ব্যতিক্রমী ভালো ব্লগ লেখার চার বেসিক

Evaly in News page (Banner-2)

মোশাররফ রুবেল, অ্যাপ ডেভেলপার  অতিথি লেখক : ব্লগিংয়ের শুরুটা একটু জটিল মনে হতে পারে। কেমন হবে লেখা, কি করলে পাঠক আকৃষ্ট হবেন কিংবা কিভাবে লিখলে পাঠক ফিরে আসবেন আবার এসব নিয়ে নানান জিজ্ঞাসা তৈরি হয় নবীন ব্লগারের মধ্যে। কোন ব্যপারগুলোতে বেশি দৃষ্টিপাত করতে হবে ও পাঠক কি চাইছে তা নিয়ে ভাবতে হয় বেশ। এ প্রশ্নের উত্তর লেখার মধ্যে থাকলে তার ব্লগ গ্রহণযোগ্যতা পায় অনেক বেশি।

মনে রাখতে হবে আর্টিকেল লেখার উদ্দেশ্য হলো পাঠকের মনে তৈরি হওয়া প্রশ্নের সমাধান জানিয়ে দেওয়া। এর বাইরে আরও কি প্রশ্ন হতে পারে সেগুলোর বিষয়ে সুনির্দিষ্টভাবে পাঠককে দরকারি তথ্য দেওয়া।

এ নিয়মগুলো মেনে চললে ব্যতিক্রমী ও চমৎকার ব্লগিং করা যাবে। এ কাজ করতে অনুসরণ করতে হবে ব্লগিংয়ের চারটি মূল বিষয়কে। এগুলো নিয়ে আজকের আলোচনা।

bloging-techshhor

স্তম্ভ ১ : লেখুনি হোক খুবই উপকারী
অনেকের কাজে লাগবে এমন লেখার ক্ষেত্রে প্রথমেই গুরুত্বপূর্ণ ব্যপার হচ্ছে কি বিষয় নিয়ে লিখছেন আপনি। খেয়াল রাখতে হবে আপনার আর্টিকেল যেন পাঠকের জন্য খুবই উপকারী হয়। তা হলে ওই পাঠকগোষ্ঠী বারবার আপনার লেখা পড়তে ব্লগে আসবেন।

আপনার লেখার লক্ষ্য যেন শুধু বন্ধুদের প্রশংসা লাভ, বিজ্ঞাপন কিংবা সরাসরি আয়ের ক্ষেত্রে সীমাবদ্ধ না থাকে। পাঠকের চাহিদা, প্রয়োজন, ইচ্ছে-আকাংখা, স্বপ্ন নিয়ে লিখতে হবে আপনাকে। এ ব্যপারগুলোতে আপনি কি সমাধান দিচ্ছেন সেটা গুরুত্বপুর্ণ হয়ে উঠবে।

টপিক পছন্দ করার পর ঠিক করুন কি থাকবে সেখানে। কিভাবে সেই লেখা টিপস, লিঙ্ক, রিসোর্স কিংবা আইডিয়া দিয়ে পাঠককে সাহায্য করবে।

প্রথমে আপনাকে ভেবে দেখতে হবে আপনার এ আর্টিকেলে ব্যবহার করা রিসোর্স, লিঙ্ক, ইমেজ, টিপস পাঠকের সমস্যার সমাধান করছে কিনা।

আপনার টিপস বা সাজেশন যতো যুগোপযুগী হবে ততই তা কার্যকরী হবে। লেখা যেন খুবই সাধারণ না হয়। যেমন পিসিতে ভাইরাসে আক্রান্ত হলে কি করতে হবে আপনি তা নিয়ে লিখছেন।

উদাহরণ হিসেবে বলা যায়, ভাইরাসে আক্রান্ত হলে অ্যান্টি ভাইরাস ইনস্টল করে স্ক্যান করতে হবে-শুধু যদি এটুকু মেসেজ থাকে লেখায় এটা খুবই সাধারণ একটা ব্যপার হবে। আপনার লেখা আর্টিকেল যেন এমন সাধারণ ব্যাপার নিয়ে না হয়। আরও কার্যকর ও চমৎকার সমাধান যেন উঠে আসে আপনার লেখুনি থেকে। সেটাই ভালো লেখার প্রথম স্তম্ভ।

