Header Top

পেপ্যালে ফ্রিল্যান্সিং বিশ্বে দাপুটে হবে বাংলাদেশ

ইমরান হোসেন মিলন, টেক শহর কনটেন্ট কাউন্সিলর : বিশ্বের জনপ্রিয় অনলাইন অর্থ আদান-প্রদান গেটওয়ে পেপ্যাল বাংলাদেশে চালুর বিষয়ে সম্প্রতি চুক্তি হয়েছে সোনালী ব্যাংকের সঙ্গে। তারপর থেকেই সব মহলে গুঞ্জন- কী হবে, কী পেতে যাচ্ছি, কী পরিবর্তন আসবে? ফ্রিল্যান্সিং-আউটসোর্সিং বা ই-কমার্স কিংবা অন্য ক্ষেত্রে কী হবে?

খাতসংশ্লিষ্টরা ও তথ্যপ্রযুক্তি বিশেষজ্ঞরা বলছেন, একটি দৃশ্যমান পরিবর্তন আসবে দেশের ফ্রিল্যাসিং ও আউটসোর্সিং খাতে। আর এ পরিবর্তন দেশের সামগ্রিক তথ্যপ্রযুক্তি খাতের উন্নয়নে প্রভাব ফেলবে।

বছরের পর বছর হতে ফ্রিল্যান্সার ও আউটসোর্সিং খাতের সংশ্লিষ্টরা পেপ্যালের দাবি জানিয়ে আসছিলেন। বিপরীতে পেপ্যালের বাংলাদেশে কার্যক্রম শুরু করা নিয়ে এতদিন শুধু আশ্বাস পেয়েছেন তারা। কিন্তু তথ্যপ্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী হিসেবে জুনাইদ আহমেদ পলক দায়িত্ব নেয়ার পর পেপ্যালকে অানতে নানাবিধ উদ্যোগ নিতে থাকেন তিনি। যেখানে বিষয়টি সরাসরি দেখভাল করেছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্যপ্রযুক্তি বিষয়ক উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয়। অবশেষে বাংলাদেশে পেপ্যালের কার্যক্রম শুরুর বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া গেছে।

বাংলাদেশ অ্যসোসিয়েশন অব সফটওয়্যার অ্যান্ড ইনফরমেশন সার্ভিসেস (বেসিস) এর সভাপতি মোস্তাফা জব্বার টেকশহরডটকমকে বলেন, দেশে অনলাইন পেমেন্ট গেটওয়ে পেপ্যাল নিয়ে আসা সরকারের একটি চমৎকার উদ্যোগ। পেপ্যাল আসলে অবশ্যই আমাদের দেশের প্রযুক্তির নানা ব্যবসা আরও সমৃদ্ধ হবে। আউটসোর্সিং আয় বাড়বে, ই-কমার্সের প্রসার হবে।

তবে পেপ্যাল দেশে কাজ শুরু করলে কোনো গণ্ডির মধ্যে আটকে না রাখার কথাও বলেন প্রবীণ এই তথ্যপ্রযুক্তিবিদ।

আরও পড়ুন: কার্যক্রম শুরু করবে পেপ্যাল, সোনালী ব্যাংকের সঙ্গে চুক্তি নিশ্চিত

paypal-techshohor (2)

পেপ্যাল বাংলাদেশে নিয়ে আসার চেষ্টায় যারা সামিল ছিলেন তাদের অন্যতম বেসিসের সদ্য বিদায়ী সভাপতি, ফেনক্স ভেঞ্চার ক্যাপিটালের জেনারেল পার্টনার এবং ভেঞ্চার ক্যাপিটাল অ্যান্ড প্রাইভেট ইকুইটি অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ এর প্রেসিডেন্ট শামীম আহসান।

তিনি টেকশহরডটকমকে বলেন, পেপ্যাল বাংলাদেশে কাজ শুরু করলে দেশের ই-কমার্সের একটা বৈশ্বিক রূপ দেওয়া সম্ভব হবে। আগে অনেক ক্লায়েন্ট ফ্রিল্যান্সারদের সঙ্গে ব্যবসা করতে চাইতো না পেমেন্ট অসুবিধার কারণে। সেই অসুবিধা কাটিয়ে দেশের প্রযুক্তি খাতের রপ্তানি আয় বাড়ানো সম্ভব হবে।

ফ্রিল্যান্সারদের একমাত্র দেশীয় মার্কেটপ্লেস বিল্যান্সারের প্রতিষ্ঠাতা শফিউল আলম বলেন, পেপ্যাল বাংলাদেশে আসলে অবশ্য কিছুটা সুবিধা পাবে ফ্রিল্যান্সাররা। কারণ দেখা যায় অনেক ক্লায়েন্ট আছে যারা পেপ্যালে ফ্রিল্যান্সারদের পেমেন্ট পরিশোধ করে থাকে।

