শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ডিজিটাল ব্যবস্থাপনায় কাজ করছে ভিভিড

ইমরান হোসেন মিলন, টেক শহর কনটেন্ট কাউন্সিলর : শিক্ষা প্রতিষ্ঠানকে ডিজিটাল করতে নিজেদের তৈরি সফটওয়্যার নিয়ে বড় পরিসরে কাজ শুরু করেছে দেশীয় সফটওয়্যার কোম্পানি ভিভিড টেকনোলজিস লিমিটেড।

অ্যাকাডেমিক এন্টারপ্রাইজ রিসোর্স প্ল্যানিং (ইআরপি) সফটওয়্যার তৈরি করে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানকে ডিজিটাল করতে কাজ করছে এই প্রতিষ্ঠান।

রাজধানীর রাজউক উত্তরা মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজ, ঢাকা রেসিডেনন্সিয়াল মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজসহ রংপুর বিভাগের ৬৫টি স্কুলে ইতোমধ্যে এই সফটওয়্যার ব্যবহার করে শিক্ষাদানের কাজ চলছে।

vivid technology ltd

ভিভিড টেকনোলজিসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) মোহাম্মদ এনামুল করিম বলেন, সফটওয়্যারটি শুধু স্কুল পর্যায়ে কাজ করার জন্য বিশেষভাবে তৈরি করা হয়েছে। প্রতিষ্ঠানগুলো বিনামূল্যে সফটওয়্যারটি ব্যবহার করতে পারবে।

এনামুল করিম জানান, দেশের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোকে ডিজিটাল করতে নামমাত্র মূল্যে তার সফটওয়্যারটি স্কুলগুলোতে সরবরাহ করেন তিনি। সফটওয়্যারটিতে ভিভিড ইতোমধ্যে প্রায় দুই কোটি টাকা বিনিয়োগ করেছে। আর এতগুলো শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে সেটার ব্যবস্থাপনার পেছনে মাসে প্রায় পাঁচ লাখ টাকা ব্যয় হচ্ছে।

সফটওয়্যারটিতে মোট ১৭টি ফিচার আছে। এগুলো অ্যাকাডেমিক কাজ পরিচালনার জন্য কাজ করে। যেমন- স্কুলের ভর্তি, শিক্ষার্থীদের তথ্য, উপস্থিতি, পরীক্ষা ব্যবস্থাপনা, নম্বর যুক্ত ও ফলাফল প্রসেস করা, বৃত্তি ও ফ্রিতে পড়া, হোস্টেল ও যাতায়াত, গ্রন্থাগার ব্যবস্থাপনা, স্কুলের ফিস সংগ্রহ, মানবসম্পদ ব্যবস্থাপনা, উদ্ভাবন, শিক্ষার্থীদের পোর্টাল, শিক্ষক ড্যাশবোর্ড, অ্যাকাডেমিক ক্যালেন্ডার, অ্যালামনাই, রুটিন ম্যানেজমেন্ট এবং এসএমএস ও ইমেইল সতর্কতা।

যেভাবে কাজ করে অ্যাকাডেমিক ইআরপি

অ্যাকাডেমিক ইআরপি ব্যবহার করতে হলে স্কুলগুলোকে একটি করে ওয়েবসাইট তৈরি করতে হয়। সেই সেবাও দেয় ভিভিড। প্রতিটি প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে পোর্টাল পরিচালনার জন্য অ্যাডমিন থাকে। এছাড়াও শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের আলাদাভাবে তথ্য জানার ব্যবস্থাও রাখা হয় সেখানে। শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের থাকে লগ ইন করার আলাদা পাসওয়ার্ড। যেটা দিয়ে শিক্ষার্থীরা প্রয়োজনীয় তথ্য পেয়ে থাকেন।

শিক্ষকরা ড্যাশবোর্ডে গিয়ে তাদের ক্লাস রুটিন, ক্লাস নেবেন কি না সেগুলো সংযোজন বিয়োজন করতে পারেন।

এছাড়াও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রতিটি বিজ্ঞপ্তি শিক্ষার্থী কিংবা তাদের অভিভাবকদের কাছে এসএমএসের মাধ্যমে পৌঁছে যায়। শুধু রাজউক উত্তরা মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজ শিক্ষার্থী ও তাদের অভিভাবকদের এই সফটওয়্যার ব্যবহার করে বছরে তিন লাখের বেশি এসএমএস করে থাকে বলে জানান এনামুল কবির।

তবে এ ধরনের সফটওয়্যার স্কুলগুলোতে ব্যবহার করতে বেশকিছু চ্যালেঞ্জের সম্মুখীন হতে হয়েছে ভিভিডকে। এটি ব্যবহার করতে স্কুলের শিক্ষকদের প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ দিলেও সঠিকভাবে তারা তা ব্যবহার করতে পারছে না।

তবে সফটওয়্যারটি ব্যবহার করে খুব অল্প খরচ ও সময়ে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো ডিজিটাল করতে পারা যাবে বলে জানান ভিভিড টেকনোলজিস লিমিটেডের এমডি।

*

*

আরও পড়ুন