বিজয়ের দিনে লাল সবুজের শুভেচ্ছায় রঙিন ফেইসবুক

Evaly in News page (Banner-2)

আহমেদ মনসুর, টেক শহর কনটেন্ট কাউন্সিলর : ‘আমি একজন মুক্তিযোদ্ধা, জীবন বাজী রেখে দেশের জন্যে লড়াই করেছি। এই লড়াইয়ে মা-বাবা হারিয়েছি, হারিয়েছি ভাই-বোনকে। আর সব হারিয়ে পেয়েছি জীবনের একমাত্র স্বজন, স্বাধীনতাকে।

কত সময় পেরিয়ে গেলো, কিন্তু লড়াই থামলো না। এখনো লড়াই করে যাচ্ছি। তবে এই লড়াই দেশ স্বাধীনের লড়াই না, এই লড়াই নিজের সন্তান বাঁচানোর!

মহান বিজয় দিবসে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেইসবুকে এই স্ট্যাটাস পোস্ট করেছেন নিলুফার ঝুমু নামের এক ব্যবহারকারী।

শুধু নিলুফার নন, তার মতো এমন আরও অনেক ব্যবহারকারী মনে করেন, এ দেশের হীন অবস্থার জন্য মানুষের হীন চরিত্রই শুধু দায়ী নয়, দায়ী এ দেশের রাজনৈতিক-প্রশাসনিক ব্যবস্থাও। তাই তাদের প্রার্থনা, স্বাধীনতার সুফল পেতে হলে এই ব্যবস্থা পাল্টানোর বিকল্প নেই।

 

facebook

নিলুফার আরও বলেন, সৎ পথে চলার লড়াই ‘অসৎ-বড়াই’ করার অর্থনৈতিক স্বাধীনতা দেয়নি। তাই অসুস্থ সন্তান বাঁচাতে দ্বারে দ্বারে ঘুরে ফিরছি সাহায্যের আবেদন নিয়ে!’

সোশ্যাল নেটওয়ার্কিং সাইটগুলোতে এমন পোস্ট প্রায়শই চোখে পড়ে। অর্থনৈতিকভাবে অসচ্ছল মুক্তিযোদ্ধাদের নিয়ে এমন গল্প থাকে মূলধারার গণমাধ্যমেও। তবু অবস্থা বদলায় না। আর সে কারণেই প্রায়ই শুনতে হয়, বেঁচে থাকার জন্য রিক্সা চালাচ্ছেন কোনো মুক্তিযোদ্ধা, আবার কোনো মুক্তিযোদ্ধা খুব প্রিয় কাউকে বাঁচিয়ে রাখার জন্য ভিক্ষা করছেন!

আমার দেশের ব্যবস্থা স্বাধীন হলে হয়ত এমন কিছু আর চোখে পড়বে না। তাই এই বিজয় দিবসেও সেই পুরনো প্রার্থনা করি, এদেশের ব্যবস্থা স্বাধীন হোক, এদেশের ব্যবস্থা স্বাধীন হোক, এদেশের ব্যবস্থা স্বাধীন হোক…

ফেইসবুক ব্যবহারকারী রাফায়েল রাজিবও তার স্ট্যাটাসে একই কথা একটু ভিন্নভাবে বলছেন, আমরা কি জানি, আমাদের গড়ে তোলা এই যান্ত্রিক নগরে প্রায় ১২ লাখ শিশু বেঁচে থাকার গ্লানি টানার দরুন তাদের অমায়িক হাসি ভুলে যাচ্ছে প্রতিদিন? এই বিজয় দিবসে আমাদের বরং উচিত, আগামীর নাগরিকদের দিকে মনযোগী হওয়া।

তবে প্রবাস আমীনের মতো ফেইসবুক ব্যবহারকারীরা মনে করেন, আমাদের অর্জন অনেক। রাজাকারদের বিচার চলছে, ফাঁসিও হয়েছে কয়েকজনের। এটাও আমাদের অর্জন। প্রবাস আমীনের ভাষায়, চোখ থেকে মুছে ফেলো অশ্রুটুকু, এমন খুশীর দিনে কাঁদতে নেই। আসলেই বিজয়ের আনন্দেও আমাদের চোখ জলে ভরে যায়, কারণ বিজয়ের আগের সপ্তাহজুড়ে তালিকা ধরে ধরে বুদ্ধিজীবীদের হত্যা করা হয়েছে। কিন্তু ৪৪ বছর পরের আজকের দিনটি অন্যরকম। যুদ্ধাপরাধীদের বিচারে জাতি গ্লানিমুক্ত হচ্ছে। বুদ্ধিজীবী হত্যার দায়ে আলবদর কমান্ডার মুজাহিদের ফাঁসি হয়েছে। আজ সত্যি আনন্দের দিন। আজ আর আমরা কাঁদবো না।

