ব্লগিংয়ের জনপ্রিয় ৭ বিষয়, শুরু করুন এখনই

Evaly in News page (Banner-2)

মোশাররফ রুবেল, অ্যাপ ডেভেলপার  অতিথি লেখক : পেশা হিসেবে অনেকেই বেছে নিচ্ছেন ব্লগিং। পাঠক যেমন বাড়ছে, তেমনি লেখালেখির এ মাধ্যম থেকে আয়ও বাড়ছে। শুধু ব্লগিং করে ও ব্লগ মনেটাইজ করে নিজের ক্যারিয়ার গড়ে তুলছেন অনেক ফ্রিল্যান্সার।

ব্লগিং শুরু করতে বিনিয়োগ কম লাগলেও পরিশ্রম একটু বেশিই করতে হয়। বেশি সময় ও শ্রম দিলে উন্নতি করার সুযোগও অনেক বেশি। নিজের মতো করে কাজ করার সুযোগও রয়েছে এ ক্ষেত্রে।

তবে বিষয় নির্বাচনের দিকে খেয়াল রাখতে হবে এবং সতর্কভাবে নির্বাচন করতে হবে। পাঠকপ্রিয় বিষয় নির্বাচন করতে হবে। কেননা ব্লগিংয়ের ক্ষেত্রে পাঠকই প্রাণ। এ টিউটোটিরালে যে ধরনের বিষয় নির্বাচন করে ব্লগ সাজাতে পারেন তার টিপস দেওয়া হলো।

blog-laptop-copy-2

টিপস অ্যান্ড ট্রিক্স
বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মের টিপস অ্যান্ড ট্রিক্স নিয়ে ব্লগিং দীর্ঘদিন ধরেই একটি জনপ্রিয় বিষয়। উদাহরণ হিসেবে বলা যায়, উইন্ডোজ কিংবা লিনাক্স অপারেটিং সিস্টেমের ব্যবহারের টিপস অ্যান্ড ট্রিক্স নিয়ে করা যেতে পারে ব্লগ।

এ ক্ষেত্রে বিভিন্ন জায়গা থেকে ব্লগের জন্য পাঠক পাওয়া যাবে। তবে খেয়াল রাখতে হবে আপনি যে বিষয়ে লিখছেন সেই বিষয়ে যেন খুব ভালো ধারনা রাখেন। ভুল তথ্য দেওয়া থেকে বিরত থাকতে হবে।

টিপস অ্যান্ড ট্রিকস লেখার ক্ষেত্রে খেয়াল রাখতে হবে তা যেন সহজ ও সাবলীল হয়। প্রতিটি ধাপ বুঝিয়ে দিতে লেখার সঙ্গে পর্যাপ্ত স্কিনশট বা ছবি দিলে তা খুব ভালো হবে।

কম্পিউটার প্রোগ্রামিং
কম্পিউটার প্রোগ্রামিংয়ের প্রয়োজনীয়তার কথা বলে শেষ করা যাবে না। কম্পিউটার বিজ্ঞান বিভাগে বাধ্যতামূলকভাবে এ প্রোগ্রামিং শিখতে হয়। এ জন্য অনলাইনে রয়েছে প্রচুর রিসোর্স। এত কিছুর পরেও প্রোগ্রামিং নিয়ে ব্লগিং করার রয়েছে অনেক সুযোগ।

এ জন্য খেয়াল রাখতে হবে যিনি ব্লগিং করবেন, তাকে খুব ভালো মানের প্রোগ্রামার হতে হবে। সহজভাবে উদাহরণসহ বুঝিয়ে দিতে হবে। শুরু থেকে টপিকগুলো কভার করা গেলেও প্রোগ্রামিং দিয়ে জয় করা যাবে ব্লগিংয়ের দুনিয়া।

ব্লগ জনপ্রিয় করে ফেলা গেলে সহজেই করা যাবে মনেটাইজেশন। প্রচুর প্রোগ্রামিং ল্যাঙ্গুয়েজ রয়েছে এখন। আপনি যেটিতে ভালো সেটি দিয়ে শুরু করতে পারেন।

রেসিপি ব্লগিং
বিশ্বায়নের এ যুগে আমাদের সংস্কৃতি, খাদ্যাভাস সবকিছুই দেশের গন্ডি পেরিয়ে অন্য দেশে ছড়িয়ে পড়ছে। বিদেশি খাবারগুলো জনপ্রিয় হচ্ছে দেশে। আবার আমাদের খাবারের প্রতি বিদেশিদের আকর্ষণও বাড়ছে। এক্ষেত্রে রেসিপি শেয়ার সাইটগুলো কিংবা ইউটিউব ভিডিওগুলো রাখতে পারে অনেক ভূমিকা।

