Techno Header Top and Before feature image

বিসিএসের নতুন কমিটি : শুরুতেই কোন্দল

আল-আমীন দেওয়ান, টেক শহর কনটেন্ট কাউন্সিলর : কম্পিউটার সমিতির (বিসিএস) ২০১৬-১৭ সেশনের নির্বাচন শেষে সবেমাত্র সাত পরিচালকের পদবন্টন হলো। এখনও বিগত কমিটি হতে দায়িত্ব বুঝে নেয়া হয়নি। আর এরই মধ্যে কোন্দল বেঁধেছে নতুন কমিটিতে।

কোন্দলের শুরু হয়েছে পদবন্টন নিয়ে। নির্বাচনের পর চার পরিচালক একসঙ্গে হয়ে নিজেরাই পদ ভাগ করে ফেলায় অন্য তিন পরিচালক ক্ষুব্ধ হন। শেষে সাত পরিচালকের পদবন্টনে কোষাধক্ষ্য ছাড়াই বিসিএসের কমিটির ঘোষণা দেয়া হয়।

এমনকি পদবন্টনের আনুষ্ঠানিক ঘোষণার দিন শুধুমাত্র আলী আশফাক(সভাপতি), ইউসুফ আলী শামীম(সহ-সভাপতি), সুব্রত সরকার (মহাসচিব) এবং মো. শাহিদ-উল-মুনীর(পরিচালক)-এই চারজন কে ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানাতে পেরেছে নির্বাচন কমিশন।

সাধারণ রীতি অনুয়ায়ী পদবন্টন শেষে নতুন দায়িত্বপ্রাপ্তদের ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানায় কমিশন। অথচ ওই অনুষ্ঠানে নাজমুল আলম ভূঁইয়া জুয়েল (যুগ্ম-সম্পাদক) আসেননি। এছাড়া এ টি শফিক উদ্দিন আহমেদ (পরিচালক) এবং এস এম ওয়াহিদুজ্জামান (পরিচালক) অনুষ্ঠানে এসেও কিছুক্ষণের মধ্যে ব্যক্তিগত কারণ দেখিয়ে চলে যান।

bcs

এ টি শফিক উদ্দিন আহমেদ টেকশহরডটকমকে বলেন, ‘নির্বাচনের পর সাত পরিচালক বসে পদবন্টন করার কথা। কিন্তু এর মধ্যে চার পরিচালক একসঙ্গে হয়ে নিজেরাই পদ ভাগাভাগি করে নিয়েছে। পরে তারা আমাকে জানায়, আমরা পদ নিয়ে নিয়েছি আপনি এখন কী নেবেন। এটা অপমানজনক।’

তিনি বলেন, ‘১২ বছর ধরে সংগঠনের সাথে জড়িত রয়েছি। সংগঠন ও সেক্টরের উন্নয়নে সব সময় কাজ করেছি। সদস্যদের প্রয়োজনে-অপ্রয়োজনে পাশে ছিলাম। এই পদ আমার কাছে কোনো বিষয় নয়। যেখানে যে অবস্থায় থাকি আমি কাজ করে যাবো। কিন্তু এ ধরণের কার্যক্রম মেনে নেয়া যায় না’

একই কথা এস এম ওয়াহিদুজ্জামানের। বিগত কমিটির এই যুগ্ম-মহাসচিব টেকশহরডটকমকে বলেন, ‘কাজ করেছি বলেই সদস্যরা আমাকে সম্মানিত করেছেন। আমাকে আবারও নির্বাচিত করেছেন। নতুন কমিটির শুরুতেই এই যে কোন্দল ও বনিবনা না হওয়া-এটা সংগঠনের জন্য কোনো সুফল বয়ে আনবে না। এর দায় বর্তমান সভাপতি আলী আশফাকেরই। উনি নিজে নিজেই গ্রুপিং করে পদ ভাগাভাগি করলেন। বিষয়টি নির্বাচিত সবাই একসঙ্গে বসে আলোচনা করে কিন্তু ঠিক করা যেত।’

তিনি বলেন, ‘সদস্যরা আমাকে পরিচালক নির্বাচিত করেছেন। পদ আমার কাছে মূখ্য নয়, আমি বিগত সময়ে যেমন কাজ করেছি এবারও কাজ করে যাবো।’

ওয়াহিদুজ্জামান বলেন, ‘বিগত কমিটিতেও আলী আশফাকের কার্যক্রম প্রশ্নবিদ্ধ। তিনি ভাগাভাগিতে সভাপতি পদ পাননি বলে সমিতির কোনো কার্যক্রমেই আসেননি। একজন নির্বাচিত প্রতিনিধি কীভাবে সংগঠন ও সদস্যদের কথা না ভেবে এমন কার্মকাণ্ড করেন।’

বিসিএসের নব নির্বাচিত কমিটির একাধিক পরিচালক ও অনেক সাধারণ সদস্যও প্রশ্ন তুলেছেন নতুন কমিটির সভাপতি আলী আশফাককে নিয়ে।

তারা বলছেন, ‘নতুন সভাপতির কাছে পদই বড়, সংগঠনের উন্নয়ন ও সদস্যদের পাশে দাঁড়ানো নয়। বিগত কমিটিতে সভাপতির পদ ভাগাভাগি করে পরে না পেয়ে দীর্ঘ এক বছর তিনি সমিতির সাংগঠনিক কোনো কাজই করেনি। সদস্যদের কথা ভাবা দূর, তিনি তো ওই সময়টাতে সমিতি কার্যালয়েই আসেননি।’

