লভ্যাংশ দিতে যুতসই চুক্তি চায় জিপি, সাবেকরা রাস্তায়

Evaly in News page (Banner-2)

আল-আমীন দেওয়ান, টেক শহর কনটেন্ট কাউন্সিলর : সাবেক কর্মীদের পাঁচ শতাংশ লভ্যাংশ হস্তান্তরে যুতসই চুক্তি করতে চায় গ্রামীণফোন (জিপি)। যাতে ভবিষ্যতে এই লভ্যাংশ প্রদান নিয়ে কোন জটিলতায় পড়তে না হয় টেলিকম অপারেটরটিকে।

এদিকে বর্তমান কর্মীরা লভ্যাংশ পেলেও সাবেকরা লভ্যাংশ না পেয়ে আন্দোলনে নেমেছে। গত কয়েকদিন ধরে নানা কর্মসূচী করে রোববার ঢাকায় জিপির প্রধান কার্যালয় জিপি হাউজের সামনে মানববন্ধন করে তারা।

এদিন একদিকে কর্মীদের মানববন্ধন অন্যদিকে উদ্ভুত বিষয় নিয়ে জিপি ট্রাস্ট্রি বোর্ডের বৈঠক চলছিল।

জিপি ট্রাস্টি বোর্ডের চেয়ারপার্সন ও জিপিপিসি কাউন্সিলর আহমেদ মনজুরুদৌলা টেকশহরডটকমকে জানিয়েছেন,বৈঠক ইতিবাচক হয়েছে। লভ্যাংশ পাওয়ার যোগ্য কর্মীরা যাতে তাদের লভ্যাংশ পান সেজন্য একটি যুতসই চুক্তি কাঠামো খোঁজা হচ্ছে।

তিনি জানান, বর্তমান কর্মীদের ক্ষেত্রে বন্ড বা চুক্তি যেই কাঠামোতে হয়েছে তা সাবেকদের ক্ষেত্রে কার্যকর নাও হতে পারে। তাই এমন একটি চুক্তি কাঠামো প্রয়োজন যা হলে পরবর্তীতে আইনগত বিষয়সহ বিভিন্ন ইস্যূতে কোন সাংঘর্ষিক অবস্থা তৈরি হবে না।

লভ্যাংশ পেতে যোগ্য সাবেক এই কর্মীদের সংখ্যা প্রায় ১ হাজার ছয়শত। যাদের পাওনা লভ্যাংশ প্রায় ৮০ কোটি টাকা।

gp

২০১০ থেকে ২০১২ সালের তিন বছরের লভ্যাংশ থেকে শ্রম আইন অনুযায়ী ৫ শতাংশ হারে লভ্যাংশ পেতে দীর্ঘদিনের আন্দোলন শেষে গত বছরের ২৪ ডিসেম্বর গ্রামীণফোন কর্তৃপক্ষ কর্মীদের দাবি মেনে নেয়।

সেদিন গ্রামীণফোন পিপলস কাউন্সিলের (জিপিপিসি) সাথে বৈঠকে গ্রামীণফোন সিইও রাজীব শেঠি বলেছিলেন,লিগ্যাল ভেটিং, বোর্ড অনুমোদনসহ কিছু প্রশাসনিক বিষয়ে আলোচনা-পর্যালোচনা করে কর্মীদের দাবি মেনে নেয়া হয়েছে। কর্মীদের চাওয়া অনুসারে ২০১৩ সালের লভ্যাংশ যেভাবে দেয়া হয়েছে ঠিক সেভাবে যোগ্য কর্মীদের তালিকা খুব তাড়াতাড়িই ট্রাস্টি বোর্ডে দেয়া হবে।

সেইসময়ে বলা হয়েছিল,লভ্যাংশ নিতে হলে প্রত্যেক কর্মীকে মূল টাকার সুদ দাবি নেই মর্মে লিখিত আবেদন করতে হবে। সেইসাথে লভ্যাংশ নেয়ার পর যদি যোগ্য কর্মীর তালিকা থেকে বাদ পড়েন তাহলে টাকা ফেরত দেয়ারও লিখিত স্বীকারোক্তি দিতে হবে।

