Techno Header Top and Before feature image

বিশ্ববাজারে বাংলাদেশের নতুন সম্ভাবনার জানান দেবে বিপিও সামিট

Evaly in News page (Banner-2)

বাংলাদেশের বিপিও শিল্পের সম্ভাবনা, সমস্যা, করণীয় ও বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে ‘বিপিও সামিট-২০১৫’ এর গুরুত্ব নিয়ে কথা বলেছেন প্রথম এই সামিটের অন্যতম আয়োজক বাক্য’র সাধারণ সম্পাদক তৌহিদ হোসেন। সাক্ষাতকার নিয়েছেন আল-আমীন দেওয়ান।

বিপিও বা বিজনেস প্রসেস আউটসোর্সিং। শিল্প হিসেবে বিশ্বব্যাপী যথেষ্ট সম্ভবনার। আগামী দিনের টেকসই শিল্পগুলোর মধ্যে বলতে গেলে উপরের দিকেই অবস্থান থাকবে বিপিও’র।  বাংলাদেশে এই খাতটি একেবারে নতুন না হলেও অনেকাংশেই নবীন।

এই বিপিও খাতটি নিয়ে দেশে প্রথমবারের মতো আয়োজন করা হয়েছে আন্তর্জাতিক সামিট।  তথ্যপ্রযুক্তি বিভাগ এবং বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব কল সেন্টার অ্যান্ড আউটসোর্সিং (বাক্য) সামিটের যৌথ আয়োজক।  ঢাকার প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁও হোটেলে ৯ ডিসেম্বর হতে দুই দিনের এই ‘বিপিও সামিট বাংলাদেশ-২০১৫’ ।

বাংলাদেশের বিপিও শিল্পের শুরু, বর্তমান অবস্থা, সম্ভাবনার ক্ষেত্র, সরকারের ভূমিকা, দেশীয় ও আন্তর্জাতিক বাজার, জনশক্তি ও শিক্ষা ব্যবস্থা নিয়ে টেকশহরের সাথে খোলামেলা আলোচনা করেছেন এই খাতের অন্যতম উদ্যোক্তা, টেলিকম খাত বিশেষজ্ঞ ও বাক্য’র সাধারণ সম্পাদক তৌহিদ হোসেন।

টেকশহর : বিপিও খাতে বাংলাদেশের শুরুটা কেমন ছিল?

তৌহিদ হোসেন : বাংলাদেশে এই প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে মাত্র ২০০৮ সালের গোড়ার দিকে। ২০০৮ সালের মার্চে বিপিও খাতের জন্য লাইসেন্স দেয়া শুরু করে সরকার। তখন মাত্র পাঁচ হাজার টাকায় লাইসেন্স দেয়া হয়। তাতে করে যাকে বলে বলে সস্তার তিন অবস্থা হয়। ৪০০ এর বেশি প্রতিষ্ঠান বুঝে না বুঝেই লাইসেন্স নেয়। এদের বেশিরভাগই ভুল ধারণার বশবর্তী হয়ে লাইসেন্স নিয়ে কাজ শুরু করে। সেই সময়ে কাজে নামা ৪৫-৫০টি প্রতিষ্ঠানের ধারণা ছিল ব্যবসাটা খুব সহজ। কিন্তু তাতো একেবারেই নয়। এখানে অবকাঠামো থেকে অপারেশনস সব মিলিয়ে বিনিয়োগ যথেষ্টই। উদ্ভুত পরিস্থিতি তাদের কেবল ভুলই ভাঙায় না মোহভঙ্গও ঘটায়।

টেকশহর : বর্তমানে বিপিও খাতে কতদূর এগিয়েছে বাংলাদেশ?

