Techno Header Top and Before feature image

প্রথম বিপিও সম্মেলন শুরু

টেক শহর কনটেন্ট কাউন্সিলর : প্রযুক্তি ব্যবসা পরিচালনা, উন্নয়ন ও বিনিয়োগের আদর্শ দেশ হিসেবে বিশ্ববাজারে বাংলাদেশের ব্রান্ডিংয়ে প্রথমবারের মতো শুরু হয়েছে বিজনেস প্রসেস আউটসোর্সিং (বিপিও) সম্মেলন।

বুধবার ঢাকার প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁও হোটেলে ‘বিপিও সামিট-২০১৫’ শীর্ষক দুই দিনব্যাপী সম্মেলনের উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্যপ্রযুক্তি বিষয়ক উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয়।

তথ্যপ্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলকের সভাপতিত্বে সামিটের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন ওয়ার্ল্ড ইনফরমেশন টেকনোলজি অ্যান্ড সার্ভিসেস অ্যালায়েন্সের (উইটসা) সভাপতি ও টেকনোলজি ব্যবসায় বিশেষজ্ঞ স্যানটিয়াগো গুটায়ারেজ।

আয়োজকরা জানান, ভিশন টুয়েন্টি টুয়েন্টিওয়ান বাস্তবায়নের দ্বারপ্রান্তে থাকা বাংলাদেশের তথ্যপ্রযুক্তি উন্নয়ন যে বিশ্বের বড় বড় কর্পোরেট ও ব্যক্তি মালিকানার প্রতিষ্ঠানগুলোর পরিচালনা, গ্রাহকসেবা এবং ব্যবসায়িক স্থাপনার জন্য প্রস্তুত-তারই দৃশ্যায়ন হবে এই সম্মেলনে।

পাশাপাশি ডিজিটাল বাংলাদেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নের অবদানে বিপিওকে পরিচিত করা, তরুণদের আগ্রহী করা ও উদ্যোক্তাদের বৈশ্বিক পরিচিতির সুযোগ দেয়াও আন্তজাতিক এই সম্মেলনের উদ্দেশ্য।

তথ্যযোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগ এবং বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব কল সেন্টার অ্যান্ড আউটসোর্সিং (বাক্য) যৌথভাবে এই সম্মেলনের আয়োজক।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে সজীব ওয়াজেদ জয় বলেন, বাংলাদেশকে তথ্যপ্রযুক্তিতে এগিয়ে নেওয়ার জন্য বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে সরকার। ২০০৯ সালে দেশের তথ্যপ্রযুক্তি খাতের আয় ছিল মাত্র ২৬ মিলিয়ন ডলার। ৬ বছরের মধ্যে এই খাতে আয় ৩০০ মিলিয়ন ডলারে উন্নীত হয়েছে। ২০২১ সালের মধ্যে ১ বিলিয়ন ডলার আয়ের লক্ষ্য নিয়ে কাজ করছি আমরা।

তিনি বলেন, বর্তমানে বিপিও সেক্টরে ২৫ হাজার লোক কাজ করছে। ২০২১ সালের মধ্যে এই খাতে ২ লাখ লোক কাজ করবে। বিপিও খাতে আয় যত বাড়বে দেশ অর্থনৈতিকভাবে ততই এগিয়ে যাবে। তরুণদের উচ্চতর প্রশিক্ষণ দিয়ে তথ্যপ্রযুক্তির বিভিন্ন খাতে কাজে লাগাতে হবে।

bpo summit

স্যানটিয়াগো গুটায়ারেজ বলেন, বাংলাদেশ তথ্যপ্রযুক্তি ক্ষেত্রে অনেক ভালো করছে। বাংলাদেশের বিপিও খাতসহ তথ্যপ্রযুক্তির সার্বিক উন্নয়নে উইটসা সহযোগিতা করবে। তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবসা এখানে খুবই গতিশীল। সরকারও এই খাত নিয়ে উৎসাহী। আগামী কয়েক বছরের মধ্যে বাংলাদেশ তথ্যপ্রযুক্তি জগতে নেতৃত্বের জায়গায় যাবে। বাংলাদেশে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে পর্যাপ্ত অবকাঠামোর অভাব রয়েছে। বিশেষ করে যাতায়াত ব্যবস্থা। এ খাতকে এগিয়ে নেওয়া জন্য এই বিষয়গুলো আরও উন্নতি করতে হবে।

