ডেটা নিয়েই বেশি তোপে মোবাইল অপারেটররা

BTRC_HEARING_TECHSHOHOR
Evaly in News page (Banner-2)

টেক শহর কনটেন্ট কাউন্সিলর : গ্রাহকদের অভিযোগ বাণে বিদ্ধ হয়েছে মোবাইল অপারেটররা। অনেকটা নিজেদের কথা বলার, অভিযোগ জানানোর স্বাধীনতা পেয়ে অপারেটরদের একহাত নিয়েছেন। নিজেদের মধ্যে জমে থাকা অপারেটরদের বিরুদ্ধে রাগ ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন মঙ্গলবার।

নিয়ন্ত্রণ সংস্থা বিটিআরসির আয়োজনে প্রথমবারের মতো গ্রাহকরা তাদের অভিযোগ সরাসরি বলার সুযোগ পেয়েছেন। আর সেখানে অপারেটরদের বিরুদ্ধে করা অভিযোগের বেশিরভাগই ছিল ইন্টারনেট ডেটা নিয়ে। যেখানে বিভিন্ন বান্ডেলের দাম, সময়সীমা এবং স্পিড নিয়ে অভিযোগ করেন তারা।

এছাড়াও গ্রাহকরা শুনানিতে অভিযোগ করেছেন অপারেটরদের কলড্রপ, বিভিন্ন প্যাকেজ (ভয়েচ, ডাটা, বান্ডেল), এসবের মূল্য, প্যাকেজে দেওয়া সময়, এসএমএস সম্পর্কিত সেবার বিড়ম্বনা, মোবাইল সিম সম্পর্কিত অভিযোগ, নেটওয়ার্ক বিড়ম্বনা, বায়োমেট্রিক নিবন্ধন, মোবাইল ফোনে হুমকি, সাইবার অপরাধ, মোবাইল ফোন অপারেটরদের কলসেন্টার সম্পর্কিত অভিযোগসহ বিভিন্ন অভিযোগ করেন।

এছাড়াও গণশুনানিতে অংশ নিয়ে অনেকেই অপারেটরদের সেবার বিষয়ে বেশকিছু সুপারিশও করেন। যেগুলো ভেবে দেখলে এবং নিয়ন্ত্রণ সংস্থা যদি বাস্তবায়ন করতে পারে তাহলে গ্রাহকরা ভালো অভিজ্ঞতা অপারেটরদের কাছ থেকে পেতে পারেন বলেও মতামত দেন।

BTRC_HEARING_TECHSHOHOR

অভিযোগে ডাটা ব্যবহারের কোনো নির্দিষ্ট সময়সীমা বেঁধে না দেওয়া, সর্বনিম্ন ৫০০ মেগাবাইট ডাটার অফার দেওয়া, সময় বেঁধে দিলেও অব্যবহৃত বা অবশিষ্ট ডাটা পরবর্তী প্যাকেজে যুক্ত করার বিষয়ে উদ্যোগ নিতে বিটিআরসিকে আহ্বান করেন গ্রাহকরা।

এছাড়াও রাষ্ট্রায়াত্ত মোবাইল অপারেটর টেলিটকের নেটওয়ার্ক ব্যবস্থা আরও মজবুত করে অন্যান্য অপারেটরের চেয়ে বেশি সুযোগ সুবিধা দিয়ে গ্রাহকবান্ধব করার প্রতি নজর দিতে বিটিআরসির দৃষ্টি আহ্বান করেন অনেক গ্রাহক।

বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী মো. রুবেল বলেন, কম টাকায় বেশি ডাটা ব্যবহার করতে পারলে অবশ্যই শিক্ষার্থী হিসেবে আমার সাশ্রয় হয়। কিন্তু দেখা যায় যেসব অফার দেয় অপারটরগুলো সেখানে সাত দিন মেয়াদের মধ্যে ওই ডাটা ব্যবহার করতে না পারলে তা আর পরের প্যাকেজের সঙ্গে যুক্ত হয় না। এমন ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য অনুরোধ করেন তিনি।

জাহিদুল ইসলাম নামের একজন গ্রাহক অভিযোগ করে বলেন, তিনি একটি অপারেটরের ইন্টারনেট ডাটা কেনেন দুই জিবি। কিন্তু কয়েক ঘন্টার মধ্যেই তাকে একটি এসএমএস জানানো হয় তার ডাটা শেষ হয়ে গেছে এবং তিনি পি১ রেটে ইন্টারনেট ব্যবহার করছেন। দেশের অগ্রগুতর সঙ্গে অনেক কিছু আগালেও ইন্টারনেট ডাটার রেট এখনো নির্দিষ্ট করে দেওয়া হয়নি। একই সঙ্গে তিনি রেট বেঁধে দিয়ে সর্বনিম্ন ৫০০ মেগাবাইটের নিচে কোনো অপারেটর যেনো ইন্টারেনেটে অফার দিতে না পারেন সেজন্য ব্যবস্থা নিতে বিটিআরসিকে আহ্বান জানান।

