স্বপ্নের স্যাটেলাইট তৈরির কাজ শুরু

bangobondhu-satelite-orbital slot-techshohor
Evaly in News page (Banner-2)

জামান আশরাফ, টেকশহর কনটেন্ট কাউন্সিলর : অবশেষে দীর্ঘ পথ পেরিয়ে বঙ্গবন্ধু-১ স্যাটেলাইটের বিভিন্ন অংশ তৈরির কাজ শুরু হয়েছে। বিভিন্ন দেশে এগুলাে তৈরির কাজ আগামী নভেম্বরের মধ্যে সম্পন্ন হবে। এরপর ফ্রান্সে পুরোমাত্রায় চলবে সংযোজনের প্রক্রিয়া।

আগামী বছরের নভেম্বরের বাংলাদেশের স্বপ্নের স্যাটেলাইট বাস্তব রূপ পাবে এবং পরের মাসে বিজয় দিবসে কয়েক টন ওজন নিয়ে তা ছুটে যাবে মহাকাশে।

এ দিকে বঙ্গবন্ধু-১ স্যাটেলাইট উৎক্ষেপনের জন্যে হংকং সাংহাই ব্যাংক থেকে ১৫ কোটি ৭০ লাখ ইউরো ঋণ নেওয়ার বিষয়টি চূড়ান্ত করেছে এ প্রকল্পের বাস্তবায়নকারী সংস্থা বিটিআরসি।

bangobondhu-satelite-orbital slot-techshohor

টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশনের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, চলতি বছরের নভেম্বর থেকে শুরু হবে সংযোজনের কাজ। আগামী বছরের নভেম্বরে গিয়ে, যা স্যাটেলাইটের পূর্ণ রূপ পাবে।

সংযোজনের কাজ করবে ফ্রান্সের স্যাটেলাইট কোম্পানি থ্যালাস অ্যালেনিয়া স্পেস। এ জন্য গত বছর নভেম্বরে কমিশনের সঙ্গে চুক্তি করে কোম্পানিটি। এ কাজের জন্য কোম্পানিটি পাবে ২৪ কোটি ৮০ লাখ ডলার।

২০১৭ সালের নভেম্বরে থ্যালাসের কাছ থেকে ফ্রান্সে স্যাটেলাইটটি বুঝে নেবে বিটিআরসি। পরে তা নিয়ে যাওয়া হবে যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডাতে। সেখানে একটি মার্কিন কোম্পানি তা মহাকাশে উৎক্ষেপন করবে।

সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলেন, চুক্তির পরপরই থ্যালাস প্রথমে স্যাটেলাইটটির ডিজাইনের কাজ করেছে। পরে ডিজাইন অনুযায়ী খুচরা যন্ত্রাংশ কিনতে বিভিন্ন কোম্পানির কাছে অর্ডার করা হয়।

এখন এসব যন্ত্রাংশ পর্যায়ক্রমে ফ্রান্সে এনে সংযোজনের কাজ শুরু করবে থ্যালাস, এমনটি জানিয়েছেন বিটিআরসির প্রকল্প সংশ্লিষ্ট এক কর্মকর্তা।

সব মিলে স্যাটেলাইটটি মহাকাশে ওড়াতে খরচ হবে আড়াই হাজার কোটি টাকার মতো। তবে ২০১৩ সালে ব্যয় হিসাব করা হয়েছিল দুই হাজার ৯৬৭ কোটি টাকা।

আগামী বছর ১৬ ডিসেম্বর মার্কিন কোম্পানি মহাকাশে স্যাটেলাইটটি উৎক্ষেপনের কাজ করবে।

দুর্যোগপ্রবণ বাংলাদেশে নিরবিচ্ছিন্ন টেলিযোগাযোগ সেবা দিতে ভূমিকা রাখবে এ কৃত্রিম উপগ্রহ। এটি চালু হলে বিদেশি স্যাটেলাইট ছাড়াই দেশের প্রত্যক্ত অঞ্চলে কম মূল্যে সম্প্রচার সেবা দেওয়া যাবে।

এ ছাড়া টেলিমেডিসিন, ই-লার্নিং, ই-গবেষণা, ভিডিও কনফারেন্সিংয়সহ তথ্যপ্রযুক্তির বিভিন্ন খাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে এটি।

প্রস্তাবিত স্যাটেলাইটে ৪০টি ট্রান্সপন্ডার ক্যাপাসিটির মধ্যে ২০টি বিক্রি করে বৈদেশিক মুদ্রা আয় করা যাবে, যার পুরো বিষয়টি স্যাটেলাইট কোম্পানি দেখবে।

অন্যদিকে বর্তমানে দেশে টিভি চ্যানেল, ইন্টারনেট সেবা দাতা প্রতিষ্ঠানসহ বিভিন্ন কাজে বিদেশি স্যাটেলাইট ব্যবহার করায় বছরে এক কোটি ৪০ লাখ ডলার ব্যয় হয়। বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট আকাশে উড়লে এ অর্থ সাশ্রয় হবে।

*

*

আরও পড়ুন