তিনি জানান, বাংলাদেশের স্বাধীনতার ৫০ বছর পূর্তি উপলক্ষে ২০২১ সালে উইটসার সম্মেলন বাংলাদেশ অনুষ্ঠিত হবে।

সভাপতির বক্তব্যে জুনাইদ আহমেদ পলক বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ২০০৮ সালে  ‘ডিজিটাল বাংলাদেশ’ গড়ে তোলার ঘোষণা দেন। তিনি ২০২১ সালকে এর লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেন। সেই লক্ষ্যে তথ্যপ্রযুক্তি বিভাগ বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। বিভাগের পক্ষ থেকে তরুণদের প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে। আগামী বছরের মধ্যে দেশে কয়েক হাজার প্রোগ্রামার তৈরি করা হবে।

পলক বলেন, শিক্ষার্থীদের মাঝে প্রযুক্তির আলো ছড়িয়ে দেওয়ার জন্য ৬ষ্ঠ শ্রেণী হতে কম্পিউটার শিক্ষা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।

প্রতিমন্ত্রী জানান, এই সামিটে বেশ কিছু লক্ষ্য রয়েছে। এগুলোর মধ্যে অন্যতম হলো দেশী এবং বিদেশী বিনিয়োগকারীদের এই সেক্টর সম্পর্কে ভালো একটি ধারণা দেওয়া। বাংলাদেশে বিপিও সেক্টরে সাফল্যের গল্পগুলো মানুষকে জানানো। দেশের তরুণদের এই সেক্টরের কাজের ক্ষেত্র হিসেবে পরিচয় করিয়ে দেওয়া। বিপিও সেক্টরে এগিয়ে যেতে পারলে ‘ভিশন ২০২১’ লক্ষ অর্জন করা সম্ভব, সেই বিষয় সরকার ও সাধারণ মানুষকে সচেতন করা।

অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয় সংক্রান্ত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির চেয়ারম্যান ইমরান আহমেদ, তথ্যপ্রযুক্তি সচিব শ্যাম সুন্দর সিকদার, এফবিসিসিআই’র সভাপতি আব্দুল মাতলুব আহমাদ, বাক্যের সভাপতি আহমাদুল হক।

দুই দিনের এই সম্মেলনে দেশীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে খ্যাতনামা ৪০ জনেরও বেশি বক্তাগণ বিভিন্ন সেশনে স্পিকার থাকবেন।

স্পিকারদের মধ্যে রয়েছেন, তথ্যপ্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক, ইন্টারন্যাশনাল ফেডারেশন অব অ্যাকউন্টস এর সিইও ফায়েজুল চৌধুরী, এফবিসিসিআইয়ের প্রেসিডেন্ট আবদুল মাতলুব আহমেদ, অস্ট্রেলিয়ান বিপিও অ্যাসোসিয়েশনের সাবেক প্রেসিডেন্ট মার্টিন এন কনবয়, বাংলাদেশ কম্পিউটার সমিতির অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা এবং এশিয়ান-ওশেনিয়ান কম্পিউটিং ইন্ডাস্ট্রি অর্গানাইজেশনের (অ্যাসোসিও) সাবেক চেয়ারম্যান আব্দুল্লাহ এইচ কাফী, প্রধানমন্ত্রী কার্যালয়ের অ্যাকসেস টু ইনফরমেশন(এটুআই) প্রকল্পের পলিসি অ্যাডভাইজার আনীর চৌধুরী, বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ড. আতিউর রহমান, ইনফোসিস এর এমডি ও সিইও ড. বিশাল সিক্কা, তথ্যপ্রযুক্তিবিদ মোস্তাফা জব্বার, বেসিস সভাপতি শামীম আহসান, মাইক্রোসফটের এমডি এবং টাই বাংলাদেশের প্রতিষ্ঠা সভাপতি সোনিয়া নিশাত কবির, আন্তর্জাতিক টেলিকমিউনিকেশন ও টেকনোলজি ব্যবসায় বিশেষজ্ঞ স্যানটিয়াগো গুটায়ারেজ, ডাটাবেইজ মার্কেটিং এবং কাস্টমার রিলেশন ম্যানেজমেন্ট সলিউশন বিশেষজ্ঞ রাজমোহন ভি, বিনোদ হ্যামপাপুর র‌্যাঙ্গাদোর, শ্রী দয়া খালসা। এছাড়া তথ্যপ্রযু্ক্তি ব্যবসায় সেক্টরের অনেক বিশেষজ্ঞগণও এই সম্মেলনে বক্তব্য রাখবেন।

