লার্ন এশিয়ার রোডম্যাপ : পিপিপি প্লাটফর্মেই হবে ডিজিটাল বাংলাদেশ

Evaly in News page (Banner-2)

আল-আমীন দেওয়ান, টেক শহর কনটেন্ট কাউন্সিলর : ডিজিটাল বাংলাদেশের এগিয়ে যাওয়া ও ভবিষ্যত করণীয় নিয়ে বর্তমান প্রেক্ষাপট এবং রোডম্যাপসহ এক গবেষণা প্রতিবেদন তৈরি করেছে তথ্যপ্রযুক্তি বিষয়ক গবেষণা ও নীতি নির্ধারণীতে খ্যাতনামা প্রতিষ্ঠান লার্ন এশিয়া।

রিয়েলাইজিং ডিজিটাল বাংলাদেশ’ শীর্ষক এই প্রতিবেদনে ইন্টারনেট সংযোগ, শিক্ষা, স্বাস্থ্য সেবা, যুব কর্মসংস্থান, ই-গর্ভমেন্ট ও পরিবেশের মতো খাতগুলোতে তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবহার করে ডিজিটাল বাংলাদেশের সম্ভাবনার গতিপথ দেখানো হয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, সরকারকে ইউনিয়ন ডিজিটাল সেন্টারেরর মাধ্যমে জনগণের সাথে যোগাযোগ বাড়াতে হবে। বেসরকারি খাতকে সাথে নিয়ে যোগাযোগ মাধ্যম আরও শক্তিশালী করতে হবে।

শিক্ষা ও স্বাস্থ্যখাতের সাথে যোগাযোগ ও উন্নয়নে পর্যাপ্ত ব্রডব্যান্ড সুবিধা প্রদান ও ট্যাক্স সিস্টেমের উন্নয়নে যৌথ টাস্কফোর্স গঠনে সরকারকে গুরুত্ব দিতে হবে।

বিদেশী প্রতিষ্ঠানগুলোকে দেশে আকর্ষণের জন্য নিয়ন্ত্রকদের বিপিও ও সফটওয়ার লাইসেন্সের শর্তাবলী সংশোধন করার পরামর্শ রয়েছে এতে। একটি বিশ্বাসযোগ্য স্পেকট্রাম রোডম্যাপ প্রণয়ন। প্রযুক্তির নিরপেক্ষতা দেওয়া ও উম্মুক্ত প্রতিযোগিতার মধ্য দিয়ে সারা দেশে ফাইবার অপটিক প্রদান করার বিষয়ে এই প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।

গবেষণায় লার্ণ এশিয়ার সাথে যুক্ত টেলিনর গ্রুপ এবং গ্রামীণফোন রোববার এই প্রতিবেদন প্রকাশ করতে যাচ্ছে।

চলতি বছরের মে মাসে দেশে অনুষ্ঠিত ডিজিটাল ইনভেস্টমেন্ট সামিটে তথ্যপ্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক ডিজিটাল বাংলাদেশের উন্নয়ন ও ভবিষ্যত করণীয় নিয়ে আন্তর্জাতিক মানের গবেষণা প্রতিবেদন করার কথা বলেছিলেন।

পলক সে সময় লার্ন এশিয়াকে দিয়ে এই গবেষণা করার আগ্রহ দেখান।

গবেষনা প্রতিবেদন প্রকাশ উপলক্ষ্যে হোটেল রেডিসন ব্লু ওয়াটার গার্ডেনে আয়োজিন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি থাকাছেন তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু। বিশেষ অতিথি থাকবেন জুনাইদ আহমেদ পলক।

এতে এই গবেষণা প্রতিবেদন উপস্থাপন করবেন লার্ন এশিয়ার প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান ও শ্রীলংকান গবেষক ড. রোহান সামারাজিভা। উপস্থিত থাকবেন গ্রামীণফোনের সিইও রাজীব শেঠী।

LIRNE ASIA

প্রতিবেদনে তরুণদের তথ্যপ্রযুক্তি দক্ষতার প্রশিক্ষণের জন্য সরকারি-বেসরকারি অংশীদারিত্বে ব্যাপক উদ্যোগ গ্রহণ করা ও  স্কুলে ইন্টারনেট সংযোগ প্রদান করে বিনামূল্যে ইন্টারনেট প্রদান এবং প্রশিক্ষণের বিষয়ে গুরুত্বের কথা বলা হয়ছে।

মোবাইল স্বাস্থ্যসেবা প্রদানের জন্য মাল্টি-স্টেক হোল্ডার উদ্যোগ সহজ করাসহ বিভিন্ন বিষয় বিশদ তথ্যউপাত্ত দিয়ে এই গবেষণা প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, ডিজিটাল বাংলাদেশের ভিত্তি হল সর্বব্যাপী ইলেক্ট্রনিক সংযোগ। এখানে অর্থ মন্ত্রণালয়, আইসিটি বিভাগ, এনবিআর এবং টেলিকম সেক্টরের প্রতিনিধিদের নিয়ে যৌথ টাস্কফোর্স করা প্রয়োজন।