তিনি বলেন, তবে পেপ্যালও আর দশটা পেমেন্ট গেটওয়ের মতোই। আরও ৫-৭ বছর আগে আসলে হয়তো এর গুরুত্ব আরও বেশি হতো। এখন অন্য গেটওয়েগুলোতেও লেনদেন বাড়ছে। তবে যেহেতু অনেক দেশে পেপ্যাল ব্যবহার করা হয়, সে হিসেবে দেশের ফ্রিল্যান্সাররা সুবিধাই পাবেন।

দেশের অন্যতম ই-কমার্স কোম্পানি বাগডুম ডটকমের প্রধান নির্বাহী সৈয়দা কামরুন নাহার বলেন, বিদেশ থেকে পণ্য কিনে তাদের প্রিয়জনদের কাছে পাঠান অনেকে। আগে পেমেন্টে দেখা যেত তারা যে গেটওয়ে ব্যবহার করছে তা আমরা রিসিভ করতে পারি না। একটা টেকনিক্যাল সমস্যা থাকতো। পেপ্যাল সেটার সমাধান করে বিদেশে দেশীয় ই-কমার্সের প্রসার ঘটাতে সহায়তা করবে। সরকার সেই সুযোগ নিশ্চয়ই রাখবে।

ই-কমার্স মার্কেটপ্লেস আজকের ডিল ডটকমের প্রধান নির্বাহী ফাহিম মাশরুর বলেন, পেপ্যাল নিয়ে অনেক কথা শোনা যাচ্ছে বিভিন্ন মাধ্যম থেকে। তবে এটা শুধু বিদেশ থেকে অর্থ আনা হবে, নাকি অন্যকিছু করা যাবে তা এখনো স্পষ্ট নয়। অনেকেই বলছেন ই-কমার্স বৈশ্বিক রূপ পাবে। কিন্তু তার জন্য সরকার এদেশে মার্চেন্ট অ্যাকাউন্ট অ্যাকসেপ্ট করবে কিনা সেটাও দেখতে হবে। যদি না করে তাহলে হয়তো শুধু ফ্রিল্যান্সিং আয়টা দেশে নিয়ে আসা যাবে।

রইচ আহমেদ নামের একজন ফ্রিল্যান্সার বলেন, আমি একটি ইউকে অ্যাকাউন্ট ব্যবহার করে আমার কাজের টাকা আনতাম। কিন্তু সেটাও বন্ধ করে দিয়েছে। তাই এখন টাকা আনতে অসুবিধা হচ্ছে। যদি দেশে পেপ্যাল আসে তবে ক্লায়েন্টদের সঙ্গে লেনদেন করে সুবিধা হবে। আগের চেয়ে আয়ও বাড়বে।

অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে কাজ করছেন আবুল কাশেম। প্রযুক্তিসেবাদাতা প্রতিষ্ঠান বিডিহায়ার ডটকমের এই প্রধান নির্বাহী টেকশহরডটকমকে বলেন, পেপ্যাল আসা নিয়ে নানা ধরনের মন্তব্য করছেন অনেকেই। তবে আমি দীর্ঘ নয় বছর ফ্রিল্যান্সিং, অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং নিয়ে কাজের অভিজ্ঞতা থেকে বলতে পারি এটা আমাদের ব্যবসার প্রসার ঘটাবে।

তিনি বলেন, আমেরিকাতে একটা মানুষ বসে অনলাইনে যেসব সুবিধা পায় তা বাংলাদেশ থেকেও পাওয়া সম্ভব ভালো অনলাইন পেমেন্ট গেটওয়ে থাকলে। এক কথায় আইটি সার্ভিস সেক্টরে অনেক পরিবর্তন আসবে।

ই-কমার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ই-ক্যাব) সভাপতি রাজীব আহমেদ টেকশহরডটকমকে বলেন, পেপ্যাল অবশ্যই ই-কমার্সের জন্য একটা ভালো দিকই আনবে। কারণ এখন ই-কমার্স লেনদেনের বেশিরভাগ হয় ক্যাশ অন ডেলিভারিতে। কিন্তু যখন পেপ্যাল আসবে তখন অনলাইনে পণ্য কিনে এর পারচেজ অনলাইনেই বেশি হবে।

তিনি বলেন, বাংলাদেশের ই-কমার্সকে বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে দিতে পেপ্যাল ভূমিকা রাখতে পারবে। তখন প্রবাসীসহ অন্যান্য দেশের লোকজনও বাংলাদেশের পণ্য কিনতে পারবে সহজেই।

নেয়ামত উল্লাহ মোহান কাজ করেন ই-কমার্স নিয়ে। তার প্রতিক্রিয়া এমন যে, দেশে পেপ্যাল আসার কথা শুনছি সেই কয়েক বছর থেকে। আগে আসুক। তবে আসলে ই-কমার্সের লেনদেন বাড়বে। কারণ তখন দেশের বাইরের অনেক ক্রেতা পাওয়া যাবে।

আরও পড়ুন: 

*

*

আরও পড়ুন