অনলাইন উদ্যোগে নতুন বৈচিত্র্য হ্যান্ডিমামা ডটকো

Evaly in News page (Banner-2)

প্রথমটিতে বিপুল লোকসানে অভিজ্ঞতা কিনেছেন। ঝুঁকি জেনেও একদম আনকোড়া আরেক উদ্যোগে নিয়ে নেমেছেন। অনলাইনে বাসাবাড়িতে সেবা দেওয়ার প্রতিষ্ঠান হ্যান্ডিমামা ডটকো ক্রমেই নজর কাড়ছে। অদম্য সেই উদ্যোক্তার গল্প জানাচ্ছেন ইমরান হোসেন মিলন

বন্ধুদের সাথে প্রথম যৌথ উদ্যোগে ২০ লাখ টাকা বিনিয়োগ করে ধরা খেয়েছিলেন। তবে থেমে থাকেননি তরুণ এ উদ্যোক্তা। আর্থিক লোকসানের অভিজ্ঞতা থেকে শুরু করেছেন নতুন করে।

তরুণ এ উদ্যোক্তার নাম শাহ পরান। ইচ্ছে ছিল এমন একটা কাজ করবেন যা মানুষের জীবনযাত্রায় প্রভাব ফেলে। যাতে সাধারণ মানুষকে সেবা দেওয়া যায়। আস্তে আস্তে এগিয়ে যাচ্ছেন সেই লক্ষ্যে।

অনেকে গবেষণা ও যাচাই-বাছাই শেষে কম্পিউটার সায়েন্সে পড়াশুনা করা এ তরুণ গড়ে তোলেন হ্যান্ডিমামা  ডটকো। অনলাইন এ সেবা প্রদানকারী উদ্যোগের মাধ্যমে ক্লিনিং, ইলেকট্রিক এবং প্লামবিং সেবা দেওয়ার কাজ করা হয়।

handy nama

একদম ভিন্ন ধরনের এ অনলাইন উদ্যোগ স্বল্প সময়েই বেশ সাড়া ফেলেছে। কাজের স্বীকৃতি হিসেবে পরান সম্প্রতি ফাউন্ডার ইন্সটিটিউট থেকে প্রশিক্ষণ শেষে গ্র্যাজুয়েট ডিগ্রিও পেয়েছেন। এরই ধারাবাহিকতায় ফেনক্স বাংলাদেশ চ্যাপ্টারের বিনিয়োগও পেয়েছেন।

কুমিল্লা পলিটেকনিক ইন্সটিটিউট থেকে কম্পিউটার বিজ্ঞানে ডিপ্লোমা শেষে উচ্চশিক্ষার জন্য যেতে চেয়েছিলেন বিদেশে। পরিবারের অনিচ্ছায় সেটা হয়নি। পেশাগত জীবনের শুরুটা করেন শিক্ষকতা দিয়ে। বিভিন্ন বেসরকারি পলিটেকনিকে পড়াতেন প্রোগ্রামিং। তবে এর চেয়ে ভিন্ন কিছু করতে চেয়েছেন।
একটা সময় ফ্রিল্যান্সার হিসেবে কাজ শুরু করেন। বেশ কিছু দিন এতেও মন টেকেনি তার। পরানের ভাষায়, টাকা রোজগার করলেও মনের সাড়া পাচ্ছিলেন না। নিজের কিছু করার তাড়না বোধ করছিলেন।
তার ভাষায়, কম্পিউটার সায়েন্সে পড়লেও ব্যবসার স্বপ্ন বুনেছেন স্কুল জীবন থেকেই। তাই ফ্রিল্যান্স ছেড়ে দিয়ে শুরু করেন নিজের প্রথম উদ্যোগ।


11783498_979164038800597_1071955456_o

শুরুর কথা
২০১৪ সালের শুরুতে এক বন্ধুর সঙ্গে যৌথভাবে গড়ে তোলেন ‘ওয়েবিসিস মিডিয়া ডটকম’। প্রায় ২০ লাখ বিনিয়োগ করলেও টিকতে পারেননি।
শাহ পরান বলেন, আসলে ব্যবসা কী, সেটা না বুঝেই বিনিয়োগটা হয়েছিল বলে সাফল্য আসেনি।
এ ব্যর্থতাই যেন মোড় ঘুরিয়ে দেয় তরুণ এ উদ্যোক্তার। আগের অভিজ্ঞতা থেকে শুরু করেন দেশীয় বাজার পর্যালোচনা। অনলাইনভিত্তিক কিছু করতে নতুন সব ধারণা নিয়ে আলোচনা করেন অনেকের সঙ্গে। তবে সেভাবে কেউ তাকে উৎসাহিত করেনি। বেশিরভাগই বলেছেন, বাংলাদেশে এটা সম্ভব নয়। এ চ্যালেঞ্জটাই নিলেন তিনি এবং লেগে থাকার ফল পেলেন স্বল্প সময়েই।

