Header Top

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ডিজিটাল বিশ্ববিদ্যালয় বিল সংসদে

টেক শহর কনটেন্ট কাউন্সিলর : বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ডিজিটাল বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠায় আইন প্রস্তাব সংসদে উঠেছে।

সোমবার ‘বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ডিজিটাল ইউনিভার্সিটি, বাংলাদেশ বিল-২০১৬’ সংসদে উত্থাপন করেন শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ।

এর পর বিলটি ৩০ দিনের মধ্যে পরীক্ষা করে সংসদে প্রতিবেদন দেওয়ার জন্য শিক্ষা মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটিতে পাঠানো হয়।

২০১০ সালের ২৪ ফেব্রুয়ারি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গাজিপুর সফরকালে ঐ জেলায় বিজ্ঞান, প্রকৌশল ও প্রযুক্তি, তথ্য ও যোগাযোগের শিক্ষা ও গবেষণাধর্মী ডিজিটাল বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন।

পরে ২০১৪ সালের ২৩ ফেব্রুয়ারি এবং ৫ মার্চ শিক্ষামন্ত্রীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত দুটি সভায় ডিজিটাল ইউনিভার্সিটির ধারণা ও এই খসড়া আইন নিয়ে আলোচনা পর্যালোচনা করা হয়। সভায় শিক্ষা মন্ত্রণালয় খসড়াটি অনুমোদন দেয়।

গত বছরের অক্টোবরে আইনের খসড়ায় চূড়ান্ত অনুমোদন দেয় মন্ত্রিসভা। চূড়ান্ত অনুমোদনের আগে ২০১৪ সালের ২৯ ডিসেম্বর এই বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার আইন মন্ত্রিসভায় নীতিগত অনুমোদন পায়।

চূড়ান্ত অনুমোদন পাওয়ার পর খসড়া আইনটি আইন মন্ত্রণালয়ের পুনঃভেটিং শেষে সরাসরি সংসদে চলে আসে।

digital university

প্রস্তাবিত বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ডিজিটাল ইউনিভার্সিটি বিলে বলা হয়েছে, বিশ্ববিদ্যালয় তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি, বিজ্ঞান, প্রকৌশল প্রযুক্তি এবং উচ্চতর প্রযুক্তির সঙ্গে সম্পর্কিত যেমন, ডিজিটাল ডেভেলপমেন্ট, ডিজিটাল টেকনোলজি, বায়ো-টেকনোলজি, ন্যানো-টেকনোলজি, অ্যাডভ্যান্সড টেকনোলজি, ইন্সট্রাকশনাল টেকনোলজি, রোবোটিকস, ক্লাউড কম্পিউটিং, সাইবার নিরাপত্তা, ই-কমার্স, টেলিকমিউনিকেশন ইঞ্জিনিয়ারিং, ই-বর্জ্য ব্যবস্থাপনার বিষয়ে স্নাতক-স্নাতকোত্তর পর্যায়ে শিক্ষাদান ও গবেষণা করবে।

বিলের উদ্দেশ্য ও কারণ সম্পর্কে মন্ত্রী বলেন, উচ্চশিক্ষার বিভিন্ন ক্ষেত্রে বিজ্ঞানের বিভিন্ন বিষয়ে স্নাতক এবং স্নাতকোত্তর পর্যায়ে শিক্ষা, গবেষণা ও প্রশিক্ষণ এবং সম্প্রসারণ কার্যক্রম অগ্রগতিকল্পে এবং এ বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজনেস ইনকিউবেটরের মাধ্যমে দেশে ও বিদেশে তথ্য প্রযুক্তি খাতে নতুন নতুন উদ্যোক্তা সৃষ্টি, কর্মসংস্থান সম্প্রসারণ করে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির মাধ্যমে নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই দেশকে উন্নত দেশে রূপান্তর করার লক্ষ্যে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ডিজিটাল ইউনিভার্সিটি, বাংলাদেশ স্থাপন করা অতীব প্রয়োজন।