সম্মেলনে বিভিন্ন সেশনগুলোর মধ্যে রয়েছে, স্টার্ট আপস, বাংলাদেশ ইয়ুথ টু ড্রাইভ বিপিও ইন্ডাস্ট্রি, অপরচুনেটিজ অ্যান্ড চ্যালেঞ্জেস ইন ব্যাংকিং আউটসোর্সিং, কানেক্টিং দ্যা আনট্যাপড স্কিল : পলিটেকটিক, ভোকেশনাল অ্যান্ড টেকনিক্যাল, ইনফ্রাসট্রাকচারাল অ্যান্ড অপারেশনাল রিডিনস, ফিউচার চ্যালেঞ্জেস অব বিপিও ট্রান্সফরমেশন, ইনোভেশন ইকোসিস্টেম-অ্যাক্সিলারেশন অ্যান্ড ইনকিউবিটরস, রোল অব হায়ার এডুকেশন ইন্সিটিউশনস ফর বিপিও ইন্ডাস্ট্রি, এন্টারপ্রেইনারশিপ অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট, দ্যা অপরচুনেটিজ অব আউটসোর্সি ক্লায়েন্ট সার্ভিসেস ফ্রম আইটি পার্সপেক্টিভ, গ্লোবাল বিপিও ইন্ডাস্ট্রি বেস্ট প্রাক্টিসেস, দ্যা অপরচুনেটিজ ইন দ্যা ডোমেস্টিক মার্কেট ফর দ্যা বিপিও। এসব সেশন ছাড়াও সম্মেলনে বিপিও সেক্টরের বহুমাত্রিক সম্ভাবনার নানা বিষয় নিয়ে আলোচনা থাকছে।

এই সম্মেলনে চাকরি প্রার্থীদের জন্য থাকছে স্পট ইন্টারভিউয়ের ব্যবস্থা। এর মধ্যে ২০০ জন শিক্ষার্থীকে বিভিন্ন কল সেন্টারের চাকরির নিয়োগপত্র দেওয়া হবে। এজন্য দেশের ১৫টি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে প্রায় সাত হাজারের মতো সিভি সংগ্রহ করেছে আয়োজকরা।

সম্মেলনের সহযোগী হিসাবে আছে প্রধানমন্ত্রী কার্যালয়ের একসেস টু ইনফরমেশন (এটুআই) প্রোগ্রাম, বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের বিজনেস প্রমোশন কাউন্সিল (বিপিসি) ও এক্সপোর্ট প্রমোশন ব্যুরো (ইপিবি)।

আয়োজনে গোল্ড স্পন্সর হিসাবে আছে এডিএন গ্রুপ, জিনেক্স ইনফোসিস লিমিটেড। সিলভার স্পন্সর সামিট কমিউনিকেশনস লিমিটেড, সিসকো সিস্টেমস, এনআরবি কমার্শিয়াল ব্যাংক লিমিটেড, বাংলাদেশ হাইটেক পার্ক কর্তৃপক্ষ, টেলিটক, এয়ারটেল এবং আইটি পার্টনার আমরা কোম্পানিজ ও নেটওয়ার্ক পার্টনার ফাইবার এট হোম।

অংশীদার হিসেবে যুক্ত হয়েছে বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব সফটওয়্যার অ্যান্ড ইনফরমেশন সার্ভিসেস (বেসিস), বাংলাদেশ কম্পিউটার সমিতি (বিসিএস), বাংলাদেশ আইসিটি জার্নালিস্ট ফোরাম (বিআইজেএফ), বাংলাদেশ ওমেন ইন টেকনোলজি (বিডব্লিউআইটি), সিটিও ফোরাম বাংলাদেশ, ই-কমার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ই-ক্যাব), ফেডারেশন অফ বাংলাদেশ চেম্বারস অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজ (এফবিসিসিআই), আইএসপি অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (আইএসপিএবি) ও বাংলাদেশ মোবাইল ফোন ইমপোর্টারস অ্যাসোসিয়েশন (বিএমপিআইএ)।

আল-আমীন দেওয়ান

*

*

আরও পড়ুন