Techno Header Top and Before feature image

আউটসোর্সিংয়ে নবীনদের পাশে থাকবেন দেশসেরা ৩ নারী

Evaly in News page (Banner-2)

ইমরান হোসেন মিলন, টেক শহর কনটেন্ট কাউন্সিলর : তথ্যপ্রযুক্তিতে অনেকটাই এগিয়েছে দেশ। এর পেছনে বড় অবদান তরুণদের। এ খাতে তাদের অংশগ্রহণ বাড়ছে। জনপ্রিয় হয়ে ওঠা তথ্যপ্রযুক্তি খাতের কাজগুলোর মধ্যে ক্রমে ফ্রিল্যান্সিংকে পেশা হিসেবে বেছে নিচ্ছেন অনেকেই।

এসব ফ্রিল্যান্সার আউটসোর্সিং করে নিজের জীবিকা নির্বাহের পাশাপাশি বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করছেন। এদের উৎসাহ দিতে বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব সফটওয়্যার অ্যান্ড ইনফরমেশন সার্ভিসেস (বেসিস) পঞ্চমবারের মতো দিয়েছে ‘বেসিস আউটসোর্সিং অ্যাওয়ার্ড ২০১৫’।

২০১১ সাল থেকে প্রতি বছর এ পুরস্কার দিচ্ছে বেসিস। সোমবার বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে দেশ সেরা ৯৪ ফ্রিল্যান্সার ও আউটসোর্সিং প্রতিষ্ঠানকে পুরস্কৃত করা হয়।

এ কাজে পিছিয়ে নেই নারীরাও। এবার দেশসেরা ফ্রিল্যান্সারের মর্যাদা পেয়েছেন তিন নারী। সন্ধ্যা রায়, অজান্তা রিজওয়ানা মির্জা এবং মুমীতা মিশকাতদের সেরা হয়ে ওঠার গল্প নিয়ে এ প্রতিবেদন।

আরও পড়ুন: বেসিস আউটসোর্সিং অ্যাওয়ার্ড-২০১৫ বিজয়ীরা

unnamed (1)

সন্ধ্যা রায়
নরসিংদীর মেয়ে সন্ধ্যা রায়। তিন ভাইবোনের মধ্যে দ্বিতীয় তিনি। ঢাকা সিটি কলেজ থেকে গ্র্যাজুয়েশন করেছেন কম্পিউটার বিজ্ঞান ও প্রকৌশলে। তখন থেকেই কিছু একটা করবেন এমন একটা তাড়না ছিল মনের মধ্যে।

২০১১ সালের শেষের দিকে ফ্রিল্যান্সিং কাজে হাতেখড়ি হয় সন্ধ্যা রায়ের। শুরু করেন ডাটা এন্ট্রির কাজ দিয়ে। ধীরে ধীরে বাড়তে থাকে কাজের পরিধি। ২০১২ সালে প্রথম তিনি লোয়ক নামের একটি কোম্পানির কাজ পান। সেটা ছিল মাত্র পাঁচ ডলারের।
সন্ধ্যা এখন কাজ করেন একটি কোম্পানির সফটওয়্যার কোয়ালিটি অ্যাস্যুরেন্স নিয়ে। কোম্পানিটি তার কাজ পছন্দ করায় স্থায়ীভাবে সেটির কাজ করছেন তিনি।

গুণী এ ফ্রিল্যান্সার জানান, কোম্পানিটি ওয়েবসাইট কোয়ালিটি অ্যাসুরেন্স এবং মোবাইল নেটওয়ার্ক কোয়ালিটি অ্যাসুরেন্স নিয়ে কাজ করে। অ্যান্ড্রয়েড ও আইফোনের বিভিন্ন অ্যাপ্লিকেশন নিয়েও কাজ করে কোম্পানিটি। এ দু’ধরনের কাজ দেখাশোনা করতে হয় তাকে।

সন্ধ্যা এখন কোম্পানিটিতে রিলিজ ম্যানেজার হিসেবে কাজ করেন। সেখান প্রতিটি বিলের পুঙ্খানুপুঙ্খ বিশ্লেষণ করে সেটা গ্রাহকদের কাছে পাঠান।

সন্ধ্যা বলেন, বর্তমান ক্লায়েন্ট কাজে সন্তুষ্ট হওয়ায় বেশকিছু কাজও পাচ্ছি। তবে চেষ্টা করছি এ কাজে আরও কিছু ফ্রিল্যান্সারদের যুক্ত করতে যাতে আরও কর্মসংস্থান তৈরি হয়। ভবিষ্যতে তার ইচ্ছা তথ্যপ্রযুক্তি নির্ভর উদ্যোক্তা হয়ে বড় পরিসরে কিছু করার।

basis women ict

মুমীতা মিশকাত
মুমীতা মিশকাতের বেড়ে ওঠা ঢাকার লালমাটিয়া এলাকার স্বপ্নপূরী হাউজিং সোসাইটিতে। বাংলাদেশ রাইফেলস কলেজ থেকে উচ্চ মাধ্যমিক শেষে ইচ্ছে ছিল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার। সেই সুযোগ হয়নি। পরে ভর্তি হয়েছিলেন নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে। ফার্মাসিতে স্নাতক ও স্নাকোত্তর শেষ করেছেন।