CreatingHeadlines-1

স্তম্ভ ২ : আকর্ষনীয় শিরোনাম লিখুন
টপিক ঠিক হয়ে যাওয়ার পরের স্তম্ভ হচ্ছে হেডলাইন ( শিরোনাম ) । হেডলাইন হচ্ছে আপনার আর্টিকেলের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কিছু শব্দ, যা পুরো আর্টিকেলে কি আছে তা রিফ্লেক্ট করে। তাই চিন্তা ভাবনা করে হেডলাইন দিতে হবে। আর্টকেল লেখা শেষে আপনি চাইলে আপনার সেটি পুনরায় ঠিক করে নিতে পারেন।

অধিকাংশ পাঠক আপনার আর্টিকেলের হেডলাইন নিউজ ফিডে দেখতে পাবে। সেটা হতে পারে ব্লগের হোম পেইজে, হতে পারে ফেইসবুক হোম পেইজে কিংবা গুগল প্লাস বা ডিগের মত সাইটে। তাই আপনার ব্লগের শিরোনাম এমন হতে হবে যেন হেডলাইন দেখেই পাঠক পড়তে আগ্রহী হন।

আর্টিকেলের শিরোনাম দেখেই পাঠক সিদ্ধান্ত নেন তিনি সেটি পড়বেন কিনা। যদি শিরোনাম আকর্ষণীয় না হয়, তবে আপনি সাথে সাথে সেই পাঠককে হারালেন। তাই খুবই দৃষ্টিনন্দন শিরোনাম লেখার বিকল্প নেই।

স্তম্ভ ৩: লেখা যেন সহজবোধ্য হয়
আপনার লেখাটি যেন সহজেই বুঝতে পারা যায়। ধরুন, আপনি খুব ভালো টপিক পছন্দ করলেন লেখার জন্য, চমৎকার শিরোনামও লিখলেন। আপনার টপিক ও হেডলাইন থেকে পাঠক সিদ্ধান্ত নিলেন এখন আপনার আর্টিকেল পড়বেন।

তবে পড়া শুরুর পর যদি এমন হয় আর্টিকেলের শুরুতে কম দরকারি বা অপ্রাসঙ্গিক কথায় পরিপূর্ণ থাকে তাহলে পাঠক দুটি সিদ্ধান্ত নিতে পারেন। একটি হচ্ছে লেখাটি না পড়ে তিনি চলে যাবেন অন্য লেখায় অথবা আর্টিকেলের প্যারাগ্রাফগুলোতে এক নজর চোখ বুলিয়ে তা থেকে বের হয়ে যাবেন।

মনে রাখতে হবে আপনার পাঠক খুবই ব্যস্ত। একটা আর্টিকেল পড়ার জন্য তার হাতে অনেক সময় নেই। তাই এমন কিছু লেখা ঠিক হবে না যাতে পাঠক সেটি না পড়েই চলে যান কিংবা প্যারাগ্রাফগুলোতে চোখ বুলিয়ে চলে যান।

আর্টিকেলে যেন সহজেই বুঝতে পারা যায় সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে। এজন্য কিছু গুরুত্বপূর্ণ দিক অনুসরন করা দরকারি। যেমন, সাব হেডলাইন বা উপ-শিরোনাম, ছোট ছোট প্যারা, কোটেশান থাকলে কোটেশান ব্লক ব্যবহার করা, বোল্ড, ইতালিক ব্যবহার করা লিস্ট আইটেমে, ইমেজ, গ্রাফিকাল রিসোর্স দিয়ে সহজ করে তোলা।

পুরো আর্টিকেলে এ ব্যপারগুলো ব্যবহারে তা পাঠকের কাছে সহজেই স্ক্যানবল হয়।

Blogging-techshohor

স্তম্ভ ৪: কমন সেন্স মেনে পরিমান মত লিখুন
আপনার আর্টিকেল লেখায় সরলতা বজায় রাখতে হবে। যখন পাঠক লেখাটি পড়ার সিদ্ধান্ত নেবেন, তখন যেন তিনি নিরাশ না হন। আপনার লেখা আর্টিকেল থেকে পাঠককে যেন কিছু অনুসন্ধান করে নিতে না হয়। তাই লেখা খুব সহজভাবে উপস্থাপন করতে হবে। কমন সেন্স ব্যবহার করে পরিমানমতো লিখতে হবে।

অপ্রাঙ্গিক ব্যপারগুলো আর্টিকেলকে জটিল করে তুলবে, তাই মূল বিষয়বস্তুকে কেন্দ্র করে লেখা শেষ করতে হবে।

rubel

আরও পড়ুন: 

*

*

আরও পড়ুন