন্য মনোনীত করা হয়েছে।

এছাড়াও আইসিটি বিভাগে নেতৃত্বদান ও দৃঢ়তার সঙ্গে তথ্যপ্রযুক্তিখাত নিয়ে কাজ করে যাচ্ছেন সজীব ওয়াজেদ জয়। সেই সঙ্গে প্রতিযোগিতামূলক বাজারে টেকসই উন্নয়নের জন্য আইসিটি খাতকে নেতৃত্ব দিয়ে দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার স্বীকৃতি হিসেবে এ পুরস্কার পান তিনি।

ডিজিটাল গভর্নমেন্ট অ্যাওয়ার্ড : ডিজিটাল বাংলাদেশ বাস্তবায়নে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখায় ২০১৬ সালে সম্মানজনক আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি ‘ডিজিটাল গভর্নমেন্ট অ্যাওয়ার্ড’ পায় সরকারের তথ্যপ্রযুক্তি বিভাগ।

তথ্যপ্রযুক্তিতে এশিয়ার অন্যতম বৃহৎ সংগঠন এশিয়ান-ওশেনিয়ান কম্পিউটিং ইন্ডাস্ট্রি অর্গানাইজেশন (অ্যাসোসিও) এর এই অ্যাওয়ার্ড বছরটিতে অন্যতম সেরা অর্জন।

১৫ নভেম্বর মিয়ানমারের রাজধানী ইয়াঙ্গুনের নভোটেল ইয়াঙ্গুন ম্যাক্স হোটেলে চলা পাঁচ দিনব্যাপী ‘অ্যাসোসিও আইসিটি সামিটে-২০১৬’ এর তৃতীয় দিনে এ পুরস্কার গ্রহণ করেন তথ্যপ্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক ।

এ দিন সন্ধ্যায় প্রতিমন্ত্রীর হাতে অ্যাওয়ার্ড ক্রেস্ট তুলে দেন অ্যাসোসিও সভাপতি বুনরাক সারাগানান্দা।

ict-divison.techshohor

পুরস্কারের জন্য তথ্যপ্রযুক্তি বিভাগকে চূড়ান্ত করতে বিভাগটির বিভিন্ন কার্যক্রমকে অসাধারণ হিসেবে বিবেচনা করা হয়। এর মধ্যে বাংলাগভনেট ও ইনফো সরকার-২ প্রকল্পের আওতায় দেশের ৫৮টি মন্ত্রণালয়-বিভাগ, ২২২টি অধিদপ্তর-সংস্থাসহ সকল জেলা ও উপজেলাকে উচ্চগতির ফাইবার অপটিক কেবল সংযোগের আওতায় আনা, আট শতাধিক ভিডিও কনফারেন্সিং সিস্টেম এর মাধ্যমে সরকারি কার্যক্রম দ্রুততর করা, ন্যাশনাল এন্টারপ্রাইজ আর্কিটেক্ট(এনইএ) এর আওতায় ইন্টার-অপারেবিলিটি ফ্রেমওয়ার্ক বাস্তবায়নের মাধ্যমে সরকারের তথ্যপ্রযুক্তি নির্ভর সকল কার্যক্রম ও সেবা প্রদান একটি একীভূত কাঠামোর আওতায় আনার উদ্যোগের কথা বলা হয়েছে।

বিবেচনা করা হয়েছে মোবাইল অ্যাপের মাধ্যমে জনগণের দোরগোড়ায় সরকারের সেবা পৌঁছে দেয়া, প্রাথমিক শিক্ষকদের অবসর ভাতা প্রদানে অনলাইন পেমেন্টের ব্যবস্থা গ্রহণ, অনলাইনে ট্যাক্স ব্যবস্থাপনা বাস্তবায়ন, সরকারি কর্মকর্তাদের ২৫ হাজার স্মার্ট ডিভাইস দেয়া, ন্যাশনাল ওয়েব পোর্টালে ২৫ হাজার ওয়েবসাইটের সমন্বয়ে সরকারি সেবা দেয়ার মতো কার্যক্রমগুলো।

আইটিইউ টেলিকম ওয়ার্ল্ড অ্যাওয়ার্ড : আইটিইউ টেলিকম ওয়ার্ল্ড অ্যাওয়ার্ড ২০১৬ সালে টেলিকম খাতের অনন্য অর্জন। বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট প্রকল্প এ পুরস্কার পায়।

আইটিইউ টেলিকম ওয়ার্ল্ড-২০১৬ মেলায় ইনোভেটিভ আইসিটি সলিউশন উপস্থাপন, প্রচার-প্রচারণা এবং সোশ্যাল ইমপ্যাক্ট তৈরির কৃতিত্বে এ স্বীকৃতি দেয়া হয়।

১৭ নভেম্বর টেলিযোগাযোগ প্রতিমন্ত্রী তারানা হালিমের হাতে এ পুরস্কার তুলে দেন আইটিইউর মহাসচিব হাউলিন ঝাউ।

ITU-PM.Techshohor

আন্তর্জাতিক টেলিকমিউনিকেশন ইউনিয়ন আয়োজিত ওই মেলায় পৃথিবীর সম্ভাবনাময় উদ্ভাবনগুলোকে পুরস্কৃত করা হয়।
এতে রিকগনিশন অব এক্সিলেন্স অ্যাওয়ার্ডটি পেয়েছে বাংলাদেশ। ১২ ডিসেম্বর অ্যাওয়ার্ড আনুষ্ঠানিকভাবে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে তুলে দেন প্রতিমন্ত্রী তারানা হালিম।