সেই ভূমিকায় অবদান রাখতে পারেন আপনিও। যদি রান্না বান্না করা আপনার শখের কিংব পেশার মধ্যে পড়ে সেক্ষেত্রে এসব বিষয় নিয়েও করতে পারেন ব্লগ।

মজার আইটেম তৈরি, পরিবেশন নিয়ে লিখে বিশ্বের দরবারে পৌঁছে দিতে পারেন আপনার রান্নাগুলো।

গ্যাজেট রিভিউ
প্রযুক্তির নতুন উদ্ভাবনের খবর প্রতিদিনই আসছে। সঙ্গে যোগ হচ্ছে নতুন সব গ্যাজেট। এর মধ্যে রয়েছে ল্যাপটপ, মোবাইল, এক্সেসরিজসহ বিভিন্ন ধরনের নিত্য প্রয়োজনীয় ডিভাইস। এসব গ্যাজেট কেনার আগে ক্রেতারা এগুলো সম্পর্কে জানতে চান।

বস্তুত, ক্রেতা আগে দেখেন, পড়েন, বোঝার চেষ্টা করেন ও বাজেটের সঙ্গে মিলিয়ে নেন এরপর কেনার সিদ্ধান্ত নেন। তাই তৈরি করে ফেলতে পারেন গ্যাজেট রিভিউয়ের ব্লগ।

এ ক্ষেত্রে আপনি যে পণ্যের রিভিউ করছেন তা কেনার জন্য সঙ্গে একটা লিঙ্ক জুড়ে দিয়ে করতে পারেন এফিলিয়েশানও।

coffee

ট্যুর অ্যান্ড ট্রাভেল ব্লগিং
কোনো ট্যুরিস্ট স্পটে ট্যুর করে তার রিভিউ করার জন্য তৈরি করতে পারেন নিজের ট্রাভেল অ্যান্ড ট্যুর ব্লগ। এক্ষেত্রে যে স্পটের রিভিউ করা হচ্ছে সেই স্পটে যেতে খরচ, সেখানে কি কি আছে, সেখানে থাকার ব্যবস্থা, খাওয়া দাওয়ার ব্যবস্থা, প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের বর্ণনাসহ তৈরি করা যেতে পারে ব্লগটি।

পর্যটকরা কোনো স্থানে যাওয়ার আগে প্রথমে এসব বিষয় জেনে নিতে পছন্দ করেন। তাই এ ধরনের ব্লগগুলো পর্যটকদের পছন্দের তালিকায় থাকে প্রথম দিকেই।

হেলথ অ্যান্ড এক্সারসাইজ টিপস
কে নয়, স্বাস্থ্য সচেতন- এমন প্রশ্ন করলে নেতিবাচক উত্তর পাবার সম্ভাবনা কম। সবাই কম বেশি নিজের স্বাস্থ্যের বিষয়ে খোঁজখবর রাখেন। নিজের শরীর ঠিক রাখার জন্য চেষ্টা করেন। অন্যদিকে নারীদের পাশাপাশি এখনও পুরষও ফিগার সচেতন হয়ে উঠছেন।

এ কারণে এসব বিষয়ে খোঁজখবর নেওয়া পাঠকের সংখ্যা বাড়ছে। তাই তৈরি করে ফেলতে পারেন আপনার স্বাস্থ্য বিষয়ক ব্লগ। ছবি বা ভিডিওর মাধ্যমে করে দিতে পারেন কিভাবে এক্সারসাইজ করতে হবে সেগুলো।

কর্মব্যস্ত মানুষের জন্য সহজে স্বাস্থ্য ঠিক রাখার টিপস দিতে পারেন। নিয়মিত কোন ব্যয়াম করতে হবে তা নিয়ে তৈরি করতে টু-ডু এর মতো ব্যয়াম লিস্ট। ব্লগের কমেন্ট সেকশনে দিতে পারেন পাঠকের দরকার অনুযায়ী টিপস।

ভাষা শিক্ষা ব্লগ
পৃথিবী জুড়ে রয়েছে হাজারো ভাষা। মায়ের ভাষার পরেও আমাদের জন্য রয়েছে অন্য ভাষা শেখার সুযোগ। বিদেশে চাকরি বা শিক্ষার পাশাপাশি স্থায়ী অভিবাসনের জন্য নতুন ভাষা শেখার দরকার হয়।

আপনি কোনো ভাষায় দক্ষ হলে, ওই ভাষা শেখাতে ভালোবাসলে খুলে ফেলতে পারেন ব্লগ। এতে আপনার শখ পূরণের পাশাপাশি আয় হবে। কেননা আপনার ব্লগের জন্য পেয়ে যাবেন বড় ধরনের পাঠক শ্রেণী।

নিজের জানাকে ছড়িয়ে দিয়ে ব্লগ মনেটাইজ করে তৈরি করে নিতে পারেন পরোক্ষ আয়ের সুযোগ।rubel

১ টি মতামত

*

*

আরও পড়ুন