বায়োমেট্রিক নিয়ে বছরজুড়েই সরগরম

saltamami-sim-techshohor

জামান আশরাফ, টেক শহর কনন্টেন্ট কাউন্সিলর : পেছন ফিরে তাকালে দেখা যাবে গত বছর এ সময়ে টেলিকম খাতে আলোচনার কেন্দ্রে ছিল আঙ্গুলের ছাপ দিয়ে সিমের নিবন্ধনের বিষয়টি। শেষ হতে চলা বছরেও সন্দেহাতীতভাবে সবচেয়ে বেশি সমালোচনা ও দীর্ঘ সময় ধরে কার্যক্রম চলেছে বায়োমেট্রিক পদ্ধতি নিয়ে।

মোবাইল ফোন অপারেটরগুলোও চাপের মধ্যে পড়ে সিম নিবন্ধনে নতুন এ পদ্ধতি চালুর কারণে। কার্যকর সিমের সংখ্যা কমে যায় ব্যাপক হারে। এক বছরেও তা কাটিয়ে উঠতে পারেনি টেলিকম খাত বলে মনে করেন সংশ্লিষ্টরা।

আনুষ্ঠানিকভাবে ২০১৫ সালের ১৬ ডিসেম্বর আঙ্গুলের ছাপ পদ্ধতিতে সিম নিবন্ধন শুরু হওয়ার কথা থাকলেও অপারেটরগুলো প্রস্তুতি নিতে আরও কিছুটা সময় নেয় এবং জানুয়ারি থেকে পুরোদমে শুরু হয় এ কার্যক্রম।

Techshohor Youtube

saltamami-sim-techshohor

দেশজুড়ে এ নিয়ে পক্ষে বিপক্ষে বিতর্কের মধ্যে এক পর্যায়ে আদালতেও গড়ায় বিষয়টি। শেষ পর্যন্ত সরকারের সিদ্ধান্তই টিকে থাকে।

মূলত গ্রাহকদের পরিচয় নিশ্চিত করে অপরাধ কমিয়ে আনার লক্ষ্যে জাতীয় পরিচয়পত্রের সঙ্গে তথ্য ও আঙ্গুলের ছাপ মিলিয়ে সিম নিবন্ধনের এ পদ্ধতি চালু করা হয়। এক দফা সময় বাড়িয়ে পুরনো সিম নিবন্ধনের কার্যক্রম শেষ হয় ৩১ মে।

নির্ধারিত ওই সময়ে নতুন-পুরাতন মিলিয়ে ১১ কোটি ৬৩ লাখ সিম নিবন্ধন করে ছয়টি মোবাইল ফোন অপারেটর।

এতে বড় রকমের ধাক্কা খায় গোটা টেলিকম খাত। নিবন্ধন শুরুর সময় অপারেটরগুলোর কার্যকর সিমের সংখ্যা ছিল ১৩ কোটি ৩৭ লাখ। এ পদ্ধতি চালুর ফলে তা প্রায় দুই কোটি কমে যায়।

বছরের বাকি সময়েও তা পুষিয়ে নিতে পারেনি অপারেটরগুলো। বছরের এক মাস বাকি থাকতে কার্যকর সিমের পরিমান পৌঁছেছে ১১ কোটি ৯১ লাখে।

বায়োমেট্টিক নিবন্ধনের সবচেয়ে বড় ধাক্কাটি লেগেছিল রবিতে। ওই সময় ৫০ লাখ ৫৪ হাজার কার্যকর সিম কমে যায়।

বিটিআরসির হিসাব বলছে, নিবন্ধন প্রক্রিয়া শুরুর সময় এ অপারেটরের কার্যকর সংযোগ ছিল দুই কোটি ৮৩ লাখ ১৭ হাজার। কার্যক্রম শেষ হতেই গ্রাহক কমে ১৭ দশমিক ৮৫ শতাংশ।

সংযোগ কমার তালিকায় দ্বিতীয় স্থানে থাকা বাংলালিংক এ সময়ে ৩৮ লাখ ৮৮ হাজার সংযোগ কমে, যা তাদের মোট সংযোগের ১১ দশমিক ৮৩ শতাংশ। নিবন্ধন প্রক্রিয়া শেষে কার্যকর সংযোগ ছিল দুই কোটি ৮৯ লাখ।

মোট সংখ্যা বিবেচনা করলে গ্রামীণফোনের ওপর ধাক্কাটা একটু কমই লেগেছে। গ্রাহক বিচারে শীর্ষ এ অপারেটর এ সময়ে ২১ লাখ ৭২ হাজার গ্রাহক হারিয়েছে, যা মোট গ্রাহকের ৩ দশমিক ৮৩ শতাংশ।

নিবন্ধন প্রক্রিয়ার শুরুতে এ অপারেটরের সংযোগ ছিল পাঁচ কোটি ৬৬ লাখ ৬৭ হাজার। পরে তা নেমে আসে পাঁচ কোটি ৪৫ লাখে।

রবি’র সঙ্গে সম্প্রতি একীভূত হওয়া এয়ারটেল এ সময় হারিয়েছে ২৭ লাখ ৬৭ হাজার সংযোগ, যা তাদের মোট সংযোগের ২৫ দশমিক ৮৪ শতাংশ। এক কোটি সাত লাখ থেকে এক ধাক্কায় অপারেটরটির সংযোগ নেমে যায় ৭৯ লাখ ৪৩ হাজারে।

রাষ্ট্রায়ত্ত কোম্পানি টেলিটক হারায় ১২ লাখ ১৮ হাজার সংযোগ। এতে তাদের মোট গ্রাহক কমেছে ২৯ দশমিক ৪০ শতাংশ। নিবন্ধন প্রক্রিয়া শেষে অপারেটরটির হাতে থাকে ২৯ লাখ ২৫ হাজার সংযোগ।

সিটিসেল নিবন্ধন প্রক্রিয়ার শুরুতে ১০ লাখ সাত হাজার সংযোগ দেখালেও পরে তা এক লাখ ৪২ হাজারে নেমে আসে।

নানান সমালোচনার পরও টেলিযোগাযোগ প্রতিমন্ত্রী তারানা হালিম বায়োমেট্টিক পদ্ধতি চালুকে দেখছেন তার এক বছরের দায়িত্বকালের সাফল্য হিসেবে।

প্রতিমন্তী বলেন, কিছুটা দুর্বলতা থাকলেও সব কিছু মিলিয়ে এ পদ্ধতিতে নিবন্ধনে বিশ্বে উদাহরণ হিসেবে নিজেদেরকে প্রতিষ্ঠিত করতে পেরেছে বাংলাদেশ।

ইতিমধ্যে থাইল্যান্ড বাংলাদেশের সিম নিবন্ধনের এ প্রক্রিয়া নিজেরাও গ্রহণ করেছে। এর আগে মাত্র দুটি দেশ এ পদ্ধতিতে সিম নিবন্ধন করে।

তারানার দাবি, এর আগে টেলিকম প্রযুক্তি ব্যবহার করে যেসব অপরাধ হতো বায়োমেট্টিক নিবন্ধনের পর সেগুলো অনেকাংশে কমেছে।

তিনি অবশ্য স্বীকার করছেন, এখনো শূন্য দশমিক পাঁচ শতাংশ সমস্যা নিবন্ধিত সিমের ক্ষেত্রে রয়ে গেছে, যা পর্যায়ক্রমে নিয়মের মধ্যে আনতে হবে।

*

*

আরও পড়ুন