কাজের ধরণ

একই ধরনের তিনটি কাজ দিয়ে হ্যান্ডিমামার যাত্রা শুরু। ঘর ও যাবতীয় আসবাবপত্র পরিষ্কার, বাসাবাড়ির ইলেকট্রিক ও ইলেকট্রনিক্স মেরামতের কাজ (যেমন- ওয়্যারিং, টিভি, ফ্রিজ, এসি, ফ্যান মেরামত) এবং তৃতীয়ত প্লামবিং বা স্যানেটারি সেবা। শাহ পরান বলেন, খুব শিগগির তারা বাড়ি বদলানো, গাড়ি মেরামত ও কার ওয়াশের মতো কাজ শুরু করবেন।

পরিধি

হ্যান্ডিমামা এখন ঢাকায় মোহাম্মাদপুর এবং ধানমন্ডিতে সেবা দিচ্ছে। আরও সাতটি জোনে সেবা চালুর প্রক্রিয়া চলছে বলেও জানান পরান। তিনি জানান, গুলশান, বনানী, বারিধারা (ডিওএইচএস), মহাখালী (ডিওএইচএস) এবং উত্তরায় কার্যক্রম শুরু প্রাথমিক কাজ শেষ পর্যায়ে।

11787265_979164018800599_762616618_n

প্রতিবন্ধকতা

ইন্টারনেট সহজলভ্য না হওয়ায় অনলাইন উদ্যোগ বা ই-কমার্সের প্রধান বাধা বলে মনে করেন তরুণ এ উদ্যোক্তা। তবে স্মার্টফোনের ব্যবহার বৃদ্ধিতে আশাবাদী তিনি। একদম নতুন এক খাত বলে পরিচিতি পেতে সময়ও বেশি লাগছে বলে মনে করেন তিনি।

নিরাপত্তা
এসব কাজে নিরাপত্তার বিষয়টি খুবই গুরুত্বপূর্ণ। তাই হ্যান্ডিমামা খুব সচেতনভাবে এটি নিশ্চিত করা হয়। পরান বলেন, কোনো কাজের অফার আসলে ক্লায়েটদের কাছে আগেই কর্মীর নাম, ঠিকানা, আইডি কার্ড নম্বর পাঠিয়ে দিই। যাতে গ্রাহকরা সজাগ থাকেন। তবে নিরাপত্তাজনিত সমস্যার কারণে কেউ ক্ষতিগ্রস্ত হলে সুনির্দিষ্ট প্রমাণের ভিত্তিতে ক্ষতিপূরণ দেবে হ্যান্ডিমামা বলে পরান জানান।

কর্মী সংখ্যা ও সুবিধা

হ্যান্ডিমামা ডটকোতে এখন প্রায় ৪০০ কর্মী আছেন যারা ফ্রিল্যান্সার হিসেবে কাজ করেন। এ ছাড়া চার জন ডেভেলপারসহ নয় জনের একটি সার্বক্ষণিক দল কাজ করছে। নতুন সাত জোনে সেবা কার্যক্রম শুরু হলে কর্মী সংখ্যা বাড়বে বলে তিনি জানা।

AAEAAQAAAAAAAAN1AAAAJGRmZWQ5Y2Q0LTBlODYtNDcyNy1iYzM4LTkzNmExODkzMjE5NQ

প্রচারণা

হান্ডিমামার প্রচারণা এখনও বাণিজ্যিক রূপ নেয়নি। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোকেই ব্যবহার করা হচ্ছে। তবে ভালো সেবা প্রদানই সবচেয়ে বড় প্রচারণা বলে জানান পরান। কাজের পরিধি বাড়লে লিফলেট ও বিলবোর্ডে প্রচারনা এবং পত্রিকায় বিজ্ঞাপন দেওয়ার পরিকল্পনার কথা বলেন তিনি।

ভবিষ্যৎ
হ্যান্ডিমামাকে ঢাকার পর চট্টগ্রামেও নিতে যেতে চান তরুণ এ উদ্যোক্তা। এখানেই থেমে না থেকে পার্শ্ববর্তী দেশগুলোতেও কার্যক্রম শুরুর পরিকল্পনার কথা জানান তিনি। এ প্রতিষ্ঠানকে বৈশ্বিক সেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠানে রূপ দেওয়ার স্বপ্ন তার।
এ ছাড়া হ্যান্ডিমামার আওতায় একটি ইন্সটিটিউট গড়ে তুলতে চান। তরুণ এ উদ্যোক্তা আগামী ৫ বছরে ১০ হাজার কর্মীর কাজের সুযোগ তৈরিতে লক্ষ্য নিয়ে কাজ করছেন বলে জানান।

নতুনদের জন্য পরামর্শ

নিজের অভিজ্ঞতা থেকে পরান বলেন, “আমি যখন কাজ শুরু করি তখন দীর্ঘদিন মার্কেট রিসার্চ করেছি। শুধু দেশের বাজার নয়, বিশ্বের অন্যান্য স্থানের খোঁজও নিয়েছি। তাই কেউ যদি মনে করেন, একটি ওয়েবসাইট খোলা মানেই ব্যবসা শুরু- তাহলে ভুল করবেন তারা।” নতুনদের তাই বাজার বুঝে, প্রস্তুত হয়ে কাজ শুরুর পরামর্শ দেন তিনি।
যোগাযোগ
http://www.handymama.co/
হটলাইন : ০১৯২৮২৯২৯২৯

*

*

আরও পড়ুন