আশাবাদে শেষ হলো ডিজিটাল বিনিয়োগ সম্মেলন

Evaly in News page (Banner-2)

টেক শহর কনটেন্ট কাউন্সিলর : দেশে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে বিনিয়োগ এবং মোবাইলে সেবা বাড়ানোর আশাবাদে শেষ হলো আন্তর্জাতিক বিনিয়োগ সম্মেলন।

বৃহস্পতিবার সকালে রাজধানীর র‌্যাডিসন ব্লু ওয়াটার গার্ডেন হোটেলে শুরু হয় দিনব্যপী এ সম্মেলন। এতে তথ্যপ্রযুক্তি খাতের স্থানীয় ও আন্তর্জাতিক নীতিনির্ধারক, বিনিয়োগকারী ও উদ্যোক্তারা অংশ নেন।

দেশে প্রথমবারের মতো ডিজিটাল ইনভেস্টমেন্ট সামিট শীর্ষক এই সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। এর উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্যপ্রযুক্তি বিষয়ক উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয়।

উদ্বোধনীতে বিশেষ অতিথি ছিলেন তথ্যপ্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক। স্বাগত বক্তব্য রাখেন টেলিনর গ্রুপের প্রেসিডেন্ট ও সিইও জন ফ্রেডরিক বাকসাস।

ডিজিটাল ইনভেস্টমেন্ট সামিটে ‘ফরম ভিশন টু রিয়্যালিটি: ইন্টারনেট ফর অল অ্যান্ড ডিজিটাল বাংলাদেশ’ শীর্ষক বক্তব্যে জয় বলেন, বিগত ছয় বছরে ৬ শতাংশের বেশি জিডিপি প্রবৃদ্ধি রয়েছে। জিডিপির আকারে বিশ্বের ৪৫তম দেশ বাংলাদেশ।

তিনি বলেন, বাংলাদেশ এখন ফোরজি ইন্টারনেট সেবায় আসছে। ইন্টারনেট ব্যবহারকারীর সংখ্যা শূন্য দশমিক ৪ শতাংশ থেকে বেড়ে ২৯ শতাংশে এসেছে। এক কোটি ২০ লাখ মানুষ সামাজিক যোগাযোগ সাইটের মাধ্যমে ইন্টারনেটে রয়েছে।

joy-DISC

দেশে বিশ্বমানের শক্তিশালী তথ্যপ্রযুক্তি শিল্প গড়ে তোলার পরিকল্পনার কথা জানিয়ে জয় বলেন, মোবাইল ফোন শিল্পের ব্যাপক উন্নতি হয়েছে। বাংলাদেশ বিশ্বের অল্প কয়েকটি দেশের একটি, যেখানে ৯৯ শতাংশ মানুষ মোবাইল নেটওয়ার্কের আওতায় রয়েছে।

তথ্যপ্রযুক্তি উপদেষ্টা জানান, বাংলাদেশে ব্রডব্যান্ডের সর্বনিম্ন গতি ৫ এমবিপিএস করার জন্য অ্যামটবের সাথে আলোচনা করা হয়েছে।

ডিজিটাল বাংলাদেশ বাস্তবায়নের গতি-প্রকৃতি, সফলতা ও অর্জন নিয়ে বক্তব্য উপস্থাপন করে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা বলেন, হেনরি কিসিঞ্জার যে বাংলাদেশকে তলাবিহীন ঝুড়ির বলেছিলেন এই বাংলাদেশ তা নয়। বাংলাদেশ বর্তমানে উদীয়মান অর্থনীতির নাম হিসাবে বিশ্বের উচ্চারিত হচ্ছে।

 

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে তথ্যপ্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক সরকারের ভিশন-২০২১ নিয়ে কথা বলেন।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, দীর্ঘমেয়াদী উন্নয়নের লক্ষ্যে একটি ধারাবাহিক ও স্বচ্ছ রেগুলেটরি ব্যবস্থাপনার প্রয়োজনীয়তা রয়েছে। ইতিমধ্যে জাতীয় টেলিকম নীতিমালা হালনাগাদ করার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।

পলক জানান, সরকার ইন্টারনেটের ব্যবহার বৃদ্ধিতে সরকারি বেসরকারি সহযোগিতায় (পিপিপি) বিশেষ কর্মসূচী গ্রহণ করতে আগ্রহী।

palak-1

টেলিনর গ্রুপের প্রেসিডেন্ট ও সিইও জন ফ্রেডরিক বাকসাস বলেন, ডিজিটাল বাংলাদেশের অনেক সুবিধাই মোবাইল নেটওয়ার্কের উপর নির্ভর করবে। তবে থ্রিজি বা ফোরজির জন্য স্পেকট্রাম একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় কারণ এইসব প্রযুক্তির বিস্তারে স্পেকট্রামের গুরুত্ব অনেক।

গ্রামীণফোনের সিইও রাজিব শেঠি বলেন, মোবাইল নেটওয়ার্কে ডাটা ব্যবহার সরকারি সেবা প্রদান এবং তথ্য সংগ্রহের কাজকে সুলভ ও সবার কাছে পৌঁছে দিচ্ছে।

সম্মেলনে আরো বক্তব্য রাখেন, হুয়াওয়ের ক্যারিয়ার নেটওয়ার্ক বিজনেস গ্রুপের  প্রেসিডেন্ট জৌ ঝিলেই, অ্যাকসেঞ্চারের সিনিয়র ম্যানেজিং ডিরেক্টর এশিয়া প্যাসেফিক কমিউনিকেশনস জিউসেপ জানেলি, গুগুল সাউথ এশিয়া এমার্জিং মার্কেটের প্রধান সামি কিজিলবাশ এবং বেসিস সভাপতি শামীম আহসান।

টেলিনর, অ্যাকসেঞ্চার ও বেসিস যৌথভাবে এবারের এ সম্মেলনের আয়োজক। এতে সহযোগী হিসেবে ছিলো তথ্যপ্রযুক্তি বিভাগ।

আল-আমীন দেওয়ান

*

*

আরও পড়ুন