গার্লস প্রোগ্রামিংয়ে সেরা শাবিপ্রবির সাস্ট টুইংকেলস

Evaly in News page (Banner-2)

টেক শহর কনটেন্ট কাউন্সিলর : পুরো মিলনায়তনের চেয়ার দখল করে বসেছেন মেয়েরা। মঞ্চে পুরস্কার হতে দাঁড়িয়ে আছেন অতিথিরা। প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়া প্রতিটি দলের সদস্যদের মুখ শুকনো। অবশ্য অনেকের চোখমুখ থেকে ঠিকরে বেরুচ্ছে আত্মবিশ্বাস।

এমনই এক দৃশ্যপটে মাইক্রোফোনে ঘোষণা করা হয় বিজয়ী দলের নাম। সাথে সাথে উল্লাস আর হাততালিতে মুখরিত হয়ে ওঠে মিলনায়তন। বলছি, কম্পিউটার বিজ্ঞান সপ্তাহ উপলক্ষে আয়োজিত নারীদের প্রোগ্রামিং প্রতিযোগিতার সমাপনী পর্বের কথা।

শনিবার রাজধানীর ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির সোবহানবাগ ক্যাম্পাসে অনুষ্ঠিত হয় এই ‘ন্যাশনাল গার্লস প্রোগ্রামিং কনটেস্ট ২০১৫ (এনজিপিসি)’ শিরোনামের প্রতিযোগিতা।

National proggraming contest

এবারের প্রতিযোগিতায় মোট ছয়টি সমস্যার মধ্যে চারটির সমাধান করে প্রথম হয়েছে শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের দল সাস্ট টুইংকেলস।

প্রতিযোগিতায় প্রথম রানারআপ হয়েছে চট্টগ্রাম বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (চুয়েট) দল কিউট স্পার্কলেস এবং দ্বিতীয় রানারআপ হয়েছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের দল ডিইউ টিম ১।

এছাড়াও চতুর্থ হয়েছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আরেকটি দল ডিইউ টিম২, পঞ্চম হয়েছে ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্র্যাক ভার্গো, ষষ্ঠ হয়েছে নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটির এনএসইউ ন্যাক্রাস, সপ্তম হয়েছে মিলিটারি ইন্সটিটিউট অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজির এমআইএসটি ড্রিমারস, অষ্টম হয়েছে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সিইউ লিটিল বার্ডস, নবম হয়েছে ইউনাইটেড ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির ইউআইইউ পাওয়ারপুফগার্লস এবং দশম হয়েছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিইউ টিম৩ দল।

এনজিপিসি ২০১৫ এর বিজয়ীদের হাতে প্রধান অতিথি থেকে পুরস্কার তুলে দেন তথ্যপ্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক।

এ সময় পলক বলেন, প্রোগ্রামিংয়ে নারীদের পিছিয়ে থাকার সুযোগ নেই। যেভাবে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে মেধার চাহিদা বাড়ছে তাতে ভবিষ্যৎ নির্ভর করছে প্রোগ্রামিংয়ের উপর।

তিনি আরও বলেন, বিশ্বে আইটি সেক্টরে এখন নারীদের অংশগ্রহণ যেমন বেশি, তেমনি তাদের আয়ও বেশি। পুরুষের তুলনায় এখন নারীরা এই খাতে ঘণ্টায় বেশি আয় করছেন বলেও জানান তিনি।

এনজিপিসি’র আয়োজক বাংলাদেশ ওপেন সোর্স নেটওয়ার্ক (বিডিওএসএন) চ্যাম্পিয়ন হওয়া দলকে ১৫ হাজার টাকা, প্রথম রানারআপকে ১০ হাজার এবং দ্বিতীয় রানারআপকে পাঁচ হাজার টাকা পুরস্কার দেয়।

এছাড়াও গ্লোবাল ব্র্যান্ডের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিকভাবে চ্যাম্পিয়ন দলকে ১৫ হাজার টাকা, প্রথম রানারআপকে ১০ হাজার টাকা এবং দ্বিতীয় রানারআপকে পাঁচ হাজার টাকার পুরস্কার দেওয়া হয়।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে আরও উপস্থিত ছিলেন বিডিওএসএনের সাধারণ সম্পাদক মুনির হাসান, সহ-সভাপতি ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কম্পিউটার বিজ্ঞান ও প্রকৌশল বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক লাফিফা জামান, বাংলাদেশ কম্পিউটার কাউন্সিলের নির্বাহী পরিচালক আশরাফুল ইসলাম, ড্যাফোডিল বিশ্ববিদ্যালয়ের সিএসই বিভাগের প্রধান অধ্যাপক সৈয়দ আখতার হোসেন, গ্লোবাল ব্র্যান্ড বাংলাদেশ লিমিটেডের চেয়ারম্যান আবদুল ফাত্তাহসহ আরও অনেকে।

বিডিওএসএনের এই আয়োজনের সাথে সহযোগী হিসেবে ছিলো বাংলাদেশ কম্পিউটার কাউন্সিল। এছাড়াও সহযোগিতা করছে ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি, কোডমার্শাল, ইন্টারনেট সোসাইটি বাংলাদেশ, গুগল ডেভেলপার গ্রুপ বাংলা, গুগল উইমেন টেকমেকার্স ও দ্বিমিক কম্পিউটিং স্কুল এবং ম্যাগাজিন পার্টনার হিসেবে ছিলো কিশোর আলো।

এছাড়া এই প্রতিযোগিতার পৃষ্ঠপোষক হিসেবে ছিলো ইজিপেওয়ে, দোহাটেক, বর্ণ, ডাইনামিক সলিউশন্স ইনোভেটর, শিওরক্যাশ ও রকমারি ডটকম।

ইমরান হোসেন মিলন

*

*

আরও পড়ুন