নিজেদের মার্কেটপ্লেস : ভাবতে হবে অনেক কিছু

আবুল কাসেম-টেক শহর
Evaly in News page (Banner-2)

আবুল কাশেম, আহবায়ক – বাংলাদেশ ইন্টারনেট প্রফেশনালস কমিউনিটি (বিআইপিসি) : বাংলাদেশের ফ্রিল্যান্সারদের জন্য মার্কেটপ্লেস হচ্ছে- টেকশহরডটকম এ বিষয়ে একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করে। নিউজটি পড়ে বোঝা গেলে বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ অনুযায়ী উদ্যোগটি নেওয়া হচ্ছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, ফ্রিল্যান্স মার্কেটপ্লেস হলে ফ্রিল্যান্সারদের জন্য আরও ভালো হবে।

এ বিষয়টি ফেইসবুকের নিউজফিডেও দেখলাম। যিনি শেয়ার করলেন, তিনি জানালেন- সরকারি উদ্যোগে এটি হচ্ছে। তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলকও একটি স্ট্যাটাস শেয়ার করলেন। সেখানে তিনি প্রস্তাবিত ফ্রিল্যান্স মার্কেটপ্লেসটির জন্য নামের সাজেশন চাইলেন।

আপাত দৃষ্টিতে দেখলে মনে হবে তাইতো, নিজেদের একটা পোর্টাল থাকলে ভালোই হবে। ফ্রিল্যান্স মার্কেটপ্লেস খুবই আকর্ষণীয়, সম্ভাবনাময় ও লাভজনক একটা উদ্যোগ। আর এ কারনেই প্রতিযোগিতাটাও অনেক বেশি।

প্রশ্ন হচ্ছে সম্ভাবনা থাকলেও বিশ্ব বাজার তথ্য গ্লোবাল মার্কেটে এ প্রকল্পকে সফল করে তোলার সক্ষমতা আছে কি?

market place
প্রস্তাবিত নতুন মার্কেটপ্লেস বিল্যান্সারের লোগো

 

এক যুগ আগে সেই ২০০৩ সাল থেকে আউটসোর্সিং ব্যবসা করার চেষ্টা করতে করতে ২০০৬ সালে এসে প্রথম বিক্রয়ের কাজটি সফলভাবে করতে পারি। এখন ২০১৫ সাল। দীর্ঘদিন ধরে এ ধরনের ব্যবসা করছি বলে ক্রেতাদের মনোভাব যেমনি বুঝি, প্রতিযোগিতার ধরণ ও তীব্রতাও আচঁ করতে পারি।

এ ধরনের প্রকল্প সফল করতে গেলে অনেক কিছুই লাগবে। মার্কেটপ্লেস তৈরি করার মতো কারিগরি দক্ষতা আমাদের আছে। কিন্তু তা সফল করার জন্য ব্যবস্থাপনা ও বিপণনে অভিজ্ঞতা সম্পন্ন লোকবল আছে কিনা আমার সন্দেহ আছে।

আমাদের দেশের অনেক শিল্প কারখানায়, বহুজাতিক প্রতিষ্ঠানগুলোতে, দেশীয় কর্পোরেট হাউজগুলোর শীর্ষপদগুলোতে আমার জানা মতে অনেক ক্ষেত্রেই বিদেশিরা আছেন। একটা সময় অ্যাপটেক, এনআইআইটিসহ কম্পিউটার শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর শাখা পরিচালকের জন্যও ভারত থেকে কর্মী নিয়োগ করতে হতো।

আবুল কাসেম-টেক শহর

আমাদের দেশের বেশিরভাগ প্রফেশনালরা ইল্যান্স, ওডেক্স ও ফ্রিল্যনশারডটকম সাইটগুলোতে কাজ করে। তারা এগুলোতে ভালো করছে। কারণ এ সাইটগুলো নানা কারণে বিশ্বের সব প্রান্ত থেকে ক্রেতা আকর্ষণে সক্ষম। এ সক্ষমতা অনেক দিন ধরে অনেক আয়োজনের মধ্যে তারা করতে পেরেছে।

এ সক্ষমতা অজ প্রধান কারণগুলোর মধ্যে প্রতিটি মার্কেটপ্লেসের উন্নত মানের প্লাটফর্ম, ব্যবহারবান্ধব, ক্রেতাবান্ধব নিয়মনীতি, পেমেন্ট সিস্টেম, কনফ্লিট রেজুলেশন সিস্টেম বিশেষভাবে উল্ল্যেখযোগ্য। কিন্তু যে বিষয়টা সবচাইতে আকর্ষণীয় তা হলো এ মার্কেটপ্লেসগুলোতে সব ধরনের ও সব লেভেলের গ্লোবাল টেলেণ্ট পাওয়া যায় ।