তৌহিদ হোসেন : এখনও পর্যন্ত এর অগ্রগতিকে তুলনামূলকভাবে মন্থরই বলতে হবে। বস্তুত বর্তমান সরকারের ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার মানসে নেয়া পদক্ষেপ এই শিল্পখাতের জন্য আশীর্বাদ হয়েছে। ফলে অল্প সময়েই আশাব্যঞ্জক পরিবর্তন লক্ষ্য করা যাচ্ছে।

মাত্র ৭০০ কর্মচারী নিয়ে শুরু করে বর্তমানে এই খাতে কর্মীসংখ্যা অন্তত ২৫ হাজার। শুরু হয়েছিল কল সেন্টার দিয়ে। আজ এই খাত আর সেখানে দাঁড়িয়ে নেই। বরং সেবায় বৈচিত্র এসেছে। প্রতিনিয়ত যোগ হচ্ছে নানা ধরণের আউটসোর্সিংয়ের কাজ। দেশে যেমন বাজার বিস্তার ঘটছে তেমনি আন্তর্জাতিক বাজারও বাড়ছে। বহির্বিশ্বে বাংলাদেশ আকর্ষণীয় বিপিও গন্তব্য হিসাবে স্বীকৃত হতে শুরু করেছে। এই খাতের আর্ন্তজাতিক র‌্যাঙ্কিংয়ে ক্রমেই উপরের দিকে উঠে আসছে। বিশ্বের বিভিন্ন জরিপ প্রতিষ্ঠানগুলো বাংলাদেশকে নিয়ে আশাবাদ ব্যক্ত করে চলেছে।

টেকশহর : বিপিও খাতে বাংলাদেশের সম্ভাবনার ক্ষেত্রগুলো কি কি?

তৌহিদ হোসেন : বাংলাদেশের অনেকগুলো বিশেষ ইতিবাচক দিক রয়েছে । এক. বর্তমানে বিশ্বের উদীয়মান বিপিও দেশগুলোর মধ্যে তুলনামূলকভাবে ব্যয় সাশ্রয়ী। দুই. এই খাতের চালিকাশক্তি তরুণ প্রজন্ম। বাংলাদেশে এখন তাদের সংখ্যা সাড়ে পাঁচ কোটি। তিন. সরকার এই শিল্পখাতকে অগ্রাধিকার তালিকায় রেখেছে। চার. টাইম জোনের দিক থেকে বাংলাদেশ ভৌগলিক অবস্থানভাবে সুবিধাজনক অবস্থায় রয়েছে।

এখন প্রশ্ন হলো, এই সম্ভাবনা এবং সুবিধাকে কাজে লাগিয়ে দেশি এবং বিদেশী ভোক্তাদের সেবা দেয়ার মতো অবকাঠামোগতভাবে (নেটওয়ার্ক, কানেকটিভিটি, লজিস্টিকস আর স্পেস) শক্তিশালী অবস্থানে আমরা আছি কিনা। কিংবা এই শিল্পখাত পরিচালনায় আমরা কতটা পারঙ্গম। এখন এসব গুরুত্বপূর্ণ বিষয় যৌক্তিক এবং বাস্তবিকভাবে পর্যালোচনার এখনই সঠিক সময়।

আগামী দশককে লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করে এগোতে পারলে আন্তর্জতিক বিপিও বাজারে বাংলাদেশ একটা অবস্থান করে নিতে পারবে। বর্তমান বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে আমাদের উপস্থিতি উল্লেখ করার মতো নয়। বিশ্বজুড়ে এখন ৫০ হাজার কোটি ডলারেরও বেশি এই বাজারে আমাদের অংশীদারিত্ব মাত্র ০.০৪ শতাংশ। যেখানে ভারত আমাদের চেয়ে ১৮৫ আর ফিলিপাইন ১৬৫ গুণ এগিয়ে। শ্রীলঙ্কাও বেশ এগিয়ে আছে আমাদের থেকে। তাদের বার্ষিক টার্নওভার ২০০ কোটি ডলার। আমাদের আপাতত লক্ষ্য ২০২১ সালের মধ্যে ১০০ কোটির শিল্পখাত হিসাবে আত্মপ্রকাশ করা।

BACCO T

টেকশহর : ঠিক এই পরিস্থিতিতে বাংলাদেশের করণীয় কি হওয়া উচিত বলে মনে করেন?

