এলটিই বিস্তারে ব্রডব্যান্ড নীতিমালা চায় অপারেটররা

LTE-Techshohor
Evaly in News page (Banner-2)

টেক শহর কনটেন্ট কাউন্সিলর : উচ্চগতির ইন্টারনেট সেবা ফোরজি বা এলটিই বিস্তারে দেশে ব্রডব্যান্ড নিয়ে নীতিমালা করার কথা বলেন বিভিন্ন অপারেটরের প্রতিনিধিরা। একটি মাস্টারপ্ল্যানের মাধ্যমে  সুষ্ঠু ব্রডব্যান্ড নীতিমালা করা গেলে দেশে খুব দ্রুত ফোরজি বা এলটিই নেটওয়ার্কের বিস্তার ঘটিয়ে স্বল্প খরচে সেবাটি দেওয়া সম্ভব হবে।

রোববার রাজধানীর প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁও হোটেলে আয়োজিত দিনব্যাপী ‘বাংলাদেশ এলটিই সামিট ২০১৬’ আয়োজনে এমন কথা বলেন অপারেটরদের প্রতিনিধিরা।

মূলত দ্রুত গতির নেটওয়ার্ক বা ফোরজি নিয়ে কাজ করার আগে তার নানান বিষয় তুলে ধরতে এমন আয়োজন করেছে বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন এবং মোবাইল অপারেটরদের সংগঠন অ্যাসোসিয়েশন অব মোবাইল টেলিকমিউনিকেশনস অপারেটরস অব বাংলাদেশ (অ্যামটব)।

LTE-Techshohor
দিনব্যাপী সম্মেলনে উদ্বোধনী আয়োজন শেষে দুটি প্যানেল আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। এছাড়াও তিনটি প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা একটি করে কিনোট পেপার উপস্থাপন করেন।

ইনভেস্টমেন্ট, পলিসি অ্যান্ড রেগুলেটরি ফ্রেমওয়ার্ক টু রিয়ালাইজ মোবাইল ব্রডব্যান্ড ইন অ্যাচিভিং ডিজিটাল বাংলাদেশ শিরোনামের প্যানেল আলোচনায় অংশ নিয়ে গ্রামীণফোনর নতুন প্রধান নির্বাহী পিটার-বি ফারবার্গ বলেন, তারা দেশে এরটিই নেটওয়ার্কের বিস্তারে দ্রুতই কাজ করতে চান। তবে এর জন্য দেশে ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেট নিয়ে একটি মাস্টারপ্ল্যান প্রণয়ন করে একটি নীতিমালার আওতায় আনতে বলেন।

অ্যামটব সাধারণ সম্পাদক টিআইএম নূরুল কবিরের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বাংলালিংকের চিফ কর্পোরেট অ্যাফেয়ার্স অফিসার এবং ভারপ্রাপ্ত প্রধান নির্বাহী তাইমুর রহমান বলেন, এখন ভয়েচ কলের ব্যবহার কমে গেছে অনেক। তাদের হিসাবে মাত্র ১৪ শতাংশ ভয়েচ কর হয়। অন্যদিকে ৮৪ শতাংশ এখন ডাটা ব্যবহার করেন। সেদিক দিয়ে এলটিই নেটওয়ার্ক খুবই জরুরী।

এছাড়াও তিনি নেট নিউট্রালিটিকে অবশ্যই গুরুত্ব দেবে এবং সেটি সবার ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য হতে হবে বলে জানান।

রবি আজিয়াটা লিমিটেডের এমডি ও প্রধান নির্বাহী মাহাতাব উদ্দিন আহমেদ বলেন, এমন একটি নেটওয়ার্ক বিস্তৃতির জন্য বিনিয়োগ অবশ্যই একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। তবে এটাও মাথায় রাখতে হবে আমরা অপারেটর হিসেবে কী করতে যাচ্ছি। অবশ্যই বেশকিছু বিষয়ে নীতিমালার দরকার আছে। সেগুলো রেগুলেটর হিসেবে বিটিআরসিকে ভেবে দেখতে হবে।

এছাড়াও আলোচনায় বিভিন্ন বিষয়ের অবকাঠামো শেয়ারের কথা বলেন অপারেটরদের প্রতিনিধিরা।

বিটিআরসির ডিজি ব্রি. জেনা. এমদাদ উল বারী বলেন, তারা অপারেটরদের বিষয়গুলো ভেবে দেখবেন। তবে তিনিও অপারেটরদের স্বল্পমূল্যে এলটিই সেবা যেন জনগণ পান সেদিকে নজর রাখাতে বলেন।

তাই কিভাবে সবাই মিলে ভালো একটি ব্যবস্থায় এলটিই সেবা জনগণের দোরে পৌঁছে দেওয়া যায় তার জন্য সম্মিলিতভাবে কাজ করার উপর গুরুত্বারোপ করেন।

আলোচনায় আরও উপস্থিত ছিলেন টেলিটকের হেড অব স্ট্র্যাটেজি তারজিবুল ইসলাম, ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগের যুগ্ম সচিব হাসানুল মোহাম্মাদ খান।

অ্যামটব মহাসচিব টিআইএম নুরুল কবির জানান, ডিজিটাল বাংলাদেশের ভিশন বাস্তবায়ন করতে হলে দ্রুতগতির ইন্টারনেট সেবার বিকল্প নেই। কাজেই থ্রি জি প্রযুক্তির পরবর্তী ধাপ লং টার্ম ইভোল্যুশন বা এলটিই প্রযুক্তিতে যাওয়ার জন্য সুপারিশ তুলে ধরবে এই সামিট।

পরে আরেকটি প্যানেল আলোচনার মধ্য দিয়ে বাংলাদেশ এলটিই সামিট ২০১৬ শেষ হয়।

ইমরান হোসেন মিলন

*

*

আরও পড়ুন