অর্থ খরচ করেও মুক্তি নেই সাইবার হামলা থেকে

ফখরুদ্দিন মেহেদী, টেক শহর কনটেন্ট কাউন্সিলর : বর্তমানে তথ্য জ্ঞানের জায়গাটা দখল করেছে। তাই এখন আর জ্ঞানকে শক্তি না বলা হয় না, বরং তথ্যকেই বলা হয় শক্তি। তবে এই তথ্য চুরি হলে শক্তিটা ভয়েই রূপ নেয়!

সাইবার হামলা একুশ শতকের সবচেয়ে বড় ভয়ের নাম। সাইবার অপরাধকে মাদকের চেয়েও বিপদজনক হিসেবে মানছেন বিশেষজ্ঞরা।

বিশ্বব্যাপী প্রতি সেকেন্ডে দুইটি করে সাইবার হামলার হুমকি তৈরি হচ্ছে। এর মাত্রাটা এতটাই ভয়াবহ হয়ে উঠেছে যে, এই একটা কারণে ৯০ শতাংশ কোম্পানি ম্যালওয়্যারের মতো ভাইরাসে আক্রান্ত হয়।

Techshohor Youtube

tech summit

 

এর চেয়েও ভয়াবহ তথ্য হলো এসব হামলা সম্পর্কে সচেতন হতেই কোম্পানিগুলোর কমপক্ষে ২১০ দিনের মতো সময় লেগে যায়! আর এ থেকে রক্ষা পেতে কোম্পানিগুলোর প্রতি বছর এক বিলিয়ন ডলারেরও বেশি খরচ করতে হয়। তাও এর হাত থেকে মুক্তি মেলে না।

এসব তথ্য দিয়েছেন টেন্ড মাইক্রোর ইন্ডিয়া ও সার্কের টেকনোলজি সেলস অ্যান্ড সার্ভিসের ডিরেক্টর শাশি কে ভালা। রাজধানীর হোটেল সোনারগাঁয়ে সিটিও ফোরাম বাংলাদেশ ও ইনফোকমের আয়োজনে অনুষ্ঠিত টেক সামিট ২০১৫ -তে ‘দ্য ফিউচার অব সাইবার সিকিউরিটি’ নামের সেমিনারে এসব তথ্য দেন তিনি।

দক্ষ লোকবল দ্বারা নিয়মিত পর্যবেক্ষণ, বিশ্লেষণ এবং সনাক্তকরণের মাধ্যমে এসব সাইবার হামলা থেকে রক্ষা পাওয়া যেতে পারে বলেও তিনি মনে করেন।

অনুষ্ঠানে সাইবার নিরাপত্তা বিষয়ক প্রতিষ্ঠান আর্নস্ট অ্যান্ড ইয়ংয়ের অংশীদার ও সাইবার স্পেশালিস্ট বার্গেস কুপার বলেন, প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তাদের দ্বারাই সাইবার হামলা হয়। ১০ হাজার কর্মকর্তার মধ্যে কেবল একজন যদি হ্যাকারদের সহযোগিতা করে, তবে ওই কোম্পানির সর্বনাশ অবধারিত হয়ে যায়।

এছাড়া মনভোলানো বিভিন্ন বিজ্ঞাপন দিয়ে ব্যাংক অ্যাকাউন্টের বিস্তারিত নিয়েও সাইবার অপরাধীরা হামলা করে থাকে।
হ্যাকাররা চাইলে একটি দেশের সরকারের সমস্ত ডাটা চুরি করে নষ্ট দিতে পারে বলেও তিনি মন্তব্য করেন।

বর্তমান সময়ে অ্যাপ ও গেইমিং সারা বিশ্বে জনপ্রিয়। ২০১৪ সালে সর্বমোট ৭৭ বিলিয়ন অ্যাপ ডাউনলোড হয়েছে। আর এটিকে টার্গেট করেই ব্যক্তিগত নেটওয়ার্কের ৬০ ভাগ তথ্য সাইবার অপরাধীরা নিয়ে যায় বলে জানান নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠান সিসকো সিস্টেমের ইন্ডিয়া ও সার্কের সিস্টেম ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের ভাইস প্রেসিডেন্ট কৌশিক নাথ।

তিনি বলেন, ক্লাউড কম্পিউটিং, বিড় ডাটা এবং ইন্টারনেট অব থিংকস হবে আগামীর সবচেয়ে বড় ব্যবসায়িক হাতিয়ার। তাই ইন্টারনেট ব্যবহারে আইএসপি ব্যবহারে সতর্ক থাকতে হবে।

এছাড়া ব্যক্তিগত ডিভাইসগুলোতে অ্যান্টি ভাইরাস ও মোবাইল সিকিউরিটির ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে বলেও জানান তিনি।

সাইবার হামলা আতংকে কাঁপছে গোটা বিশ্ব। কিন্তু এ নিয়ে বাংলাদেশ কি ভাবছে তা জানালেন একসেস টু ইনফরমেশন (এটুআইয়ের) টেকনোলজি স্পেশালিস্ট মোঃ আরফে এলাহি মানিক।

তিনি বলেন, বাংলাদেশ ক্লাউড কম্পিউটিংসহ নতুন নতুন প্রযুক্তি-সেবা গ্রহণে বিনিয়োগ করছে। সাইবার সিকিউরিটি নিয়েও সরকারের সতর্ক নজর রয়েছে।
এ জন্য এটুআই তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের সাথে মিলে ইথিক্যাল হ্যাকার, দক্ষ জনবল তৈরি এবং সিকিউরিটি সল্যুশনের সরকারী-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানকে সচেতন করছে।

এছাড়া সরকার শিগগিরই সাইবার সিকিউরিটি অ্যাক্ট এবং দেশের প্রতিটি জেলায় সাইবার সিকিউরিটি কেন্দ্র খুলবে বলেও জানান তিনি।

*

*

আরও পড়ুন