তৌহিদ হোসেন : আপাতত আমাদের করণীয় হবে- এক. নতুন নতুন উদ্ভাবন আর বেস্ট প্র্যাকটিসগুলোকে গ্রহণ করা, সঠিক মূল্যমান প্রস্তাবনা আর পরিবেশের নিশ্চয়তায় দেশি ও বিদেশী বিনিয়োগকারী এবং ভোক্তাদের আকৃষ্ট করা। ২. মধ্যম আয়ের ক্যারিয়ার হিসাবে এই খাতটি কতখানি উপযুক্ত সেটা স্পষ্ট করে তরুণদের বোঝানো এবং গণমাধ্যমের সহায়তায় এই খাত সম্পর্কে প্রচারণা চালানো। ৩. ভিশন ২০২১ বাস্তবায়নে বিপিও কতটা কার্যকর আর উপযোগী হতে পারে সে বিষয়ে দেশজুড়ে সচেতনতা সৃষ্টি। এবং ৪. নানা উপলক্ষ্য আর উদযাপনের মধ্যে দিয়ে নিয়মিতভাবেই আমাদের বিপিও ইন্ডাস্ট্রির সাফল্যকে দেশে এবং বিদেশে তুলে ধরা। বিপিও মহাসম্মেলন এক্ষেত্রে একটা বড় প্ল্যাটফর্ম, সন্দেহ নেই।

টেকশহর : বিপিও খাতের উন্নয়নে সরকার কীভবে সহযোগিতা করতে পারে?

তৌহিদ হোসেন : বিপিও খাতের শীর্ষ উদ্যোক্তারা এর ভবিষ্যত বাজার বৃদ্ধির ব্যাপারে স্থির নিশ্চিত। তবে ভবিষ্যতের ব্যবসা পরিচালনা এবং তা থেকে সুফল তোলার জন্য প্রয়োজনীয় প্রতিটি বিষয়কে নিশ্চিত করতে হবে সরকারকে। এখানে ঘুরেফিরে আবারও অবকাঠামোর কথা আসে। এটা গুছিয়ে দেয়ার দায়িত্ব অবশ্যই সরকারের। বিশ্বায়নের চলমান প্রক্রিয়ায় সরকারকে আরো সক্রিয় হয়ে আধুনিক মনোভাব নিয়ে দ্রুত এগোতে হবে। বিনিয়োগকারীরা বাংলাদেশের অবকাঠামো, বিনিয়োগবান্ধব নীতিমালাকে ভালো বলার আগেই তা নিশ্চিত করে রাখতে পারলে অর্ধেক কাজ হাসিল হয়ে যাবে বলেই মনে করছেন বাজার বিশ্লেষকরা। ঠিক এই কাজটা অন্যান্য দেশ করছে। ভারত আর ফিলিপাইনের কথা না হয় বাদই দেয়া গেল। এক্ষেত্রে বরং শ্রীলঙ্কা হতে পারে আমাদের জন্য যুতসই উদাহরণ।

