Techno Header Top and Before feature image

শুদ্ধভাবে বাংলা বলতে পারলেই মিলবে চাকরি

বিপিও খাতে দেশের সবচেয় বড় আয়োজন বিপিও সামিট-২০১৬ শুরু হচ্ছে বৃহস্পতিবার। সামিটের লক্ষ্য, খাতটির  অগ্রগতি, সমস্যা-সম্ভাবনার কথা বলেছেন সামিটের  অন্যতম আয়োজক বাক্য’র সাধারণ সম্পাদক তৌহিদ হোসেন। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন আল-আমীন দেওয়ান।

বিপিও বা বিজনেস প্রসেস আউটসোর্সিং। শিল্প হিসেবে বিশ্বব্যাপী যথেষ্ট সম্ভবনার। আগামী দিনের টেকসই শিল্পগুলোর মধ্যে বলতে গেলে উপরের দিকেই অবস্থান থাকবে বিপিও’র।

বাংলাদেশে  বিপিও ব্যবসা দ্রুত বাড়ছে। বর্তমানে দেশের বাজার মূল্য ১৮০ মিলিয়ন ডলার। খাতটিতে ভারত, শ্রীলংকা ও ফিলিপাইন বিপিও সেক্টরে সবচেয়ে ভালো করেছে।

বিপিও সেক্টরে সারা বিশ্বের ৬০০ বিলিয়ন ডলারের মধ্যে ভারত ১০০ বিলিয়ন, ফিলিপাইন ১৬ বিলিয়ন এবং শ্রীলংকা ২ বিলিয়ন ডলার আয় করছে।

বাংলাদেশ ২০২১ সালের মধ্যে এ খাতে ১ বিলিয়ন ডলার আয়ের লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে।

এই বিপিও খাতটি নিয়ে দেশে দ্বিতীয়বারের মতো আয়োজন করা হয়েছে আন্তর্জাতিক সামিট।  তথ্যপ্রযুক্তি বিভাগ, তথ্যপ্রযুক্তি অধিদপ্তর এবং বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব কল সেন্টার অ্যান্ড আউটসোর্সিং (বাক্য)  সম্মিলিতভাবে এই সামিটের আয়োজন করেছে।  ঢাকার প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁও হোটেলে ২৮ জুলাই হতে দুই দিনের এই ‘বিপিও সামিট বাংলাদেশ-২০১৬ ।

প্রথম সামিট-২০১৫ হতে দ্বিতীয় সামিট-২০১৬ পর্যন্ত সময়ে খাতটির অগ্রগতি ও সমস্যা নিয়ে টেকশহরের সাথে খোলামেলা আলোচনা করেছেন এই খাতের অন্যতম উদ্যোক্তা, টেলিকম খাত বিশেষজ্ঞ ও বাক্য’র সাধারণ সম্পাদক তৌহিদ হোসেন।

B-1

টেকশহর : প্রথম বিপিও সম্মেলনের অর্জন এবং দ্বিতীয় সম্মেলনের সাড়া কেমন?

তৌহিদ হোসেন : ২০১৫ সালের সম্মেলনে বিশ্বের ১১টি দেশের প্রতিনিধি অংশ নিয়েছিল। সম্মেলন চলাকালীন সময়ে ৫৬টি দেশ থেকে মানুষ বিভিন্ন তথ্য জানার চেষ্টা করেছেন। ১৪ টি বিশ্ববিদ্যায়ে বিপিও এর উপর সেমিনার করা হয়েছিল। এর ফলে আমরা শিক্ষার্থীদের বুঝাতে সক্ষম হয়েছি বিপিও কি, এখানে কাজের সম্ভাবনা কতটুকু। অনেকেরই ধারণা ছিল বিপিও মানেই কল সেন্টার। এই ভুল ধারণাটি গত বছরের প্রচার-প্রচারনার ফলে অনেকটা দূর হয়েছে।

প্রথম বিপিও এর পরে আমরা বেশ কয়েকটি দেশে গিয়েছি। এসব দেশ থেকে আমরা ভালো সাড়া পাচ্ছি। গতবার আমরা সবকিছুই করেছি ঢাকা কেন্দ্রিক। ঢাকার বাইরে শুধু সিলেটে ক্যাম্পেইন করা হয়েছিল। আর এবার দেশ জুড়েই ক্যাম্পেইন চলছে। এবার দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ৩০০ শিক্ষার্থীকে আমাদের তত্ত্বাবধানে বিপিও সামিটে অংশগ্রহণ করার সুযোগ দেয়া হচ্ছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের দেওয়া লিস্ট অনুসারে এসব শিক্ষার্থী ঢাকায় আসার সুযোগ পাচ্ছে। শিক্ষার্থীদের যাওয়া-আসার খরচ আমরা বহন করবো। তারা বিভিন্ন সেমিনারে অংশগ্রহণ করে বিপিও সম্পর্কে সম্যক ধারণা পাবে।

টেকশহর : খাতটিতেেএকজন কর্মীর ভালো করার উপায় কি?

