বিক্রয় কর্মী থেকে বিলিয়নিয়ার

Evaly in News page (Banner-2)

ইমরান হোসেন মিলন, টেক শহর কনটেন্ট কাউন্সিলর : বিশ্বের সবচেয়ে বড় বড় প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোর অনেক কর্তা ব্যক্তিই এক সময় ছিলেন বিক্রয়কর্মী। এরা এখন প্রায় বিলিয়ন ডলার কোম্পানির মালিক। পণ্যকে অন্যের কাছে আকর্ষণীয় করে তোলা ও বিক্রির বিষয়টি তারা ভালোই পারেন। তারা এ কাজটি ভালোই বোঝেন বলে কোম্পানির যেমন উন্নতি হয়েছে, তেমনি তারাও ক্যারিয়ারের শিখরে পৌঁছেছেন।

এসব প্রযুক্তিবিদদের মধ্যে বেশ কয়েক জন নিজের স্টার্টআপকে দাঁড় করাতে গিয়ে অল্প দিনেই নিজেদের বিক্রয় দক্ষতায় হয়ে উঠেছেন সফল প্রতিষ্ঠানের মালিক।

প্রযুক্তি বিশ্বে এখনও এমন কিছু বিক্রয় কর্মী রয়েছেন যারা কখন যে আপনাকেই বিক্রি করে দেবে বুঝতেই পারবেন না‍!

7-best-salesmen-techshohor

স্টিভ জবস, সহ-প্রতিষ্ঠাতা অ্যাপল
স্টিভ জবস অনুধাবন করেতন চাকরি করাটাই তার উদ্দেশ্য নয়। এর বাইরেও বিশেষ করে পণ্য বিক্রি করতে একটা আলাদা দক্ষতার প্রয়োজন আছে। তিনি জানতেন পণ্য কিভাবে বিক্রি করতে হবে।

সে কারণেই বিশ্বের দামী, নামী ব্র্যান্ডগুলোর শীর্ষে এখন অ্যাপলের পণ্য। শুধু আইফোনের জন্যই প্রতি বছর তরতরিয়ে উঠছে বাড়ছে মুনাফা।

apple-techshohor

এ কারণেই অ্যাপল এখন বিশ্বের সবচেয়ে সম্পদশালী কোম্পানিগুলোর মধ্যে অন্যতম। বলতে গেলে একা নিজের কারিশমাতেই একটি কোম্পানিকে সফলতার সুবর্ণ চূড়ায় তুলেছেন জবস। যে কারণে তাকে বিশ্বের মানুষ সর্বোকৃষ্ট বিক্রয়কর্মী হিসেবে গণ্য করেন।

সেলসফোর্সের প্রধান নির্বাহী মার্চ বেনিওফ

Marc Benioff

ওরাকলের প্রথমদিকের একজন বিক্রয়কর্মী হিসেবে ক্যারিয়ার শুরু করেছিলেন মার্চ বেনিওফ। নিজের কর্ম দক্ষতার প্রমাণ করে স্বল্প সময়ে ভাইস প্রেসিডেন্ট পদে পদোন্নতি পান।  ওরাকলে এর আগে কেউ এত কম বয়সে ভিপি হয়নি।

এরপর বেনিওফ প্রধান নির্বাহী হিসেবে সেলসফোর্সে তার অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগান। সেখানে সফটওয়্যার বিক্রির মধ্য দিয়ে নিজের দক্ষতার প্রমাণ দেন।

এখন প্রতিষ্ঠানটির সম্পদের পরিমাণ ৫০ বিলিয়ন ডলারের বেশি। এর পেছনে বেনিওর কারিশমা প্রধান ভূমিকা রেখেছে। খুব অল্প সময়ে রেকর্ড পরিমাণ সফটওয়্যার বিক্রি করেছেন তিনি।

ল্যারি এলিসন সহ-প্রতিষ্ঠাতা ওরাকল

larry-ellison-
দক্ষ বিক্রয়কর্মী হিসেবে বেনিওফের উঠে আসাটা বলতে গেলে ওরাকলের সহ-প্রতিষ্ঠাতা ল্যারি এলিসনের হাত ধরে। তার কাছেই বেনিওফ শিখেছিলেন কিভাবে বিপণনে পারদর্শী হতে হয়।

