Header Top

মুক্তিযুদ্ধ ৭১ : গেইম নয়, যেন অগ্নিঝরা দিনের ইতিহাস

Evaly in News page (Banner-2)

ইমরান হোসেন মিলন, টেক শহর কনটেন্ট কাউন্সিলর : ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ। হানাদারদের লাগানো আগুনে পুড়ছে রাতের ঢাকা শহর। আগুনের লেলিহান শিখায় পুড়ে ছাই হয়ে যাচ্ছে রাজারবাগ পুলিশ লাইনের ঘরবাড়ি ও মানুষ। কিন্তু এরই মধ্যে এক মুক্তিযোদ্ধা রাইফেল তাক করে এগিয়ে যাচ্ছেন হানাদার বাহিনীর দিকে। গাছের আড়াল থেকে তিনি গুলি চালিয়ে যাচ্ছেন। একে একে লুটিয়ে পড়ছে পাক শত্রু সেনা।

এটি ‘মুক্তিযুদ্ধ ৭১’ নামের একটি গেইমের শুরুর অংশ। স্বাধীনতা যুদ্ধ নিয়ে তৈরি এই গেইমের মাধ্যমে মূলত ১৯৭১ এর অগ্নিঝরা দিনগুলোর ইতিহাসই তুলে আনা হয়েছে।

বাংলাদেশ সরকারের তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের অনুদানে গেইমটি তৈরি করছেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের শিক্ষার্থী সাখাওয়াত হোসেন নাদিম।

আরও পড়ুন: অন্ধদের স্মার্টফোন গেইম বানিয়ে এমবিলিয়ন্থ জয় দীপের

muktijudhdho 71

নাদিমের এই গেইম তৈরির তত্ত্বাবধান ও এর কিছু অংশ তৈরির দায়িত্বে আছেন তারই বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক মুহাম্মাদ হানিফ সিদ্দিকী।

সাখাওয়াত নাদিম বলেন, ‘মুক্তিযুদ্ধ ৭১’ খেলার আড়ালে সবাইকে ১৯৭১ এর মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস সম্পর্কে জানাবে। ২৫ মার্চের পাক বাহিনীর অতর্কিত আক্রমণ বা অপারেশন সার্চলাইট থেকে শুরু করে ১৬ ডিসেম্বর পাক বাহিনীর আত্মসমর্পণের মধ্য দিয়ে বিজয় অর্জন সবই জানা যাবে এই গেইম খেলার মধ্য দিয়ে।

নাদিম আরও জানান, ইতোমধ্যে গেইমটির চারটি লেবেল সম্পন্ন হয়েছে। এতে মোট ১৪টি লেবেল থাকছে। যেখানে গেইমারদের ১১টি সেক্টরে যুদ্ধ করতে হবে। এছাড়াও তিনটি বিশেষ অভিযানে অংশ নিতে হবে। সেগুলো সফলভাবে সম্পন্ন করতে পারলেই কেবল গেইমাররা পাবেন বিজয়ের স্বাদ।

muktijudhdho 71 (3)

গেইমটিতে সবসময় কী মুক্তিযোদ্ধারাই জিতবে, এমন প্রশ্নের জবাবে নাদিম বলেন, না, তা নয়। এটাতো একটা খেলা। দুই পক্ষই এখানে জেতার সমান সুযোগ পাবে। তবে কেউ যদি পাক হানাদারের গুলিতে নিহত হন তাহলে তিনি তো শহীদ হবেন, আর যিনি খেলে পাক বাহিনীকে পরাস্ত করতে পারবেন তিনি গাজীর মর্যাদা পাবেন।

তবে ফেইসবুক ও ইউটিউবে ছাড়া গেইমটির ডেম্যু সংস্করণ ইতিমধ্যেই নকল করে অনেকেই গেইম বানাতে শুরু করেছেন বলে অভিযোগ করেন নাদিম। সে কারণে তার গেইমের হালনাগাদ এখন ফেইসবুক বা ইউটিউবে শেয়ার করছেন না তিনি।

গেইমটি তৈরিতে আইসিটি মন্ত্রণালয় অনুদান হিসেবে দিয়েছে নয় লাখ ৬৯ হাজার টাকা।

গেইম তৈরির এই প্রোজেক্ট মূলত এক বছরের। সামনের বছরের ২৬ মার্চ স্বাধীনতা দিবসে আনুষ্ঠানিকভাবে গেইমটির উদ্বোধন করবে আইসিটি মন্ত্রণালয়।

muktijudhdho 71 (2)

নাদিম বলেন, গেইমটি যেহেতু আমাদের মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসকে ধারণ করে, তাই এটি তৈরিতে যথেষ্ট সতর্ক থাকতে হচ্ছে। আবার প্রতিটি সেক্টরে যুদ্ধে অংশ নিলে সেই সেক্টর সম্পর্কে অনেক কিছুই জানতে পারবেন গেইমাররা।

তবে নাদিমের এই গেইম তৈরিতে তার বিভাগের সভাপতি অধ্যাপক খাইরুল ইসলামসহ অন্যান্য শিক্ষকরা শুরু থেকে লজিস্টিকসহ অন্যান্য সুবিধা ও উৎসাহ দিয়ে এসেছেন। তাই তাদেরকে বিশেষ ধন্যবাদ জানান নাদিম।

এই গেইমের প্রোগ্রামের ভাষা হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছে সি শার্প ও জাভা স্ক্রিপ্ট। এছাড়াও ম্যাক, লিনাক্স, ফেইসবুক, অ্যান্ড্রয়েড, আইফোন ও উইনন্ডোজ ফোনে খেলার উপযোগী করে তৈরি করা হচ্ছে গেইমটি।

আরও পড়ুন:

*

*

আরও পড়ুন