বাংলাদেশ মুঠোফোন গ্রাহক অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মহিউদ্দিন আহমেদ বলেন, অপারেটররা তাদের গ্রাহকদের ইনস্যুরেন্স সুবিধা দেওয়ার কথা বলেছিল। কিন্তু দেশে এমন অনেক ঘটনা রয়েছে যেখানে অপারেটরদের সেবা ব্যবহার অবস্থায় দুর্ঘটনার শিকার হয়েছেন অনেক গ্রাহক। কিন্তু অপারেটররা তার বাস্তবায়ন করেনি। এ সম্পর্কে বিটিআরসি কোনো ব্যবস্থা নেবে কিনা জানতে চান।

রফিকুল ইসলাম নামের একজন গ্রাহক নিয়ন্ত্রণ সংস্থার কাছে ক্ষতিপূরণ দাবি করেন। তিনি বলেন, তিনি সিটিসেলের সংযোগ ব্যবহার করতেন। কিন্তু হঠাৎ করে তা বন্ধ ঘোষণা করায় তাকে অনেক ক্ষতির সম্মুখীন হতে হয়েছে। এখন সেই ক্ষতির হিসাব টাকার অঙ্কে করে সেটা হয় অপারেটরকে, না হয় নিয়ন্ত্রণ সংস্থার কাছে দাবি করেন তিনি।

BTRC_PUBLIC_HEARING_TECHSHOHOR

রফিকুল ইসলাম বলেন, অপারেটররা শুধু যে গ্রাহকদের কাছে বেশি চার্জ করে টাকা আদায় করছে তা নয়। তারা দেশের সংস্কৃতির সঙ্গে বেমানান এমন কিছু উদ্ভট বিজ্ঞাপনও দিচ্ছে বলে অভিযোগ করেন। আর সেগুলো সম্পর্কে বিটিআরসিকে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য অনুরোধ করেন।

গওহর জামিল হোসেন নামের একজন গ্রাহক অভিযোগ করেন অপারেটর বাংলালিংকের বিরুদ্ধে। তিনি বলেন নির্দিষ্ট পরিমাণ রিচার্জে একটি অফার পাওয়ার কথা তার। রিচার্জের পরেই সেই অফার চালু হলে প্রতি সেকেন্ড পালস হিসেবে অফারটি ব্যবহার শুরুও করেন। কিন্তু তার কয়েক মিনিটের মধ্যেই আরেকটি এসএমএসে জানানো হয় তিনি ১০ সেকেন্ড পালসে ভিন্ন আরেকটি রেটে কথা বলছেন। যার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার অনুরোধ করেন তিনি।

বিলকিস এরানি নামের একজন গ্রাহক ও সংবাদকর্মী তার পোস্টপেইড সিমে ইন্টারনেট ব্যবহারের জন্য প্রতি মেগাবাইটে ১৮ টাকা খরচ হয়েছে বলে অভিযোগ করেন।

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আসা শিক্ষার্থী উম্মে কুলসুম হ্যাপি অভিযোগ করেন, বিশ্ববিদ্যালয় এলাকাতে অপারেটরদের নেটওয়ার্ক এতো খারাপ যে তিনি ঘরে থেকে ঠিকমতো কথাও বলতে পারেন না। তাই সেসব এলাকায় নেটওয়ার্ক জোরদারের জন্য অপারেটরদের তাগাদা দিতে বিটিআরসিকে অনুরোধ জানান।

হাজার ৫০ জনের মতো নিবন্ধন করেন গণশুনানিতে অংশ নিতে। তবে সংস্থা সেখান থেকে কেটে-ছেঁটে ৪২০ জন গ্রাহককে গণশুনাতিতে অংশ নিতে আমন্ত্রণ জানায়।

কর্ম দিবস হওয়ায় উপস্থিতির হারও ছিল অনেক কম। তার পরও সর্বসাকুল্যে আড়াইশো জনের মতো উপস্থিত হয়েছেন নিজেদের অভিযোগ জানাতে। সেখান থেকে সবাই কথা বলার সুযোগ না পেলেও মোট ৩২ জন সুযোগ পান নিজেদের অভিযোগ জানানোর।

তবে গণশুনানিতে কোনো অপারেটরের প্রতিনিধি ছিলেন না।

শুনানি শেষে বিটিআরসির কর্মকর্তারা গ্রহাকদের অভিযোগের সঙ্গে একমত হয়ে সেগুলো অপারেটরদের কাছে পৌঁছানো হবে বলে জানান। এছাড়াও সেগুলো সম্পর্কে ব্যবস্থা নিতে বিটিআরসি কাজও করবে।

ইমরান হোসেন মিলন

*

*

আরও পড়ুন