নিজের বিক্রয় অভিজ্ঞতা দিয়ে এলিসন ওরাকলে বিক্রয়ের ক্ষেত্রে একটা নতুন পরিবেশ সৃষ্টি করেছেন।

কর্মদক্ষতা, কৌশল ও অভিজ্ঞতা দিয়ে এলিসন ওরাকলের সম্পদের পরিমাণ করেছেন প্রায় ৩৮ বিলিয়ন ডলার।

লা ক্লিপার্সের মালিক স্টিভস বালমার

steve-ballmer
নিজের কোম্পানি প্রতিষ্ঠার আগে স্টিভস বালমার মাইক্রোসফটের একজন বিক্রয় কর্মী ছিলেন। তার বিক্রয় দক্ষতা মাইক্রোসফটকে সাফল্য পেতে সহায়তা করেছিল।

বিল গেটস খুবই ভাগ্যবান যে শুরুর দিকে তাকে পাশে পেয়েছিলেন। তাদের যৌথ প্রয়াস মাইক্রোসফটকে স্টার্টআপ কোম্পানি থেকে খুব দ্রুত একটি বড় সফটওয়্যার কোম্পানিতে পরিণত করেছিল।

২০০০ সালে বালমার যখন মাইক্রোসফটের প্রধান নির্বাহী হিসেবে গেটসের কাছ থেকে দায়িত্ব নেন- তখন অনেকেই বলেছিলেন তার মধ্যে প্রযুক্তির বিক্রি ও উদ্ভাবন এক হয়ে গেছে। পরে তিনি লা ক্লিপার্সের মালিক বনে যান।

Michael-Dell-techshohor

মাইকেল ডেল, প্রধান নির্বাহী ডেল
কিভাবে অল্প বয়স থেকেই একজন দক্ষ বিক্রয়কর্মী হওয়া যায় তার অনেক বড় উদাহরণ হতে পারেন ডেলের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মাইকেল ডেল। যিনি স্কুল জীবনেই পত্রিকা বিক্রি করে আয় করেছিলেন প্রায় ১৮ হাজার মার্কিন ডলার।

কলেজ জীবনের শুরুতে ডেল আপগ্রেড খেলনা হিসেবে ব্যক্তিগত কম্পিউটার বিক্রি করতে থাকেন। যেটি পরে বিশ্বের অন্যতম কম্পিউটার নির্মাতা ব্র্যান্ডে পরিণত হয়।

ডালাস মারভেরিস্কির মালিক মার্ক কুবান

Mark-Cuban_Dallas-Mavericks_HD_768x432-16x9
মার্ক কুবান এখন ডালাস মারভেরিস্কের মালিক হলেও তার ক্যারিয়ার শুরু হয়েছিল একটি সফটওয়্যার কোম্পানির বিক্রয় কর্মী হিসেবে। চাকরি জীবনের প্রথম ৯ মাসে ১৫ হাজার মার্কিন ডলারের পণ্য বিক্রি করতে পেরেছিলেন।

এর পরেই তার নিজের কম্পিউটার কনসাল্টিং ব্যবসা শুরু করেন। সম্ভবত তার সবচেয়ে বড় কৃতিত্ব নিজের স্টার্টআপ ব্রডকাস্ট ডটকম ইয়াহুর কাছে ৫ বিলিয়ন ডলারে বিক্রি করাটা।

 

জেনিফিট সিইও ডেভিড স্যাক্স

yammer-ceo-f
ডেভিড স্যাক্সের অনেক গুণের মধ্যে অন্যতম হলো স্টার্টআপ প্রতিষ্ঠা করা এবং পরে সেটি বিলিয়ন ডলারে বিক্রি করা। ২০০২ সালে যখন পেপালের প্রধান অপারেটিং অফিসার (সিওও) ছিলেন তখন সেটি ১.৫ বিলিয়ন ডলারে ইবে’র কাছে বিক্রি করে দেওয়া হয়।

পরে আরেকটি স্টার্টআপ ‘ইয়াম্মার’ মাইক্রোসফটের কাছে ১.২ বিলিয়ন ডলারে বিক্রি করেন।

এখন প্রায় তিন বিলিয়ন ডলারের স্টার্টআপ জেনিফিটের মোট সম্পদের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে প্রায় সাড়ে চার বিলিয়ন মার্কিন ডলার।

দ্য ইকোনোমিক টাইমস অবলম্বনে

আরও পড়ুন 

*

*

আরও পড়ুন