ডাব্লিউএসআইএস পুরস্কারের হ্যাট্রিক : টানা তৃতীয়বারের মতো প্রযুক্তি খাতের সম্মানজনক পুরস্কার ওয়ার্ল্ড সামিট অন ইনফরমেশন সোসাইটি (ডব্লিউএসআইএস) পুরস্কার পায় বাংলাদেশ। ২০১৬ সালে এ পুরস্কার পেয়ে তা হয় হ্যাট্রিক।

এতে বাংলাদেশ এনজিও নেটওয়ার্ক ফর রেডিও অ্যান্ড কমিউনিকেশনের নারী সাংবাদিকদের নিয়ে একটি উদ্যোগ বিজয়ী হয়। পাশাপাশি এটুআই প্রোগ্রামের ৪টি উদ্যোগ সন্মানজনক ডব্লিউএসআইএস পুরস্কার ২০১৬র চূড়ান্ত পর্বে চ্যাম্পিয়ন হয়।

এটুআইয়ের উদ্যোগগুলো হলো, সেবা পদ্ধতি সহজিকরণ-এসপিএস (ক্যাটাগরি-০৬), পরিবেশ অধিদপ্তরের অনলাইন ছাড়পত্র (ক্যাটাগরি-০৭), শিক্ষক বাতায়ন (ক্যাটাগরি-০৯) এবং কৃষকের জানালা (ক্যাটাগরি-১৩)।

৪ মে জাতিসংঘের আইসিটি সংক্রান্ত বিশেষায়িত সংস্থা আন্তর্জাতিক টেলিকমিউনিকেশন ইউনিয়নের (আইটিইউ) সদর দপ্তর জেনেভায় বাংলাদেশের প্রতিনিধিদের হাতে ডব্লিউএসআইএস চ্যাম্পিয়ন সন্মাননা তুলে দেওয়া হয়।

প্রথমবারের মতো মাইক্রোসফটের ফাউন্ডারস অ্যাওয়ার্ড অর্জন : সফটওয়্যার জায়ান্ট ও বিশ্বখ্যাত প্রযুক্তি নির্মাতা প্রতিষ্ঠান মাইক্রোসফটের সর্বোচ্চ সন্মানজনক পুরস্কার ফাউন্ডারস অ্যাওয়ার্ড পান মাইক্রোসফট বাংলাদেশের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সোনিয়া বশির কবির।

মাইক্রোসফট কর্মীদের জন্য ফাউন্ডারস অ্যাওয়ার্ড সবচেয়ে সন্মানজনক পুরস্কার। ২০১৬ সালে এক লাখের মধ্যে ১৫ জন এই ফাউন্ডারস অ্যাওয়ার্ড জিতেন।

সুযোগ্য নেতৃত্ব, উদ্ভাবন এবং ব্যবসায় উল্লেখযোগ্য অবদানের উপর ভিত্তি করে ফাউন্ডারস অ্যাওয়ার্ড দেয়া হয়। এতে এশিয়ার প্রশান্ত অঞ্চল থেকে সোনিয়া বশির কবিরকে নির্বাচিত করে মাইক্রোসফট।

সোনিয়া বশির কবির ফাউন্ডারস অ্যাওয়ার্ড পাওয়ার আগে বিশেষ অবদানের জন্য মাইক্রোসফটের ‘এক্সিলেন্স প্লাটিনাম ক্লাব’-এর সন্মানজনক পুরস্কারেও ভূষিত হন। এই পুরস্কার প্রদান করেন মাইক্রোসটের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা সত্য নাদেলা।

mbilthon-techshohor

এমবিলিয়ন্থ বিজয়ী বাংলাদেশের তিন উদ্যোগ : মোবাইল খাতের উদ্ভাবন নিয়ে দক্ষিণ এশিয়ার সবচেয়ে বড় পুরস্কার ‘এমবিলিয়ন্থ’ জয় করে বাংলাদেশের তিন উদ্যোগ।

তিনটি ভিন্ন ক্যাটাগরিতে এই উদ্যোগগুলোকে বিজয়ী হিসেবে নির্ধারণ করেছে এমবিলিয়ন্থ কর্তৃপক্ষ।

২০১৬ সালের প্রতিযোগিতায় জনবসতি এবং নগরায়ণ বিভাগে পুরস্কার পায় প্রধানমন্ত্রী কার্যালয়ের অ্যাকসেস টু ইনফরমেশন (এটুআই) উদ্যোগের ‘বাংলাদেশ ইমারজেন্সি সার্ভিসস’ প্রকল্প। বিজনেস অ্যান্ড কমার্স বিভাগে দেশে মোবাইল অ্যাপ্লিকেশন নিয়ে গড়ে ওঠা দেশীয় মার্কেটপ্লেস অ্যাপবাজার এবং সরকার ও নাগরিক সম্পৃক্ততা বিভাগে ভ্যাট চেকার অ্যাপ্লিকেশন যা সরকারের কোষাগারে জনগণের দেওয়া ভ্যাট জমা পড়ছে কিনা তা জানার মোবাইল অ্যাপ এই পুরস্কার পায়।

*

*

আরও পড়ুন