তবে আশার কথা সরকার অবশ্য বাংলাদেশের বিপিও খাতের অগ্রযাত্রাকে নির্বিঘ্ন করার ব্যাপারে যথেষ্ট তৎপর। ইতোমধ্যে প্রাইভেট সেক্টর ডেভেলপমেন্ট সাপোর্ট প্রজেক্ট (পিএসডিএসপি)-এর আওতায় ইন্টারন্যাশনাল ডেভেলপমেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের কাছ থেকে স্পেসিফিক ইনভেস্টমেন্ট লোন (এসআইএল) নিয়ে তথ্যপ্রযুক্তি খাতের উন্নয়নের কাজ সরকার বেশ আগেই শুরু করে দিয়েছে। অত্যাধুনিক অবকাঠামো নির্মাণের মাধ্যমে তথ্যপ্রযুক্তি, তথ্যপ্রযুক্তিগত সেবা ও হাইটেক ম্যানুফ্যাচারিংয়ে বিনিয়োগকারীদের আকৃষ্ট করার পাশাপাশি দক্ষ জনশক্তি তৈরির পরিকল্পনা বাস্তবায়নের কাজ চলছে গৃহীত ঋণের অর্থে। অন্যদিকে বাংলাদেশ হাইটেক পার্ক অথরিটি (বিএইচটিপিএ) হাইটেক পার্ক ও দেশের বিভিন্ন স্থানে আইটি পার্ক গড়ে তোলার দায়িত্ব নিয়েছে। কালিয়াকৈরে ২৩২ একর জমিতে প্রথম হাইটেক পার্ক নির্মাণের কাজ চলছে। সেখানে যাতায়াতের ব্যবস্থাও করা হচ্ছে। ঢাকা থেকে কালিয়াকৈর ট্রেন লাইন হচ্ছে। পাশাপাশি কাওরান বাজারের জনতা টওয়ার, যশোর, সিলেট, রাজশাহীসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় আইটি পার্ক গড়ে তুলবে সরকার। গত বছরের সেপ্টেম্বরে এসব পদক্ষেপ নেয়ার পর তা দ্রুত বাস্তবায়নের কাজ চলছে। বাজার উপযোগী এবং প্রস্তুত জনবল তৈরিও সরকারের অগ্রাধিকারের তালিকায় রয়েছে। এজন্য বিভিন্ন ধরণের ট্রেনিং কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।

সরকারের আরও দায়িত্ব রয়েছে। অবকাঠামো তৈরি করে দিয়ে যেমন এই খাতের উন্নয়নে ভূমিকা রাখার পাশাপাশি সরকারের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের কাজ তৃতীয়পক্ষ দিয়ে করিয়ে এই আউটসোর্সিং শিল্পখাতে অগ্রযাত্রায় সক্রিয় শরিক সরকার হতে পারে। জনগণকে উন্নত সেবা দেয়ার জন্য ডিজিটাল বাংলাদেশের ধারণাকে বাস্তবসম্মত উপায়ে কাজে লাগাতে হলে সরকারের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের কাজকে তৃতীয়পক্ষকে দিয়ে করানো ছাড়া সত্যিই বিকল্প নেই। তাতে করে সময়, অর্থ দুটোই বাঁচবে, সিস্টেম লস হ্রাস পাবে।  সরকারের ভোক্তাসেবা আরও সহজ এবং অবাধ হওয়ার মধ্যে দিয়ে জনগণের হয়রানি কমবে। সাধারণ মানুষ খুশি থাকবে।

T-2

টেকশহর : বিপিও শিল্পের দেশীয় বাজার সম্পর্কে বলুন।

তৌহিদ হোসেন : বাস্তবতা বলছে সরকারের কোনো একটি প্রতিষ্ঠানের কাজ দিয়েই অসংখ্য বিপিও প্রতিষ্ঠান দাঁড়িয়ে যেতে পারে। সত্যিই এই মুহুর্তে সরকারের প্রচুর কাজও রয়েছে। বাজার বিশেষজ্ঞদের অভিমত, আগামী দশ বছরে অভ্যন্তরীন বিপিও বাজারে অন্তত ৬০ শতাংশ কাজ আসা উচিত সরকারের কাছ থেকে। সরকার ছাড়াও তো রয়েছে অর্থনৈতিক প্রতিষ্ঠানসহ অন্যরা। তারপরও থেকে যায় বিদেশী বাজার। সেটা ধরার জন্য সরকারকে দ্বিতীয় সাবমেরিন কেবল স্থাপনের ব্যাপারে আরও সক্রিয় হতে হবে। এক্ষেত্রে সরকারকেই যে এ কাজে হাত লাগাতে হবে তেমনটা মনে করেন না বিশেজ্ঞরা। বরং তারা মনে করছেন সরকারের উদ্যোগটাই মূল। যেকোনো আগ্রহী প্রতিষ্ঠানকে দিয়ে কাজ করিয়ে নেয়া যেতে পারে। সেক্ষেত্রে তারা তাদের লাভ বুঝে নিলেও অবকঠামোটা আমাদেরই থেকে যাবে। অবাধ তথ্যপ্রবাহের উত্তরোত্তর সুবিধা আউটসোর্সিং খাতের উন্নয়ন এবং বৃদ্ধি ত্বরান্বিত করবে।

