দেশে বাদ পড়েও নাসা প্রতিযোগিতার ফাইনালে মোবিলিটি ফর মার্স

Evaly in News page (Banner-2)

ইমরান হোসেন মিলন, টেক শহর কনটেন্ট কাউন্সিলর : হ্যাকাথন নিয়ে বিশ্বের সবচেয়ে বড় আয়োজন ‘নাসা স্পেস অ্যাপস চ্যালেঞ্জের‘ বাংলাদেশ পর্বের প্রতিযোগিতায় বাদ পড়ে ‘মোবিলিটি ফর মার্স’ প্রকল্পটি। তবে এতে দমে যাননি প্রকল্পটির উদ্ভাবক বনি ইউসুফ, নাজমুন নাহার এ্যানি ও মনিরুল হক। স্থানীয় পর্যায় ‘ঢাকা বাংলাদেশের’ অবস্থান বদলে প্রতিযোগিতার বৈশ্বিক প্লাটফর্ম ‘প্লানেট আর্থ’ ক্যাটাগরিতে লড়তে নেমে পড়েন তারা।

সেখানেই সারা বিশ্ব হতে চূড়ান্ত পর্বে জায়গা পাওয়া ৭৫টি প্রকল্পের মধ্যে তালিকার শীর্ষে উঠে যায় মোবিলিটি অব মার্স।

যুক্তরাষ্ট্রের মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসার এই প্রতিযোগিতার স্থানীয় আয়োজক বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব সফটওয়্যার অ্যান্ড ইনফরমেশন সার্ভিসেস (বেসিস)

স্থানীয় পর্যায়ে নির্বাচিত না হয়েও নাসায় সরাসরি আবেদন করে শীর্ষে জায়গা পাওয়ায় দেশে নাসা স্পেস অ্যাপস চ্যালেঞ্জের বিচার প্রক্রিয়া নিয়েই প্রশ্ন তুলেছেন প্রকল্পটির সদস্যরা।

mars

দলটির একজন সদস্য বনি ইউসুফ অভিযোগ করে বলেন, ‘গত ২২ ও ২৩ এপ্রিল বেসিসের নাসা স্পেস অ্যাপস চ্যালেঞ্জ প্রতিযোগিতার আয়োজন নিঃসন্দেহে চমৎকার ছিল। কিন্তু তাদের বিচার প্রক্রিয়া ঠিক ছিল না। মাত্র চার মিনিটের উপস্থাপনায় কোনো প্রকল্প বিচার করা যায় না।’

তিনি বলেন, ‘আসলে চার মিনিট সময়ের মধ্যে কেউই তাদের কাজের সম্পর্কে পুরোটা তুলে ধরতে পারেন না।’

‘ওই আয়োজনে অনেকের প্রজেক্টই অন্য বেশকিছু প্রজেক্ট বা কিছু টিউটোরিয়াল থেকে কপি পেস্ট করা হয়েছে। অন্যদিকে তাদের প্রজেক্টটি সম্পূর্ণভাবে নিজেদের তৈরি’-জানান বনি ইউসুফ।

13227967_10154139297962560_188089407_n

নাসা কর্তৃপক্ষ ‘মোবিলিটি ফর মার্স’ প্রকল্পের দলনেতা বনি ইউসুফকে ই-মেইল করে ২২ মে’র পর চূড়ান্ত ফলাফল দেওয়া হবে বলে জানিয়েছে।

বিষয়টি নিয়ে বাংলাদেশে ‘নাসা স্পেস অ্যাপস-২০১৬’ হ্যাকাথন ও বেসিস স্টুডেন্ট ফোরামের আহবায়ক আরিফুল হাসান অপু টেকশহরডটকমকে বলেন, ‘প্রকল্পটির উদ্ভাবকরা যে ধরনের অভিযোগ করেছেন তার কোনো ভিত্তি নেই। কারণ এখানে নাসা একটা গাইড লাইন দিয়ে দিয়েছে। এর বাইরে আমরা যেতে পারি না।’

তিনি বলেন, ‘চার মিনিটে অংশগ্রহণকারী দলগুলোকে তাদের প্রজেক্ট উপস্থাপন করতে হবে-এমন নিয়মই নাসা বেঁধে দিয়েছে। এর বাইরে কিছু করার সুযোগ নেই। তাই তাদের অভিযোগ সঠিক নয়।’

নাসা স্পেস অ্যাপস চ্যালেঞ্জের বাংলাদেশের একজন বিচারক নাম প্রকাশ না করার শর্তে টেকশহরডটকমকে বলেন, ‘নাসা অ্যাপ চ্যালেঞ্জে বিচার প্রক্রিয়ায় ক্রুটি ছিল। মাত্র চার মিনিটের উপস্থাপনায় বিজয়ী নির্বাচন করা হয়েছে। কিন্তু এ ধরনের প্রতিযোগিতায় ইউএক্স ডিজাইন, কোডিং, অ্যাপ্লিকেশন ইত্যাদি বিষয় দেখতে হয় যা এত অল্প সময়ে বিচার করা সম্ভব নয়।’

প্রকল্পটি এখন নাসার মূল পাঁচটি ক্যাটাগরির একটি ‘প্লানেট আর্থ’-এ চূড়ান্ত পর্বে প্রথম অবস্থানে আছে।

বিশ্বের প্রায় ৫০০টি প্রকল্প থেকে মূল পাঁচটি ক্যাটাগরিতে নির্বাচিত হবে ২৫টি প্রকল্প।

এছাড়াও ‘পিপলস চয়েজ’ ক্যাটাগরি হতেও ভোটের মাধ্যমে চূড়ান্ত প্রকল্প নির্বাচন করা হবে। যেখানে ‘মার্শিয়ান ওয়েসিস’ প্রজেক্ট নিয়ে শীর্ষ ২৫ এ অবস্থান করছে বাংলাদেশের একটি দল।

আরও পড়ুন:

*

*

আরও পড়ুন