বিলে বলা হয়েছে, বিশ্ববিদ্যালয় পরিচালনা, ব্যবস্থাপনা এবং এ জাতীয় অন্যান্য কাজ হবে সত্যিকার অর্থেই প্রযুক্তি নির্ভর। ডিজিটাল বিশ্ববিদ্যালয়ে বিজ্ঞান, প্রকৌশল ও প্রযুক্তি, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তির সঙ্গে সম্পর্কিত বিষয় সবিশেষ পাঠদান এবং তাত্ত্বিক ও প্রয়োগিক বিষয়ের ওপর গবেষণা হবে।

এতে বলা হয়, এই বিশ্ববিদ্যালয় হবে মাল্টিডিসিপ্লিনারী ও গবেষণাভিত্তিক প্রযুক্তিনির্ভর আন্তর্জাতিক মানের উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠান।
এছাড়া বিজ্ঞান, প্রকৌশল ও প্রযুক্তি, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তির সঙ্গে সম্পর্কিত ডিজিটাল টেকনোলজি, বায়োটেকনোলজি, ডিজিটাল ম্যানেজমেন্ট, ডিজিটাল ডেভেলপমেন্ট, অ্যাডভান্সড টেকনোলজি নিয়েও পাঠদান ও গবেষণা হবে এই বিশ্ববিদ্যালয়ে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের স্নাতকোত্তরের শিক্ষার্থী ছাড়াও গবেষকরা সম্পূর্ণ আবাসন সুবিধা এবং বৃত্তি ও ভাতা পাবেন।যেসব বাংলাদেশি বিদেশের স্বনামধন্য বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকতা করছেন তারাও এই বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকতা ও গবেষণার সুযোগ পাবেন।

বলা হয়েছে, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি খাতে খ্যাতিসম্পন্ন ও প্রশাসনিক কাজে অভিজ্ঞ ব্যক্তি উপাচার্য হিসেবে নিয়োগ পাবেন । বিশেষায়িত এই বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতি দেশি-বিদেশি শিক্ষক-গবেষকদের আকৃষ্ট করতে উপাচার্য, উপ-উপাচার্য, শিক্ষক ও গবেষকদের জন্য একটি স্বতন্ত্র বেতন কাঠামো থাকবে।

পাঁচ সদস্যের একটি সার্চ কমিটি অভিজ্ঞ ও আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন তিনজন শিক্ষাবিদ নিয়ে উপাচার্য প্যানেল করে রাষ্ট্রপতির কাছে প্রস্তাব পাঠাবে। তাদের মধ্য থেকে চার বছরের জন্য একজনকে উপাচার্য নিয়োগ করবেন রাষ্ট্রপতি।

আইনে বলা হয়, বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) চেয়ারম্যানকে যে পদ্ধতিতে অপসারণ করা যায় জিডিটাল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্কে সেভাবে অপসারণ করা যাবে না ।

আইন অনুযায়ী, ডিজিটাল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকের সর্বনিম্ন পদ হবে পিএইচডি অথবা সমমান ডিগ্রীধারীর সহকারী অধ্যাপক। বিশেষায়িত এই বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণাকর্ম দেশীয় উৎপাদন বাড়াতে এবং বাংলাদেশের জাতীয় জীবনে বিভিন্ন সমস্যার সমাধানে অবদান রাখবে বলেও খসড়ায় বলা হয়েছে।

শিক্ষা গবেষণায় বিদেশি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর সঙ্গে এই বিশ্ববিদ্যালয়ের সংযোগ স্থাপন করা হবে উল্লেখ করে এতে বলা হয়েছে, বিশ্ববিদ্যালয়ের পাঠাগার হবে সর্বাধুনিক প্রযুক্তি সুবিধা সম্পন্ন।

আল-আমীন দেওয়ান

*

*

আরও পড়ুন