এদিকে বলার অপেক্ষা রাখে না, বাংলাদেশের রাষ্ট্রায়ত্ব ও বেসরকারি ব্যাংক এবং আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো তাদের কোর ব্যাংকিংটা নিজেদের কাছে রেখে বেশিরভাগ কাজ তৃতীয়পক্ষকে দিয়ে করিয়ে নিতে। বাইরের দেশের আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো এভাবেই তাদের অপারেশনস চালাচ্ছে। আসলে কার্যকর এই পদ্ধতি সেবার মান বাড়ায়। সেবা দ্রুততর হয়। ভোক্তা খুশি থাকে। পরিচালনা ব্যয় কমার ফলে মুনাফা বাড়ে। ফলে কম সুদে ঋণ সম্ভবপর হয়। অন্যদিকে ভোক্তাকে অধিক সুদ দিয়ে আরেকভাবে সন্তুষ্টও রাখা যায়।

এখনও পর্যন্ত যেসব খাত বিপিও সেবা গ্রহণ করেছে তার মধ্যে সর্বাগ্রে আছে টেলিকমিউনিকেশন। এছাড়া ট্র্যাভেল অ্যান্ড টুরিজম, মিডিয়া অ্যান্ড এন্টারটেইনমেন্ট, হেলথকেয়ার, আর্থিক প্রতিষ্ঠান, এনার্জি অ্যান্ড ইউলিটি, ইন্টারনেট সার্ভিব প্রভাইডার, ওয়েবপোর্টাল, সরকার, পরিবহন ইত্যাদি।

এসব খাতের মধ্যে উল্লেখ্যযোগ্য কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের নাম করা যেতেই পারে। যাদেরকে বাক্য এর সদস্যরা সফলভাবে সেবা দিয়েছে। এই তালিকায় আছে সবকটি মোবাইল ফোন অপারেটর- এয়ারটেল, বাংলালিংক, গ্রামীণফোন, রবি, সিটিসেল, টেলিটক, ব্রিটিশ অ্যামেরিকান টোবাকো, ইউনিলিভার, নেসলে, কিউবি, বিকাশ, বিক্রয় ডটকম, স্যামসাং, ইউএনডিপি, আইএফসি, প্রাণ, বিমান বাংলাদেশ, ট্রান্সকম, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় ও আকিজ গ্রুপ।

car_bacco

টেকশহর : বিপিও শিল্পের উন্নয়নের সাথে শিক্ষা ব্যবস্থার ভূমিকা কেমন হওয়া উচিত?

তৌহিদ হোসেন : বর্তমানে বাংলাদেশে ৯৬টি (৩৪ সরকারি ও ৬২ বেসরকারি) বিশ্ববিদ্যালয় থেকে প্রতি বছর অন্তত দুই লাখ গ্রাজুয়েট বের হচ্ছে। এদের মধ্যে কম করে হলেও তথ্যপ্রযুক্তি বিষয়ে গ্রাজুয়েট এবং পোস্ট গ্রাজুয়েট হচ্ছে ১৫ হাজার। আর অন্তত হাজার পাঁচেক ছাত্র রয়েছেন যারা সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের মতো বিশেষায়িত ডিগ্রি অর্জন করছেন। মোট গ্রাজুয়েটদের ৪৭ শতাংশই বিজ্ঞান, ডাক্তারি, ইঞ্জিনিয়ারিং এবং কৃষিতে। বাংলাদেশের বেশিরভাগ ছেলেমেয়েরাই বাংলা মাধ্যমে পড়ে থাকে। ইংরেজি এদের দ্বিতীয় ভাষা। এরাই কিন্তু বাংলাদেশের বিপিও ইন্ডাস্ট্রির জন্য তৈরি জনশক্তি। এদেরকে কোয়ালিটি রিসোর্স হিসাবে গণ্য করা যেতে পারে।