স্নাতক পড়ার সময়ই বিয়ে হয় মিশকাতের। সেসময় কম্পিউটার সম্পর্কে জানাশোনা খুব কম ছিল। এমনকি ফ্রিল্যান্সিং করবেন এটাও ভাবেননি তিনি।

তার স্বামী মোস্তফা আল ইমরান এ পেশায় থাকায খুব দ্রুত কাজ শিখে নেন। প্রথম দিকে স্বামীর কাজে সাহায্য করতেন মিশকাত। পরে ২০১২ সালে তিনি ওডেক্সে নিজের নামে একটি অ্যাকাউন্ট খুলেন। শুরু হয় তার একক ফ্রিল্যান্সার জীবন।
কাজ শুরু করেন ট্রান্সলেটর হিসেবে। মূলত শিক্ষাক্ষেত্রের কাজগুলো নিয়ে তার ফ্রিল্যান্সিং শুরু হয়। তা এখনও অব্যাহত রেখেছেন তিনি। কাজ করেন মেডিকেল রিসার্চ, ক্লিনিক্যাল রিসার্চ, আর্টিকেল রাইটিং, ডাটা এন্ট্রি। বর্তমানে কাজ করছেন একটি কানাডিয়ান কোম্পানির সাথে। তিনি  ৫০ হাজার টাকা মাসিক আয় করে থাকেন।

বেসিস আউটসোর্সিং অ্যাওয়ার্ড পেয়ে আনন্দিত এ তরুন ফ্রিল্যান্সার। গত বছর তার স্বামী ইমরানও এ পুরস্কার পেয়েছেন। এটা পরিবারের জন্য খুব বড় পাওয়া বলে উল্লেখ করেন তিনি।

unnamed

রিজওয়ানা মির্জা
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের স্নাতক অজান্তা রিজওয়ানা মির্জার বাসা ঢাকার মগবাজারে। দুই বোনের মধ্যে বড় এ ফ্রিল্যান্সারের আউটসোর্সিং নিয়ে একটা আগ্রহ তৈরি হয় তার বিশ্ববিদ্যালয় জীবনেই।

গ্র্যাজুয়েশন শেষের পর বছর দেড়েক কাজ করেন একটি এনজিওতে। তবে মন পড়েছিল স্বাধীনভাবে কিছু একটা করার দিকে। সেই আগ্রহ থেকেই শুরু করেন ফ্রিল্যান্সিং।

২০১২ সালে অ্যাকাউন্ট খোলেন ওডেক্সে। শুরুটা ছিল ট্রান্সক্রিপশনের কাজ দিয়ে। পরে ধীরে ধীরে রাইটিংও শুরু করেন। এসব কাজের মাঝে ই-বুক, ব্যবসায়িক কনটেন্ট ও অর্টিকাল লেখার কাজও করতে থাকেন।এ ছাড়াও রাইটিং নিয়ে ক্লায়েন্টের চাহিদা অনুযায়ী বিভিন্ন কাজ করে থাকেন দেশ সেরা এ ফ্রিল্যান্সার।

অন্যদের মতো পার্টটাইম নয়, রিজওয়ানা সিদ্ধান্ত নিয়েছেন পুরোদমে এ পেশায় থাকতে। তিনি বলেন, অনেকেভাবে ফ্রিল্যান্সিং কাজ যে কোনো ভাবে করা যায়, আসলে তা নয়। এ জন্য পরিবেশটা অফিসের মতো হওয়া দরকার। কেননা কাজে যথেষ্ট মনোযোগী হতে ও পরিশীলিত কাজ করতে এর বিকল্প নেই।

নারীদের এ কাজে আসার জন্য পরিবারের সবচেয়ে বেশি সমর্থন দরকার বলে মনে করেন রিজওয়ানা। পরিবারের সহায়তা তাকে মানসিকভাবে অনেকগুণ শক্তিশালী করেছে বলে জানান তিনি।

এখন প্রতিমাসে রিজওয়ানার আয় গড়ে ৫০ হাজার টাকা। তবে অর্থটাই মুখ্য নয় তার কাছে। তিনি অন্যদের কাজের সুযোগও তৈরি করতে চান।
তার মতে, বেকার যুবকদের কর্মসংস্থানে সকলকে এগিয়ে আসতে হবে। প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ দিয়ে দক্ষ ফ্রিল্যান্সার তৈরির মাধ্যমে দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে অবদান রাখতে চান তিনি।

আরও পড়ুন: 

*

*

আরও পড়ুন