Techno Header Top and Before feature image

বৈচিত্রময় প্রযুক্তি উদ্ভাবনে স্বপ্ন দেখাচ্ছেন তরুণরা

ইমরান হোসেন মিলন, টেক শহর কনটেন্ট কাউন্সিলর : ‘বাংলাদেশ আইসিটি এক্সপো ২০১৬’ এর নজরকাড়া ও সর্বসাধারণের আগ্রহের কেন্দ্রবিন্দু দেশীয় উদ্ভাবন অংশ বা ইনোভেশন জোন। রাজধানীর বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রের (বিআইসিসি) হল অব ফেমের ব্যালকোনিতে বসেছে এই ইনোভেশন জোন।

মূল ফটক পেরিয়ে হলের ভেতর প্রবেশ করতে গেলে অভ্যর্থনা জানাবে রোবট রিবো। শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের তৈরি রোবটটির অভ্যর্থনা ইনোভেশন জোনে তৈরি করেছে একটি আলাদা আবহ।

তবে রোবট আর ড্রোনের আধিক্য থাকলেও এর বাইরের বেশ কয়েকটি তাক লাগানো উদ্ভাবন ইনোভেশন জোনকে ব্যতিব্যস্ত রেখেছে।

Innovation Zone-1
তবে দর্শনার্থীদের নজর কেড়েছে ইউনিভার্সিটি সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি চট্টগ্রামের (ইউএসটিসি) ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেকট্রনিক ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের সাবেক তিন শিক্ষার্থীর উদ্ভাবন স্বয়ংক্রিয় বহুতল গাড়ি পার্কিং ব্যবস্থা।

উদ্ভাবনী প্রকল্পটির দলের সদস্য আছরারুল হক, নাজমুল হোসেন ও আবু নঈম ইউসুফ। তারা জানান, তারা মূলত ঢাকা ও চট্টগ্রামের মতো জনবহুল সিটি করপোরেশনের কথা মাথায় রেখে এই বহুতল স্বয়ংক্রিয় পার্কিং পদ্ধতির উদ্ভাবন করেছেন। তাদের লক্ষ্য অল্প জায়গায় বেশি গাড়ি পার্ক করার ব্যবস্থা করা।

আছরারুল হক বলছিলেন, তারা এটি করেছন যেনো সিটি করপোরেশনগুলো রাস্তার পাশে যাত্রী ছাউনির মতো করে গাড়ি পার্কিং করার ব্যবস্থা করতে পারেন। এতে যেমন সিটি করপোরেশনের আয় বাড়বে তেমনি জানজটও কমানো সম্ভব হবে।

দলটি এখন চেষ্টা করছেন সরকারি ব্যক্তিদের প্রকল্পটি দেখাতে। তাদের আশা সরকার প্রকল্পটিকে গুরুত্বের সাথে নেবেন বলেও তিনি জানান।

Innovation Zone-2
কৃষিনির্ভর দেশকে স্মার্ট চাষাবাদ পদ্ধতি উপহার দিয়ে কৃষিতে বিপ্লব আনার জন্য কাজ করেছেন সিটি ইউনিভার্সিটির কম্পিউটার বিজ্ঞান ও প্রকৌশল বিভাগের চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী আব্দুল হালিম, শাহীন ও রাসেল। তারা তাদের উদ্ভাবনী প্রকল্প ‘স্মার্ট ইরিগেশন অ্যান্ড ফার্টিলাইজেশন’ নিয়ে অংশ নিয়েছেন আইসিটি এক্সপোতে।

তাদের একজন আব্দুল হালিম বলেন, এই সেচ পদ্ধতিতে একটি যন্ত্র যা মাটি পরীক্ষা করে প্রয়োজনানুসারে জমিতে পানি ও সার দেবে। অর্থাৎ দেখা যাবে জমির পুরো অংশে পানি দেওয়া হয়ে গেলে স্বয়ংক্রিয়ভাবে তা বন্ধ হয়ে যাবে।

এই পদ্ধতিতে শহরে বাগান করা ছাড়াও ব্যাপক আকারে চাষাবাদ করতে এটি ব্যবহার করা যাবে।
ব্যক্তিগতভাবে নিজের তৈরি ড্রোন নিয়ে ইনোভেশন জোনে হাজির হয়েছিলেন বাংলাদেশ প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের শিক্ষার্থী আদিবুজ্জামান রাহী। সঙ্গে এসেছিলেন তার মা। ছেলে যখন সবাইকে তার তৈরি ড্রোন উড়িয়ে দেখাচ্ছিলেন তখন তিনিও মুগ্ধ হয়ে দেখছিলেন।

এই ড্রোন দিয়ে কী কাজ করা যায় এমন প্রশ্নে রাহী জবাব দেন, দুর্গম ও দুর্যোগপূর্ণ পরিবেশে ড্রোনটি আকাশ থেকে ছবি তুলে পাঠাতে পারবে। এমনকি ড্রোনটিতে সময় বেঁধে দিলে সেই সময়ের মধ্যেই ছবি পাঠিয়ে আবার নির্দিষ্ট গন্তব্যে পৌঁছে যাবে।

বুয়েটের আরেক দল শিক্ষার্থী উদ্ভাবন করেছেন পানি, বাতাস ও শব্দ দূষণের প্রতিকার ব্যবস্থা। আরিফুল হক, ফারহান সাদিক ও শাহরিয়ার রিফাত। তারা সবাই বুয়েটের ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেকট্রনিক ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী।

তাদের উদ্ভাবিত প্রকল্প ‘স্মার্ট ট্রিস এগেইনেস্ট পলুউশন’। যেখানে পদ্ধতিটি ব্যবহার করে সাধারণ মানুষ পানিকে না ফুটিয়েই বিশুদ্ধ করে পান করতে পারবেন।

আরিফুল হক বলছিলেন, পানি বিশুদ্ধ করার ক্ষেত্রে দুটি ধাপে কাজ করে তাদের যন্ত্র। একটি পানির ভিতরে থাকা জৈব পদার্থগুলো অপসারণ করে আরেকটি অপসারণ করে আর্সেনিকের মতো খনিজ। এগুলো করে স্বয়ংক্রিয় পদ্ধতিতে। তাই কাজ শেষ হয়ে গেলে একটি সিগন্যালের মাধ্যমে তা জানিয়ে দেবে।

এছাড়াও ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা মেরিন ব্ল্যাক বক্স প্রকল্প নিয়ে হাজির হয়েছে ইনোভেশন জোনে। এই ব্ল্যাক বক্স নদী বা সমুদ্র পথে চলাচল করা যানগুলোতে ব্যবহার করা সম্ভব। যা উড়োজাহাজের ব্ল্যাক বক্সের আদলেই কাজ করবে।

তবে এসব প্রকল্প অনেক ক্ষেত্রেই নিজ উদ্যোগে করতে হয় বলে কিছুটা হতাশ আসরাফা তাহির নামের এক শিক্ষার্থী। তিনি বলেন, বেশিরভাগ ক্ষেত্রে উদ্ভাবনী প্রকল্পগুলো নিজেদের অর্থায়নে করতে হয়। যদি এর জন্য কোনো স্পন্সর পাওয়া যেতো বা বিশ্ববিদ্যালয়গুলো প্রয়োজনীয় অর্থ সংকুলান করতো তাহলে নতুন নতুন উদ্ভাবন অব্যবহত রাখার পাশাপাশি অল্প খরচে সেগুলো বাস্তবায়ন করা সম্ভব হতো।

*

*

আরও পড়ুন