Techno Header Top and Before feature image

নারীদের প্রোগ্রামিং শেখাতে আরেক নারীর প্রচেষ্টা

ইমরান হোসেন মিলন, টেক শহর কনটেন্ট কাউন্সিলর : তথ্যপ্রযুক্তি বিষয়ে যারা পড়াশোনা করছে তাদের মধ্যে মাত্র এক শতাংশ নারী শিক্ষার্থী প্রোগ্রামিংয়ে আগ্রহী। এটা যে শুধু বাংলাদেশের অবস্থা তা নয়; পুরো বিশ্বেই মেয়েরা প্রযুক্তিতে পিছিয়ে। দেশে মেয়েদের প্রোগ্রামিংয়ে আগ্রহী করতে ২০১১ সালে প্রথমবারের মতো ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কম্পিউটার বিজ্ঞান ও প্রকৌশল বিভাগে আয়োজন করা হয় ‘ন্যাশনাল গার্লস প্রোগ্রামিং কনটেস্টের’। কথাগুলো বলছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কম্পিউটার বিজ্ঞান ও প্রকৌশল বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক লাফিফা জামাল।

লাফিফা জামাল দীর্ঘদিন থেকে কাজ করছেন কিশোর-তরুণদের প্রোগ্রামিংয়ে আগ্রহী করতে তুলতে। পড়াশোনা করেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কম্পিউটার বিজ্ঞান ও প্রকৌশল বিভাগে। পরে একই বিভাগে শিক্ষক হিসেবে যোগ দেন।

নিজে নারী হিসেবে কম্পিউটার বিজ্ঞানে পড়তে গিয়ে মুখোমুখি হয়েছেন নানা প্রতিবন্ধকতার। সেগুলোকে মাথায় রেখেই প্রযুক্তি খাতে নারীদের এগিয়ে নিতে, দেশে দক্ষ কম্পিউটার প্রোগ্রামার তৈরি করতে কাজ শুরু করেন লাফিফা জামাল।

bdosn-techshohor

চলতি বছর গার্লস ইন আইসিটি দিবস পালন, ন্যাশনাল গার্লস প্রোগ্রামিং কনটেস্ট আয়োজন, মেয়েদের জন্য আলাদা অ্যালগরিদম বিষয়ক কর্মশালা, ভবিষ্যতে মেয়েদের তথ্যপ্রযুক্তিতে এগিয়ে নেয়ার জন্য ‘মিসিং ডটার’ ব্যানারে বেশ কিছু কাজ করার পরিকল্পনা রয়েছে তাদের বলে জানান লাফিফা জামাল।

বাংলাদেশ ওপেন সোর্স নেটওয়ার্কের (বিডিওএসএন) সহ-সভাপতি লাফিফা জামালের পরিচয় শুধু শিক্ষক ও সংগঠক হিসেবে নয়। এর বাইরেও তিনি দায়িত্ব পালন করছেন বাংলাদেশ কম্পিউটার সোসাইটির (বিসিএস) কোষাধ্যক্ষ, বাংলাদেশ উইমেন ইন টেকনোলজির (বিডাব্লিউআইটি) পরিচালক, ঢাকা ইউনিভার্সিটি সায়েন্স সোসাইটির (ডিইউএসএস) মডারেটর হিসেবে। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির কার্যকরী পরিষদের (২০১৬) একজন নির্বাচিত সদস্যও।

তবে সবগুলো পরিচয় ছাপিয়ে তার পরিচিতি দেশে প্রোগ্রামিংয়ে আগ্রহ ও সচেতনতা তৈরির জন্য নিবেদিত একজন সংগঠক হিসেবে। একজন নারী হয়েও এমন উদ্যোগের সঙ্গে কাজ করা সম্পর্কে লাফিফা জামাল জানান, অনেকেই কম্পিউটার পেলে গান শোনা, গেইম খেলা বা অন্যান্য কাজে সময় ব্যয় করে। কিন্তু তারা যে একটু চেষ্টা করলে সেসব গেইম তৈরি করতে বা সফটওয়্যার তৈরি করতে পারে, হতে পারে দক্ষ প্রোগ্রামার- এটা বোঝাতে এবং এই ধারণা সবার মধ্যে ছড়িয়ে দিতেই বিডিওএসএনের মাধ্যমে দেশব্যাপী প্রোগ্রামিং শিক্ষা দেওয়ার জন্য উঠেপড়ে লাগলেন তারা।

bdons-techshohor

২০১৫ সালে সিএসই উইক এর কার্যক্রমের অংশ হিসেবে দ্বিতীয়বারের মতো ‘ন্যাশনাল গার্লস প্রোগ্রামিং কনটেস্ট’ আয়োজন করা হয়, যার আহ্বায়ক ছিলেন লাফিফা জামাল।

বিডিওএসএন এর উদ্যোগে ও বিসিসির সহযোগিতায় ২০১৬ তে বছর জুড়ে প্রোগ্রামিং বিষয়ক বেশকিছু পরিকল্পনা আছে তাদের। ইতোমধ্যে শুরু হয়ে যাওয়া ন্যাশনাল হাই স্কুল প্রোগ্রামিং কনটেস্টে তিনি সক্রিয়ভাবে যুক্ত আছেন।

এ শিক্ষক-সংগঠক বলেন, শুধু আমাদের উদ্যোগেই তো হবে না। এর জন্য সবার আগে সচেতন হতে হবে অভিভাবকদের। ছেলে বিজ্ঞান ও অন্যান্য জটিল বিষয়ে পড়াশোনা করবে আর মেয়ে পড়বে অপেক্ষাকৃত সহজ বিষয়ে-এ ধ্যানধারণা থেকে আমাদের বেরিয়ে আসতে হবে।

তিনি বলেন, জন্মসূত্রে ছেলেরা শারীরিকভাবে মেয়েদের চেয়ে কিছুটা শক্তিশালী হলেও মানসিক দক্ষতার দিক থেকে কেউ কারো চেয়ে কম নয়। লেখাপড়ার ব্যাপারে একজন ছেলে যতটুকু পারে একজন মেয়েও ঠিক ততটুকুই পারে। প্রয়োজন শুধু সঠিক পরিচর্যা আর আত্মবিশ্বাসের।

*

*

আরও পড়ুন