সুবিধাবঞ্চিত হয়েও তারা ক্ষুদে বিজ্ঞানী!

Evaly in News page (Banner-2)

টেক শহর কনটেন্ট কাউন্সিলর : সবাই মেয়ে শিক্ষার্থী। এদের অনেকে কম্পিউটার কখনো ছুঁয়েও দেখেনি, অনেকে আবার ইন্টারনেট সম্পর্কে কোনো প্রাথমিক ধারণাই রাখেন না। বৈজ্ঞানিক পোস্টার সম্পর্কেও তাদের একই অবস্থা। অথচ তারাও এ দেশেরই কোন এক স্কুলের শিক্ষার্থী। অবশ্য তাদের পরিচয় অবহেলিত ও সুবিধাবঞ্চিত হিসেবেই।

অথচ এই অবহেলিত ও সুবিধাবঞ্চিত শিক্ষার্থীরাই বিজ্ঞান সম্পর্কে প্রাথমিক ধারণা পেয়ে একেকজন হয়ে উঠেছেন ক্ষুদে বিজ্ঞানী!

এখন তারা গবেষণা করে নির্ণয় করতে পারেন নদীতে পলি জমার পরিমাণ, দ্বিপক্ষল যৌগিকপত্র বিশিষ্ট গাছের অনুভূতি প্রবণতা; বলে দেন মানুষের উচ্চতার সঙ্গে প্রতিটি স্বাভাবিক পদক্ষেপে অতিক্রান্ত দূরত্বের সম্পর্ক, বিভিন্ন উৎসের পানির তাপমাত্রা পর্যবেক্ষণ এবং তারতম্যের কারণ, মিষ্টিজাতীয় দ্রব্যের প্রতি পিঁপড়ার আকর্ষণ এবং তা দূরীকরণের উপায় আর ভিন্ন পরিবেশে লজ্জাবতী গাছের অনুভূতি প্রবণতা।

Rupsha

এ ধরনের বিজ্ঞান গবেষণায় প্রত্যন্ত গ্রামাঞ্চলে মেয়েদের আগ্রহী করে তুলতে খুলনার রূপসাতে আয়োজন করা হয় কুদরাত-ই-খুদা সামার সায়েন্স ক্যাম্প।

উপজেলার কমরেড রতন সেন কলেজিয়েট গার্লস স্কুলে অনুষ্ঠিত তিন দিনব্যাপী ওই ক্যাম্পের আয়োজন করে বাংলাদেশ বিজ্ঞান জনপ্রিয়করণ সমিতি (এসপিএসবি) ও বিএফএফ। এটি ছিল শিশু-কিশোর বিজ্ঞান কংগ্রেস ২০১৫ এর প্রথম কুদরাত-ই-খুদা সামার সায়েন্স ক্যাম্প।

ক্যাম্পে অংশ নেন ৪২ জন শিক্ষার্থী। শুরুর দিন শিক্ষার্থীদের শেখানো হয় কীভাবে বৈজ্ঞানিক গবেষণা করতে হয়। এছাড়াও গবেষণার কর্মপদ্ধতি দেখিয়ে দেওয়া হয়। পরে শিক্ষার্থীরা ছয়টি দলে ভাগ হয়ে স্কুলের আশপাশের এলাকার পরিবেশ-প্রতিবেশ থেকে সমস্যা চিহ্নিত করেন। পরের দুইদিন গবেষণা করে সেগুলোর সমাধানের উপায় খুঁজে বের করেন।

সুবিধা বঞ্চিত এসব শিক্ষার্থীদের এমন সব চমৎকার গবেষণা এবং বৈজ্ঞানিক পোস্টার তৈরি সবাইকে মুগ্ধ করে দিয়েছে।

ক্যাম্পের সমাপনী দিনে ছয়টি দল তাদের পোস্টার সবার সামনে উপস্থাপন করে। সমাপনী অনুষ্ঠানে অংশ নেন স্কুলের প্রতিষ্ঠাতা এস এম লিয়াকত, যশোর শিক্ষা বোর্ডের সাবেক সচিব ও স্কুল পরিদর্শক এবং কমরেড রতন সেন কলেজিয়েট গার্লস স্কুলের প্রধান শিক্ষক।

ক্যাম্পে অংশ নেওয়া শিক্ষার্থী স্বর্ণা বলেন, এখানে আমরা চিন্তা করার নতুন উপায় শিখলাম, বিজ্ঞানীরা কীভাবে গবেষণা করেন তা জানলাম। সবচেয়ে আনন্দের ব্যাপার হল আমরাও একটি গবেষণা করলাম, তার মানে আমরাও এখন একেকজন বিজ্ঞানী।

Rupsha 2

সমাপনী অনুষ্ঠানে এস এম লিয়াকত বলেন, এই বিজ্ঞান চর্চা আমাদের শিক্ষার্থীদের অনেক দূর এগিয়ে নেবে। এমন আয়োজন নিয়মিত হলে শিক্ষার্থীরা উপকৃত হবে।

ক্যাম্পর অন্যতম পরিচালক ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) শিক্ষার্থী সাইফ ফাতিউর রহমান বলেন, এই স্কুলের শিক্ষার্থীরা অসম্ভব মেধাবী এবং সম্ভাবনাময়। তিনদিন তাদের মধ্যে জানার যে আগ্রহ দেখলাম তাতে বোঝা যায় সুযোগ পেলে এরাও ভবিষ্যতে অনেক ভালো করবে।

ক্যাম্পটি পরিচালনা করেন শিশু-কিশোর বিজ্ঞান কংগ্রেসের একাডেমিক সমন্বয়কারীরা।

শিশু-কিশোর বিজ্ঞান কংগ্রেসের প্রস্তুতিমূলক কুদরত-ই-খুদা সামার সায়েন্স ক্যাম্প সারা দেশে পর্যায়ক্রমে আয়োজন করা হবে। ২৬ জুন নারায়ণগঞ্জ, ২৭ জুন সিলেট ও দিনাজপুরে এবং ২৯ জুন ঢাকায় অনুষ্ঠিত হবে এই সায়েন্স ক্যাম্প।

ইমরান হোসেন মিলন

*

*

আরও পড়ুন