Header Top

ফেইসবুকেও একুশে স্মরণ

Evaly in News page (Banner-2)

ইমরান হোমেন মিলন, টেক শহর কনটেন্ট কাউন্সিলর : প্রতি বছর একুশে ফেব্রুয়ারি আসে ভাষা শহীদের স্মৃতিকে সঙ্গে নিয়ে। একরাশ ভালোবাসার সঙ্গে শোকের রেশ ছড়িয়ে যায়। ভাষার জন্য বাঙালির আত্মত্যাগের ইতিহাস যেন আবার জাগ্রত হয়ে ওঠে সবার মাঝে। সেই টান এখন বাস্তব জগতের মতো অনুভব করা যায় ভার্চুয়াল জগতেও।

‘আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো একুশে ফেব্রুয়ারি, আমি কি ভুলিতে পারি…’ সালাম, বরকত, রফিকদের স্মরণে গাওয়া এ গানের রেশ যেন এদিন ছড়িয়ে পড়েছে ফেইসবুকেও। শহীদ মিনারের ছবিতে ছবিতে ছেয়ে গেছে ওয়াল।

তবে মাতৃভাষার জন্য রক্তদানের দিনটিকে ঘিরে জনপ্রিয় এ মাধ্যমে কিছু কর্মকাণ্ড আবার প্রশ্নও জাগায়। এর মাঝেও শোকের দিনটিকে বিভিন্ন আঙ্গিকে ফেইসবুক সবার সামনে হাজির করে ভাষা শহীদের নিয়ে লেখা, শহীদ মিনারের ছবি কিংবা হাল আমলের সেনসেশন সেলফির মাধ্যমে।

21 february
“গভীর রাতে যখন ঘুমাতে যাবো তখন দেখি বাসার পাশে ইটের দেয়ালে ঘেরা খেলাধূলার ছোট্ট জাগয়াটিতে চলছে শহীদ মিনার বানানোর তোড়জোড়। মনে একটা আনন্দ বয়ে গেল। ভাষা শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধাবোধ লক্ষগুণ বেড়ে গেল। ঘুমাতে গেলাম পরম শান্তিতে। কিন্তু ভোরে ঘুম ভাঙে হিন্দি গানের বিকট আওয়াজে। দেখি ওই শহীদ মিনারে পাড়ার ছেলেরা ফুল দিচ্ছে। পাশে বাজছে হিন্দি গান। তবে কি আমরা ভাষা আন্দোলনের মূল বক্তব্য নতুন প্রজন্মকে বোঝাতে পারিনি?”…

কিছুটা হতাশা ও কিছুটা আক্ষেপ নিয়ে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের সকালে ফেইসবুকে এমন পোস্ট দিয়েছেন খন্দকার শাহজাহান। ভাষা আন্দোলনের ৬৪ বছর পর এসে তিনি কিছুটা হতাশ হলেও, আশাবাদী মানুষের সংখ্যাও কম নয়।

১৯৫২ সালে মাতৃভাষা বাংলার দাবিতে যখন রাজপথ রক্তে রঞ্জিত হয়েছিল, তখন থেকেই আশার সঞ্চার ঘটে বাঙালি জীবনে। সেই আশা বার বার হোঁচট খেলেও আজও বিশ্বের হাজারো ভাষার মধ্যে অন্যতম আমাদের বাংলা ভাষা।

গাফফার চৌধুরীর লেখা আর আলতাফ মাহমুদের সুর করা সেই ‘আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো একুশে ফেব্রুয়ারি, আমি কি ভুলিতে পারি…’ আমরা কখনোই ভুলতে পারি না।

তবে আক্ষেপ একটাই। যে ভাষার জন্য মানুষ জীবন দিয়েছে, সেই ভাষাকে সব শ্রেণীর মানুষের সঙ্গে রাষ্ট্রের যোগাযোগে এখনও প্রতিষ্ঠিত করতে পারিনি।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক অধ্যাপক গীতি আরা নাসরিন কিছুটা দাবীর সুরে তার ফেইসবুক ওয়ালে লিখেছেন, বায়ান্নোতে একুশের আন্দোলন ছিল ‘মাতৃভাষা’কে সমমর্যাদা দেওয়ার দাবীতে। সেই রক্তের দাগ ধরেই এখন একুশে ফেব্রুয়ারি ‘আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস’। সকল মানুষের মাতৃভাষায় যোগাযোগের অধিকার প্রতিষ্ঠিত হোক।

আবার বাঙালি তাদের শ্রদ্ধাবোধ ভুলে গিয়ে একুশে ফেব্রুয়ারিকে একটি উৎসব সংস্কৃতিতে পরিণত করার প্রতিক্রিয়ায় তিনি লিখেছেন, ফেসবুকে আজ বেশ ঈদ-ঈদ লাগতেছে।  উৎসব-সংস্কৃতিতে একুশে ফেব্রুয়ারির অবদান হলো কালো-প্রধান পোষাক পরার সুযোগ। বাংলাদেশে আবহাওয়া ও কালো রঙের সাংস্কৃতিক অর্থ অনুযায়ী মানুষ সবসময়ে কালো পোষাক পরতে পারে না। কিন্তু পাশ্চাত্যে পার্টি-পোষাকে কালো রঙ বহুল-ব্যবহৃত। ইট্টু গরম পড়ছে, এই যা।

শরিফুল হাসান নামের এক ব্যবহারকারী লিখেছেন, আমার সোনার বাংলা, আমি তোমায় ভালোবাসি। আমাদের জাতীয় এই সঙ্গীতের পর দ্বিতীয় যে গানের সুর আমার বুক কাপিয়ে দেয় সেটা হলো আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙ্গানো একুশে ফেব্রুয়ারি। শহীদ আলতাফ মাহমুদ এমন অসাধারণ সুর করেছিলেন যে মন থেকে মগজে শিরায় শিরায় ছড়িয়ে যায়।

তবে একুশে ফেব্রুয়ারি ঘিরে ফেইসবুকে নানা ধরনের পোস্ট চোখে পড়েছে। যার মধ্যে দিবসটিকে ঘিরে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের ব্যবসা করার প্রবণতা অন্যতম। তবে সেখানেও মত-ভিন্নমত রয়েছে।

আবার প্রাণের বিনিময়ে পাওয়া ভাষার মর্াদা ধরে রাখতে সবাইকে সচেতন হতেও অনেকেই আহ্বান জানিয়েছেন এই ফেইসবুকের মাধ্যমে।

*

*

আরও পড়ুন