মুনির হাসানও তার পোস্টে বলছেন একই কথা, তবে একটু ভিন্নভাবে, আমরা যখন ইয়াসিন নগর থেকে আবার বাড়িতে ফিরে আসি তখন জানতে পারি, পাকিস্তানিরা আমাদের কাপাসগোলার বাড়িটা সম্পূর্ণ জ্বালিয়ে দিয়েছে। ওখানে কিছু নেই। ১৯৭২ সালে একবার সেখানে গিয়ে দেখেছি, কেবল নিচের পাকা ফ্লোরটি আছে, আর কিচ্ছুটি নেই।

১৭ ডিসেম্বর আমাদের গ্রামে কয়েকজন রাজাকারের নেতৃত্বে একদল পাকিস্তানী সৈন্য প্রবেশ করে। টের পেয়ে বাড়ির পুরুষরা মেয়েদেরসহ আমাদেরকে পেছনের বিলে পাঠিয়ে দেন। পাকিরা বিভিন্ন বাড়িতে যা পায় তা নিয়ে নেয়, যাবার সময় ডালপালা দিয়ে ঢেকে রাখা এক চাচার তিনটে বাসেও আগুন দিয়ে যায়। আর আমাদের গ্রামের কম বয়স্কদের ধরে বেঁধে নিয়ে যায়।

facebook 2

ওই সময়টাতে রাউজান কলেজে বসতো পাকিদের আর রাজাকারদের আড্ডা। সেখানে সাকার নেতৃত্বে যে কত লোককে মারা হয়েছে, আল্লাহ জানেন। একদিন যখন আমাদের গ্রাম থেকে রাজাকার আর পাকিরা রাউজান কলেজে গিয়ে ঢোকে ততক্ষণে সেখানকার পাকিদের পতন হয়। রাউজান কলেজ চলে যায় মুক্তিবাহিনীর হাতে। কাজেই রাজাকার এবং পাকিরা একসময় ধরা পড়ে। ঘটনাটা প্রায়ই মনে পড়ে, বেশি মনে পড়ে বিজয় দিবসের মতো দিনে। আজ মনে পড়লেও নেই বিশেষ কোনো ক্ষোভ। কারণ, সেই সাকা আর নেই। সবাইকে সাকামুক্ত বিজয় দিবসের শুভেচ্ছা…

ডাক ও টেলিযোগাযোগ প্রতিমন্ত্রী তারানা হালিম তার পোস্টে রক্তক্ষয়ী দিনগুলোর কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে লিখেছেন, ১৬ই ডিসেম্বর, মহান বিজয় দিবস। ১৯৭১ সালের এই দিনে পৃথিবীর বুকে বাংলাদেশ নামের একটি স্বাধীন রাষ্ট্র ভূমিষ্ঠ হয়। বাংলাদেশের এই বিজয় ছিনিয়ে আনতে দীর্ঘ নয় মাস পাক হানাদার বাহিনীর বিরুদ্ধে রক্তাক্ত যুদ্ধ করেছে এ দেশের দামাল ছেলেরা। এ যুদ্ধ ছিলো অন্যায়ের বিরুদ্ধে ন্যায়ের জন্য যুদ্ধ, পরাধীনতার বিরুদ্ধে স্বাধীনতার জন্য যুদ্ধ, মায়ের ভাষায় কথা বলার অধিকার আদায়ের জন্য যুদ্ধ। মাতৃভূমির কপালে বিজয়ের লাল টিপ পড়াতে লাখো শহীদ তাদের বুকের তাজা রক্ত ঢেলে দিয়েছে, হাজারো মা বোন সম্ভ্রম হারিয়েছেন। আজকের এইদিনে শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করি লাখ লাখ বীর শহীদের যারা তাদের বুকের তাজা রক্ত ঢেলে দিয়ে আমাদের জন্য এনে দিয়েছে স্বাধীনতা।

victory day

রাসেল টি আহমেদ তার স্ট্যাটাসে লিখেছেন, শুভ জন্মদিন, প্রিয় বাংলাদেশ। শুভ জন্মদিন, প্রিয় মাতৃভূমি। সশ্রদ্ধ সালাম সকল মুক্তিযোদ্ধাদের প্রতি, যাদের কারণেই আজ আমরা ডিজিটাল বাংলাদেশের স্বপ্ন দেখার সুযোগ পেয়েছি।

অজিত রায় লিখেছেন, লাল-সবুজ, তোমার আমার পরিচয় এবং অহংকার। বিশ্বের যে প্রান্তেই রয়েছে বাঙ্গালী (বাংলাদেশী) তাঁর রয়েছে কর্তব্য, লাল-সবুজের মর্যাদা রক্ষা করার মন। মহান বিজয় দিবসে শুভেচ্ছা, বাঙ্গালী অ-বাঙ্গালী সবাইকে…

বিজয় দিবস উপলক্ষে ফেইসবুকে এমন হাজারো পোস্ট দিয়েছেন এ দেশের ব্যবহারকারীরা। বেশিরভাগই শুভেচ্ছা জানিয়েছেন, তবে অনেকে দেশ কেন্দ্রিক নিজেদের নানা স্বপ্ন-ইচ্ছে-ভাবনার কথা জানাতেও ভুলেননি।

*

*

আরও পড়ুন