তৌহিদ হোসেন : আমরা এখন কাজ করতে গিয়ে কিছু সমস্যায় পড়ছি। ৫ বছর আগে আমাদের সাথে যারা কাজ শুরু করেছিল তারা কিন্ত প্রমিত বাংলায় কথা বলতে পারতো। এখন অধিকাংশ শিক্ষার্থীর মধ্যেই আঞ্চলিকতার টান লক্ষ্য করা যাচ্ছে। অনেকে ৫ মিনিট শুধু বাংলায় কথাই বলতে পারছে না। এর ফলে আমরা যাদের সাপোর্ট দিচ্ছি তারা নানা সমস্যায় পড়ছেন। বিপিওতে কাজ করার জন্য শুদ্ধ ভাবে কথা বলার অভ্যাস থাকাটা খুব জরুরি। ইংরেজিতে দক্ষ হলে খুবই ভালো। তবে ইংরেজিতে দক্ষ না হলে অন্তত বাংলায় ভালো দক্ষতা থাকতে হবে। পরিষ্কার করে স্পষ্টভাবে সহজে কোনো কিছু বোঝানোর দক্ষতা থাকলে খুবই ভালো করতে পারবে বিপিও সেক্টরে।

টেকশহর : তরুণদের নিয়ে বাক্য কি ভাবছে?

তৌহিদ হোসেন : আমাদের এবারের ক্যাম্পেইনের স্লোগান হলো তারুণ্যের শক্তিতে বিপিও। গতবার আমরা পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে কম গেলেও প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ে বেশি গেছি। এটা থেকে আমরা উপলব্ধি করতে পেরেছি প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ে আমরা সবাই যাই। আর সে ক্ষেত্রে কিছুটা অবহেলিত থাকে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়। আর এ কারণে আমাদের এবারের ফোকাস হলো পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়। এবার সারা দেশব্যাপী ১৮টি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে বিপিও সামিটের ক্যাম্পেইন চলেছে।

টেকশহর : বিপিওতে কাজ করার জন্য শিক্ষাগত যোগ্যতা কতটুকু প্রয়োজন?

তৌহিদ হোসেন : বিপিও এর অনেক প্রতিষ্ঠান আছে যেখানে সব বিষয়ে শিক্ষার্থীরাই কাজ করতে পারে। কল সেন্টারগুলোতে অধিকাংশ ক্ষেত্রেই কে কোন বিষয়ে পড়েছে সেটা মুখ্য নয়। এখানে আগ্রহ থাকলে যেকোনো বিষয়ের যে কেউ ভালো করতে পারে। তবে বিশেষায়িত কিছু কাজ এখনও হচ্ছে। এসব জায়গায় প্রয়োজনীয় ব্যাকগ্রাউন্ডের শিক্ষার্থী হলে ভালো। বিপিও এর কাজের পরিসর বড় হওয়ায় বর্তমানে প্রায় সব বিষয়ের শিক্ষার্থীদেরই কাজের সুযোগ আছে। এই সেক্টরে এক বছর কাজ করলেই আপনার যোগাযোগের দক্ষতা অনেক বেড়ে যাবে।

b-2

টেকশহর : বিপিও খাতে প্রতিবন্ধীদের ব্যাপক সুযোগের কথা বলা হয়েছে।  এটি নিয়ে কী ধরনের কাজ করছেন?

তৌহিদ হোসেন : প্রথম বিপিও সামিটের পরে আমরা প্রতিবন্ধীদের নিয়ে কাজ শুরু করেছি। বিপিও এর কাজের ক্ষেত্রে কাউকে চেনার কোনো সুযোগ নেই। এখানে কাজের দক্ষতা দেখাতে পারলেই হলো। কেউ যদি ডাটা এন্ট্রিতে ভালো করে তার পা না থাকলেও কোনো সমস্যা নেই। অ্যাসিড দগ্ধ অনেক নারী আছেন যারা অধিকাংশ প্রতিষ্ঠানেই চাকরিই করতে পারেন না। তাদের জন্য বিপিও কিন্তু সম্ভাবনার অন্যতম জায়গা।

টেকশহর : সরকারের এসআইপি প্রজেক্ট নিয়ে কাজ করেছে বাক্য। এই প্রকল্পের বর্তমান অবস্থা কী?

তৌহিদ হোসেন : বিপিওতে যারা কাজ করছে তাদের স্কিল ডেভেলপমেন্টের জন্য প্রতিটি প্রতিষ্ঠানই ট্রেনিংয়ের ব্যবস্থা করছে। ফলে আন্তজার্তিক বাজারের জন্যও যে কেউ নিজেকে প্রস্তুত করতে পারছে। সম্প্রতি আমরা অর্থ মন্ত্রণালয় হয়ে এসআইপি (স্কিল ইমপ্লয়মেন্ট প্রজেক্ট) প্রজেক্ট বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। এখানে যারা প্রশিক্ষণ নিচ্ছে তাদের প্রায় ৭০ শতাংশের চাকরি নিশ্চিত করা হচ্ছে। এডিবির অর্থায়নে পরিচালিত এই প্রজেক্টে ৫৭০০ মানুষকে বিপিও এর ট্রেনিংয়ের পরিকল্পনা রয়েছে।

টেকশহর : ভবিষ্যতে বড় পরিসরে কাজের জন্য খাতটিতে বাংলাদেশ কতটুকু প্রস্তুত?

তৌহিদ হোসেন : বড় পরিসরে কাজের জন্য আমাদের কোয়ালিটি একটা বড় ফ্যাক্টর। এজন্য এখন যারা বিপিওতে কাজ করছেন তাদের গ্রাহকদের সন্তুষ্টি অর্জন করতে হবে। না হলে নতুন কাজ সৃষ্টি হবে না। বিপিওতে উদ্যোক্তা হওয়ার সুযোগ অনেক বেশি। এখানে কাজ শিখে যে কেউ নিজের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে। আমার সাথে একসময় কাজ করতো এরকম অনেকেই এখন নিজেই বিপিও চালাচ্ছে।

*

*

আরও পড়ুন