আমাদের দেশে গতানুগতিক শিক্ষার প্রতি অদ্ভুত আকর্ষণ লক্ষ্য করা যায়। অথচ এদের একটা বড় অংশেরই শিক্ষাটা কোন কাজে আসে না। এমনকি যে খাত নিয়ে আমরা কথা বলছি, ভবিষ্যতের স্বপ্ন দেখছি সেই খাতের জন্যও তারা সেই অর্থে উপযোগী নয়। বরং তাদেরকে পুনরায় দক্ষ করে তুলতে হবে নানান ক্যাপাসিটি বিল্ডিং ট্রেনিংয়ের মধ্য দিয়ে।

এই খাতের জন্য প্রয়োজন আসলে আইটি ও ম্যানেজমেন্ট স্কিল, ফাস্ট ট্র্যাক ফিউচার লিডারশিপ, সি লেভেল ম্যানেজমেন্ট ট্রেনিং (লোকাল ও ইন্টারন্যাশনাল)। এই বিষয়গুলোতে দক্ষ করে তোলা সম্ভব বৃত্তিমূলক শিক্ষাব্যবস্থায়। বর্তমানে সরকার দাতাসংস্থাদের অর্থায়নে বিশেষ প্রকল্প হাতে নিয়েছে। সেখানে ৭টি অগ্রাধিকার খাতের মধ্যে রয়েছে আইটি এবং আইটিইএস। ৫০ লাখ মার্কিন ডলার ব্যয়ে ১৫ লাখ তরুণকে টপ আপ এবং ম্যানেজমেন্ট ট্রেনিং দেয়া হবে।

তবে এসবের প্রয়োজন হয় না যদি বিশ্ববিদ্যালয়গুলো তাদের শিক্ষাক্রমে আইটি ও সফটস্কিলকে অন্তর্ভূক্ত করে। এই খাতের একটি স্তম্ভই হলো ট্রেনিং ইনস্টিটিউট। তথ্যপ্রযুক্তি বিভাগ এমন ট্রেনিং কর্মসূচি হাতে নিয়েছে। বাক্য এটাকেই নীতিগতভাবে ট্রেনিং ইন্সটিটিউটের ফ্রেমওয়ার্ক হিসাবে গণ্য করছে। ভার্চুয়াল ট্রেনিং, প্র্যাকটিকাল ট্রেনিং, বিডিআইটি ইঞ্জিনিয়ার্স এগজামিনেশন (আইটইই) বা অন্যান্য দেশী ও বিদেশী সার্টিফিকেশন আর ট্রেনারদের ট্রেনিং দিতে হবে।

বাংলাদেশে বিপিও সেক্টরে যে ধরণের ওয়ার্কফোর্স প্রয়োজন তারা উচ্চমাধ্যমিক পর্যায় শেষ করা বা গ্রাজুয়েট হলেই চলে। এই সংখ্যাটাই সবচেয়ে বেশি। অন্তত ৫০ শতাংশ। এর বাইরে এসএসসি, গ্রাজুয়েট, মাস্টার্স ডিগ্রি আর ডিপ্লোমা ডিগ্রিধারী মিলিয়ে বাকী ৫০ শতাংশ।

তবে বাংলাদেশে বেশ কিছু বহুজাতিক প্রতিষ্ঠান তাদের কাজের বেলায় গ্রাজুয়েট বা ডিপ্লোমাধারীদের অগ্রাধিকার দেয়। অনেকে আবার টোফেল স্কোরকে বাধ্যতামূলক করেছে।

টেকশহর : আপনাকে ধন্যবাদ।

তৌহিদ হোসেন : টেকশহরকেও ধন্যবাদ।

*

*

আরও পড়ুন