স্পেকট্রাম ম্যানেজমেন্টের উন্নয়নসহ মানসম্মত ফাইবার নেটওয়ার্কের জন্য উম্মুক্ত প্রতিযোগিতা। মোবাইল ব্রডব্যান্ডের জন্য উন্নত ও বিস্তৃত নেটওয়ার্কের প্রয়োজনীয়তার উল্লেখ করা হয় প্রতিবেদনে।

সরকারের দক্ষতা ও দায়িত্বশীলতার বিষয়ে বলা হয়, আইটি নিয়ে কাজ করা প্রতিষ্ঠানগুলোকে একটি প্লাটফ্যর্মে আনা। জনগণের সঙ্গে যোগাযোগে বেশি করে কল সেন্টার স্থাপন করে তথ্য ও সেবা দেওয়ার ব্যবস্থা করা।

প্রতিটি ইউনিয়ন পরিষদে ব্যক্তি উদ্যোগে ইউিনয়ন ডিজিটাল সার্ভিসের ব্যবস্থা করা। ২০১৭ সালের মধ্যে বেসরকারি সহযোগিতার ভিত্তিতে প্রতিটি ইউনিয়ন ডিজিটাল সেন্টার পরিচালনা করা।

প্রতিবেদনে তরুণদের জন্য আকর্ষণীয় কর্মক্ষেত্র সৃষ্টি করার কথা বলা হয়েছে। যেখানে সেবা খাতে দক্ষ জনশক্তি তৈরি ও রপ্তানিতে তথ্যপ্রযুক্তি বিভাগ গুরুত্বপূর্ণ ভুমিকা রাখতে পারে বলে উল্লেখ করা হয় ।

এছাড়া দক্ষ কর্মী তৈরি ও রপ্তানিতে অগ্রাধিকার দেওয়া বিদেশী, সরকারি-বেসরকারি সংস্থাগুলোকে আকর্ষণে নিয়ম শিথিল করা। ওয়ান স্টপ শপিং এবং বৃহত্তর স্বার্থে পণ্যের মানের পরিপ্রেক্ষিতে আন্তজার্তিক গেটওয়েগুলোকে উন্মুক্ত করা।

টেকনোলজি পার্ক সম্পন্ন করতে এতে অবকাঠামোগত সবধরনের সুবিধা প্রদান।

প্রতিবেদনে এটি কারনির উল্লেখে বলা হয়, ২০১৭ সাল পর্যন্ত নেওয়া গ্লোবাল সার্ভিসের অবস্থানে বাংলাদেশ ৫ ধাপ অগ্রসর হয়েছে। ২০১৯ সালের মধ্যে বাংলাদেশ সেখানে শীর্ষ ১৫এর মধ্যে অবস্থান করবে।

২০১৬ সালের মধ্যে একটি টেক পার্ক সম্পূর্ণ করা হবে। যেখানে ১০টি আইটি ও আইটিএস প্রতিষ্ঠান থাকবে। বিপিও সেক্টরে ২০১৭ সালের মধ্যে এক লাখ কর্মসংস্থান করা হবে।

আইটি এবং আইটি সংশ্লিষ্ট খাত যেমন ফ্রিল্যান্স, সফটওয়্যার থেকে আসা রেমিট্যান্স ২০১৮ সালের মধ্যে অন্যান্য খাতকে অতিক্রম করবে। ২০১৬ সালের মধ্যে জাতিসংঘ ঘোষিত ই-গভর্মেন্ট উন্নয়ন সূচকে বাংলাদেশ পাঁচ ধাপ অগ্রসর হচ্ছে

একই সময়ের মধ্যে সরকারি-বেসরকারি অংশীদারিত্বে জনমানুষকে ব্যাপকভাবে তথ্যপ্রযুক্তিতে প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে যা সরকারের ডিজিটাল বাংলাদেশ নির্মাণের প্রধান চাবিকাঠি বলে উল্লেখ করে লার্ন।

জলবায়ু পরিবর্তনের সাথে সমন্বয় বা খাপ খাওয়াতে তথ্যপ্রযুক্তির গুরুত্বের কথা বলা হয় এতে। বাংলাদেশ জলবায়ু পরিবর্তনের প্রেক্ষাপট মোকাবিলা করবে। দেশের বিশাল জনগোষ্ঠীর কারণে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা চক্রের সকল ক্ষেত্রে জনশক্তি নিয়োজিত করার সম্ভাবনার কথাও বলা হয়েছে এতে।

বলা হয়েছে শহর-গ্রামে স্বাস্থ্যসেবার ব্যবধান কমাতে ডাক্তারদের গ্রামে না নিয়ে গিয়েও তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবহারে শহরের বিশেষজ্ঞ ডাক্তারদের গ্রামীণ জনগোষ্ঠীর কাছে নিয়ে আসার কথা।

শিক্ষার প্রসার ও উন্নয়নের জন্য অবকাঠামো, আন্তঃসম্পর্কিত ও পদ্ধতিগত পদক্ষেপ দরকার। এতে তথ্যপ্রযুক্তি সবচেয়ে কার্যকর সমাধান দিতে পারে বলে উল্লেখ রয়েছে।

 

*

*

আরও পড়ুন