ফেইসবুক পেইজের কল্যাণে সফল ট্রেন্ডিবগুড়া

আরও আট-দশটা মেয়ের মতো তার স্বপ্নযাত্রাও মসৃণ ছিলো না। বিবাহিত হওয়ার কারণে সামনে ছিলো বাধাবিপত্তির পাহাড়। এসব পেছনে ঠেলে তাজরিন তামান্না ইসলাম গড়ে তুলেছেন ট্রেন্ডিবগুড়া। তার গল্প শোনাচ্ছেন ফখরুদ্দিন মেহেদী।

অনার্স দ্বিতীয় বর্ষে থাকা অবস্থায়ই পরিবারের ইচ্ছায় বিয়ের পিড়িতে বসতে হয় তাজরিনকে। তবে প্রবল ইচ্ছাশক্তির জোরে নিজের পড়াশোনাটা চালিয়ে যান তিনি। বগুড়ার সরকারি আজিজুল হক কলেজ থেকে ইংরেজি সাহিত্যে অনার্স শেষ করেন। কিন্তু এরপর কি করবেন তা নিয়ে পড়েন সিদ্ধান্তহীনতার অকূল পাথারে। শেষমেশ মাত্র ৫০ হাজার টাকা পুঁজি করে গড়ে তুলেন একটি বুটিক হাউজ।

বুটিক হাউজ গড়ে তোলার পর এ নিয়ে নানান তথ্য তালাশ শুরু করেন অনলাইনে। তার ছিলো ক্লিকসেন্সের মতো মার্কেটপ্লেসে কাজ করার অভিজ্ঞতা। এই দিক থেকে ইন্টারনেট ঘাঁটাঘাঁটিতে দক্ষই ছিলেন তিনি। তবে তিনি মূলত গ্রাহক চাহিদা, বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের নানান পণ্যের ডিজাইন, কালার ম্যাচ করার উপায় ইত্যাকার বিষয়ের খোঁজখবর রাখতেন। এসব তার পণ্যের ডিজাইন পরিকল্পনায় বেশ কাজ দিতো।

tajrin 2

২০১২ সালে তিনি ফেইসবুকে একটি পেইজ খুলেন। নিজের বুটিক শপ ও প্রিয় শহরের নাম এক করে ট্রেন্ডিবগুড়া নামে খুলেন পেইজটি। এর মধ্য দিয়ে শুরু হয় তার অনলাইন কার্যক্রম।

যেভাবে শুরু
২০০৭ সালে ৫ জন কর্মচারী নিয়ে বুটিক শপ খুলেন তাজরিন। তার ভাষ্যে, বাড়িটা বগুড়া শহরের প্রধান সড়কের সাথে হওয়ায় এর নিচ তলায় অল্প পরিমাণ পণ্য নিয়ে খুলি সপটি। তবে শুরুতে হাতের কাজের পণ্যে ভালো সাড়া পাইনি। এখন অবশ্য পরিস্থিতি পাল্টেছে। বর্তমানে অনেকেই হাতের তৈরি দেশীয় পণ্য কিনে থাকেন।

প্রতিকূলতা
প্রতিকূলতাকে চ্যালেঞ্জ হিসেবে নিতে ভালোবাসেন তামান্না। এ ব্যাপারে তার বক্তব্য, লাভ লোকসান সব ক্ষেত্রেই থাকবে, তাই বলে থেমে থাকতে নেই। কম মূলধন নিয়ে ছোট এক শহর থেকে আমার বুটিক শপ যাত্রা শুরু করে। শুরুতে পণ্য বিক্রি না হওয়াটা ছিলো আমার সবচেয়ে বড় প্রতিকূলতা। কিন্তু আমি নিজের চেষ্টা অব্যাহত রেখেছিলাম বলেই আজ সফল হতে পেরেছি।

অনুপ্রেরণা
তাজরিনের স্বামীই মূলত তার সকল কাজে অনুপ্রেরণা জুগিয়েছেন। তার পড়াশুনা করা বা বুটিক শপ গড়ে তোলার ক্ষেত্রে সাহায্য করেছেন। এছাড়াও তিনি তার আত্মীয়স্বজন ও বন্ধুবান্ধবদের কাছ থেকে অনুপ্রেরণা পেয়েছেন।

বর্তমান অবস্থা
তাজরিনের ট্রেন্ডিবগুড়ায় বর্তমানে কাজ করেন ৬০ জনেরও বেশি কর্মচারী। এর সুবাদে ৬০ টি পরিবারের অভাব-অনটনের দিন পালিয়েছে। ঠিকমতো পণ্য পৌঁছে দেওয়া ও গুনগত মান ঠিক থাকার কারণে প্রতিষ্ঠানটির সুনাম দেশের পরিধি ছাড়িয়ে এখন বিদেশেও পৌঁছেছে। ফলে নানা দেশের গ্রাহকদের কাছ থেকে অনলাইনে অর্ডার এসে থাকে নিয়মিত।

tajrin

প্রচারণা
ট্রেন্ডিবগুড়ার প্রচারণার ক্ষেত্রে ফেইসবুক ক্যাম্পেইন, পেইজ শেয়ারিং এবং অ্যাডকেই বেশি গুরুত্ব দেন তাজরিন।

আগামীর পরিকল্পনা
তাজরিন ট্রেন্ডিবগুড়াকে শত শত লোকের রুটিরুজির সংস্থান বানাতে চান। দেশী পণ্যের দিকে ক্রেতাদের নজর ফেরানো ও বিদেশি ক্রেতাদের আরও আকৃষ্ট করার জন্যও নানান ভাবনা আছে তার।

নতুনদের জন্য পরামর্শ
নতুন উদ্যোক্তাদের জন্য তামান্নার পরামর্শ হলো নিজের সৃষ্টিশীলতাকে জাগিয়ে তুলুন। যে কাজটি ভালোবাসেন তা নিয়েই কাজে লেগে পড়ুন। সফলতা আসবেই।

২ টি মতামত

*

*

আরও পড়ুন