মাইক্রোসফট অফিসের অলিম্পিক!

Microsoft-championship-Techshohor

টেক শহর কনটেন্ট কাউন্সিলর : সতেরো বছর বয়স্ক রায়ান কাটাফু। সারা বছর ধরে প্রশিক্ষণ নিয়েছেন শুধু এই একটি সময়ের জন্য। সেই সময়টা যখন তিনি পুরস্কার হাতে সবার সামনে দাঁড়িয়ে বিভিন্ন অঙ্গভঙ্গিতে ছবি তুলতে পারেন।

তারই প্রতিদান রায়ান পেয়ছেন চলতি সপ্তাহে যখন ভিড়ের মধ্যে থেকে হর্ষধ্বনি, চিৎকার ভেসে আসছিলো এবং তার গলায় একটি সোনার মেডেল আর হাতে প্রাইজমানির প্রতীকী চেক ও ট্রফি নিয়ে ক্যামেরার সামনে দাঁড়িয়েছিলেন।

কারণ তিনিই এখন বিশ্বে মাইক্রোসফট পাওয়ার পয়েন্ট চ্যাম্পিয়ন।

Microsoft-championship-Techshohor
সেই চ্যাম্পিয়ন হতে রায়ানকেও কাঠখড় পোড়াতে হয়েছে বিস্তর। সম্প্রতি উত্তর ক্যালিফোর্নিয়ায় তাদের বাড়িতে প্রতিদিন দুই ঘণ্টা করে চর্চা করেছেন রায়ান। তিনি ফাইনালে যাওয়ার জন্য ৩০০টি ট্রায়াল রান করেন। যেখানে নিজের রাজ্য থেকে অন্যদের চেয়ে স্কোরে এগিয়েও ছিলেন বিস্তর।

তবে তার আগ পর্যন্ত রায়ান কোনোভাবেই বিশ্বাস করতে পারছিলেন না তিনি চ্যাম্পিয়ন হবেন। তবে মনের ভিতর চ্যাম্পিয়ন হওয়ার যে আশা ছিলো তার প্রকাশ করেছিলেন ক্ষীণভাবে।

গ্রীষ্মকালীন অলিম্পিকের ভেন্যু রিও’র হাব্বাব থেকে কয়েক শত মাইল দূরে ফ্লোরিডা হিলটনে বসেছিল মাইক্রোসফটের আয়োজনে এই চ্যাম্পিয়নশিপ। যেখানে মাইক্রোসফট অফিস, পাওয়ার পয়েন্ট এবং এক্সেল এর উপর বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন ঘোষণা করা হয়।

যার নাম ‘বার্ষিক মাইক্রোসফট অফিস স্পেশালিষ্ট বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন’। যেখানে প্রতিযোগীরা লড়তে থাকে সোনা, রূপা ও ব্রোঞ্জ মেডেলের জন্য। সঙ্গে দেওয়া হয় ট্রফি এবং সাড়ে সাত হাজার ডলার করে পুরস্কার অর্থ।

প্রতিযোগিতায় প্রায় ৫০টি দেশ থেকে অংশ নেয় ১৩ থেকে ২২ বছর বয়স্ক তরুণরা।

অনেকে প্রতিযোগিতাটিকে অলিম্পিক প্রতিযোগিতার খুব কাছাকাছি হিসেবে দেখেন। তবে এখনে কোনো জিমন্যাস্ট বা অ্যাথলেটিক্স অংশ নেন না। থাকে না কোনো বিচারক, গার্ড কিংবা নজরদারি। অনেকটা পিনপতন নীরবতায় সবাই ব্যস্ত কম্পিউটার নিয়ে।

তবে চূড়ান্ত পর্বের প্রতিযোগিতায় ৫০ মিনিট সময় পায় অংশগ্রহণকারীরা। সে সময়ের মধ্যে তাদের নির্দিষ্ট কাজ করে ফেলতে হয়।

রায়ান বলছিলেন, তিনি কখনো ভাবেননি চ্যাম্পিয়ন হবেন। তবে এখানে যেহেতু নিজ নিজ কম্পিউটারই বিচারক তাই প্রতিযোগিতা শেষে একসময় দেখলেন তার নামই পর্দায় শোভা পাচ্ছে এবং তাকে মাইক্রোসফট পাওয়ার পয়েন্ট বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন ঘোষণা করা হয়েছে।

অবশ্য প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করতে এখন অনেকেই খুবই সিরিয়াস। অনেকেই সারা বছর প্রশিক্ষণ নেন। এ বছর মোট ৮ লাখ আবেদন পড়েছে অংশগ্রহণ করার জন্য। তবে বাছাই শেষে মাত্র ১২২ জন চূড়ান্ত প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়ার সুযোগ পেয়েছে।

সিএনএন অবলম্বনে ইমরান হোসেন মিলন

*

*

আরও পড়ুন