সেই সিদ্ধান্ত অনুয়ায়ি লিখিত আবেদন করে বন্ড দিয়ে লভ্যাংশ পাওয়ার যোগ্য কর্মীদের মধ্যে বর্তমানে কর্মরত কর্মীরা ইতিমধ্যে লভ্যাংশ পেয়েছেন। কিন্তু যোগ্য কর্মীর তালিকায় থাকা সাবেক এই কর্মীরা এখনো লভ্যাংশ পাননি।

উদ্ভুত পরিস্থিতি নিয়ে গ্রামীণফোন তাদের বক্তব্যে জানায়, স্বতন্ত্র বোর্ড অফ ট্রাস্টির মাধ্যমে বর্তমানে কর্মরত কর্মীদের মাঝে ২০১০ থেকে ২০১২ সালের ডব্লিউপিপিএফ এর অর্থ বিতরণ প্রায় শেষের পথে। অর্থ বিতরণের সিদ্ধান্ত সম্পূর্ণভাবেই এই বোর্ডের। প্রাক্তন কর্মীদের এ বিষয়ে যে কোন তথ্যের জন্য ট্রাস্টি চেয়ারম্যানের সাথে যোগাযোগ করার পরামর্শ দেয়া হচ্ছে কারণ অর্থ এবং সংশ্লিষ্ট সময়ের স্থায়ী কর্মীদের তালিকা বোর্ড অফ ট্রাস্টিকে দেয়া হয়েছে। ডব্লিউপিপিএফ এর কিছু বিষয় এখনো বিচারাধীন আছে।

gp-2

জিপিইইউ সাধারণ সম্পাদক মিয়া মাসুদ টেকশহরডটকমকে জানান,ডিসেম্বরের সমঝোতা সাপেক্ষে লভ্যাংশ পেতে যোগ্য কর্মীর তালিকা অনুয়ায়ি সাবেক কর্মীদের লভ্যাংশ পেতে কোন সমস্যা হওয়ার কথা না। জিপি ম্যানেজমেন্ট অযথাই টাকা দিতে গড়িমসি করছে।

তিনি বলেন, ট্রাস্টি বোর্ডে ম্যানেজমেন্ট প্রতিনিধি রয়েছেন। তারা যদি টাকা দিতে গড়িমসি করে বা টাকা না দেয়ার উপায় খোঁজেন তাহলে ট্রাস্ট্রিবোর্ড কিভাবে কর্মীদের লভ্যাংশ দেবে। এখানে অপারেশনাল কাজ, সিগনেটরি ইত্যাদি বিষয়ে ম্যানেজমেন্ট প্রতিনিধিদের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ । সবার সহযোগিতা ছাড়াতো বিষয়টি বাস্তবায়িত হতে পারে না।

মাসুদ জানান, সমঝোতার সময়ে যোগ্য প্রার্থীদের মধ্যে কোন ভাগ ছিল না। কিন্তু পরে ম্যানেজমেন্ট কিভাবে যোগ্যদের মধ্যে সাবেক ও বর্তমানে ক্যাটাগরি করল-এটিও প্রশ্নের বিষয়।

উল্লেখ্য, ২০১০ থেকে ২০১২ সালের তিন বছরের লভ্যাংশ থেকে ঘোষিত লভ্যাংশ অনুযায়ী এইসময়ের কর্মীদের পাওনা অর্থের পরিমান ৪২০ কোটি টাকা । তবে এই টাকার সুদ প্রায় ১২০০ কোটি টাকা।

সমঝোতায় লভাংশ নিতে ম্যানেজমেন্ট শর্তের মধ্যে ছিল ৫ শতাংশের মূল টাকা পরিশোধের পর মূল টাকার সুদ তারা দাবি করছেন না। সে হিসেবে এই ১২০০ কোটি টাকার সুদ পাচ্ছেন না কর্মীরা।

জিপি ম্যানেজমেন্ট ওয়ার্কার্স প্রফিট পার্টিসিপেশন ফান্ড (ডব্লিউপিপিএফ) নিয়মানুসারে ২০১০ থেকে ২০১২ সালের লভ্যাংশের অর্থ ২০১৪ সালেই ট্রস্টি বোর্ডের কাছে স্থানান্তর করে।

*

*

আরও পড়ুন