২০১৪-১৫ সেশনে কম্পিউটার সোর্সের ব্যবস্থাপনা পরিচালক এইচএম মাহফুজুল আরিফের নেতৃত্বাধীন বিজয়ী বেটার বিজনেস অ্যান্ড বিসিএস(বিবিএন্ডবি) প্যানেলে সভাপতি পদ ভাগাভাগির শর্তে নির্বাচন করেন আশফাক। নির্বাচনে জয়ের পর ২০১৪ সালের ৩০ মার্চ পদ বন্টনের ঘোষণায় আরিফ জানিয়েছিলেন, ‘আমি ২০১৪-২০১৫ মেয়াদে প্রথম বছর সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করব। এরপর সভাপতি হিসেবে আসবেন আলী আশফাক।’

কিন্তু পরবর্তীতে আরিফ আশফাককে সভাপতি পদ না দিলে আশফাক সমিতিতে আসেননি এবং সাংগঠনিক কোনো কার্যক্রমে অংশ নেননি। অন্যদিকে পরিচালক পদও ছাড়েননি।

নাজমুল আলম ভূঁইয়া জুয়েল টেকশহরডটকমকে বলেন, ‘চার পরিচালক একসাথে হয়ে অন্য তিনজনকে বাদ দিয়ে নিজেরাই পদ ভাগ করে ফেলায় ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছিল। কিন্তু আমার কোনো পদের প্রতি লোভ নেই। আমি সংগঠনে যে অবস্থায় ও যে পদেই থাকি না কেনো সেক্টরে উন্নয়ন এবং সদস্যদের স্বার্থে কাজ করে যাবো। আর সংগঠনে সেক্টর ও সদস্যদের স্বার্থবিরোধী কোনো কাজ করা হলে তার বিরুদ্ধে অবস্থান নেবো।’

পদ বন্টনের আনুষ্ঠানিক ঘোষণার দিন উদ্ভুত পরিস্থিতি নিয়ে তিনি বলেন, ‘আসলে সংখ্যাগরিষ্ঠ বলে কথা। এখানে কারও কিছু বলা বা করার নেই।’

নতুন কমিটির এসব কোন্দল ও অসন্তোষ নিয়ে আলী আশফাক টেকশহরডটকমকে বলেন, ‘সবকিছু সংখ্যাগরিষ্ঠের হিসেবেই হয়েছে। আর সমিতিতে যা হবে তা সত্য ও ন্যায়ের ভিত্তিতেই হবে।’

BCS Election_final_techshohor

সংগঠনটির এই অবস্থা নিয়ে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছেন বিসিএস এর অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা এবং ১৯৮৭ সাল থেকে প্রায় এক যুগ বিসিএসের নেতৃত্বে থাকা আব্দুল্লাহ এইচ কাফী।

এ প্রসঙ্গে টেকশহরডটকমকে  বলেন, ‘এটি আমাদের দুর্ভাগ্য। এ কারণে সমিতির প্রতিষ্ঠা হয়নি। এটা মেনে নেওয়া কষ্টকর যে এখন পদই মূখ্য হয়ে গেছে। প্রেসিডেন্ট বা মহাসচিব হওয়াটাই যেন মূল উদ্দ্যেশ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। যা সংগঠনকে ধীরে ধীরে খারাপ অবস্থানের দিকে নিয়ে যাচ্ছে।’

নেতৃত্ব নির্বাচনে ভোটারদের দায় আছে বলে মনে করেন তিনি।

‘সদস্যদের বোঝা উচিত, পর্যবেক্ষণ করা উচিত যোগ্য নেতৃত্বের বিষয়ে। কেউ কোনো দায়িত্ব পালন না করেই নির্বাচিত হয়ে যাচ্ছে আর যোগ্য প্রার্থীরা ভোটই পাচ্ছেন না-বিষয়টি পুরো সেক্টরের জন্য অশনিসংকেত।’

নতুন কমিটির শুরুতেই এই বিভক্তি হতাশাজনক উল্লেখ করে এশিয়ান-ওশেনিয়ান কম্পিউটিং ইন্ডাস্ট্রি অর্গানাইজেশনের (অ্যাসোসিও) সাবেক এই চেয়ারম্যান সকলকে মিলেমিশে কাজ করার আহবার জানান। বলেন ‘যাদের বিষয়ে প্রশ্ন উঠেছে তারাও যেন কাজের মাধ্যমে, সংগঠনের উন্নয়নের মাধ্যমে, সদস্যদের পাশে থেকে নিজেদের যোগ্যতার প্রমাণ দেন।’

উল্লেখ্য, গত ১৪ মার্চ সংগঠনটির ২০১৬-১৭ সেশনের কার্যনির্বাহী কমিটির নির্বাচনে সবচেয়ে বেশি ৪৮৫ ভোট পেয়েছেন ইঞ্জিনিয়ার সুব্রত সরকার।

নির্বাচনে মোট ভোট পড়েছে ৫৮৫টি। প্রতিদ্বন্দ্বীতা করেন ১০ জন প্রার্থী।

*

*

আরও পড়ুন