কোনো একটি নির্দিষ্ট দেশের বিশেষ কিছু কাজ করতে পারে এ ধরনের মার্কেটপ্লেস গ্লোবাল ক্লায়েণ্টকে আকষর্ণ করার মতো কি ধরনের ইউএসপি আমাদের আছে তা বিবেচনার বিষয়।

লো-কস্ট, স্কিল্ড প্রফেশনাল ইতিমধ্যে প্রতিষ্ঠিত মার্কেটপ্লেসগুলোতেও আছে। প্রচুর সংখ্যায় ফ্রিল্যান্স প্রফেশনালের পাশাপাশি প্রচুর সংখ্যায় ক্রেতা এ ধরনের প্রকল্প সফল হওয়ার মূল চাবিকাঠি।

এ কথা সত্য নতুন নতুন অনেক ক্রেতাও তৈরি হচ্ছে। তাদের কাছে পৌছাতে পারলে তাদের একটা বড় অংশ হয়তো আসতে পারে।

তাদের কাছে পৌঁছানোর ব্যবস্থাটা কি, এখান থেকে বসে গ্লোবালি কম্পিটিটিভ মার্কেটপ্লেসে প্রতিযোগিতায় অন্যদের হারিয়ে জয়ী হওয়ার মতো অভিজ্ঞ, দক্ষ ও এডুকেটেড প্রফেশনাল কি আছে?

অনেকে অনেক কিছুতে ভালো। অন্য বিষয়ে ভালো বলে এখানে ভালো করবে এ রকম সম্ভাবনা খুব কম। আমাদের দেশের আইটি ব্যবসাগুলোর বেশিরভাগই চার থেকে পাঁচ বছরের মধ্যে হারিয়ে যায়। এ পাচঁ বছর যে পুজিঁ নিয়ে শুরু করে সেই পুজিঁ আস্তে আস্তে শেষ হয়, আর কোম্পানিগুলো বন্ধ হয়ে যায়।

এ রকম অনেক ফ্রিল্যান্স মার্কেটপ্লেস দেখেছি। শুরুতেই ছিল ইল্যান্স ও রেন্টেকোডার। রেন্টেকোডার ও ভিওয়ার্কার একীভূত (মার্জ) করে হয় ভিওয়ার্কার।

এরপর ভিওয়ার্কার, স্ক্রিপ্টল্যান্স, গেটএকোডার কিনে নেয় ফ্রিল্যান্সারডটকম। ফ্রিল্যান্সারডটকম আবার ওয়ারিয়র ফোরামকে কিনে নেয় ৩ দশমিক ২ মিলিয়ন ডলার দিয়ে।

Box-illustration-outsourcing2

আর ইল্যান্স তার সবচাইতে বড় প্রতিদ্বন্দী ওডেক্সের সঙ্গে একীর্ভূত (মার্জ) হয়ে যায়। যারা ব্যবসা বোঝেন তারা নিশ্চয় জানেন কেন কোম্পানির মার্জ করে এবং কেনইবা বিক্রি হয়ে যায়।

আরেকটা বিষয় হলো এ ফ্রিল্যান্স সাইটে কোন প্রফেশনালরা টার্গেট সেটি একটি বড় বিষয়। যারা নতুন তারা নাকি পুরনো প্রফেশনালরা।

পুরনোরা প্রোফাইল তৈরি করলেও অন্য মার্কেটপ্লেসগুলোতে তাদের প্রোফাইল, রেটিং ও ক্রেতাকে ছেড়ে এখানে খুব বেশি অ্যাক্টিভ হবে এমন সম্ভাবনা খুবই কম।

এটা যদি সরকারি উদ্যোগ হয় তাহলে ফ্রিল্যান্সারদের জন্য বা অনলাইনে ব্যবসা করে তাদের জন্য কিছু ভালো বিষয়ও আছে।

এ উদ্যোগের সঙ্গে জড়িত হলে সরকার বুঝবে শুধু পেমেন্টের টাকা গ্রহণের জন্যই সবাই যে পেপল চায় না, সেটা পরিস্কার হবে। টাকা গ্রহণ বা আনা ছাড়াও পেপলের যে দরকার আছে সেটি সবাই বুঝবে। নিজেদের ব্যবসার জন্য বাংলাদেশে পেপল দরকার এটা বুঝতে পারবে সরকার।

অনেক ক্রেতাই পেপলে পে করবে। তবে এটি চালু করা না হলে পেপল আছে এমন দেশে একটা বিজনেস অ্যাকাউন্ট করতে হবে। সেই দেশে কর তো দিতে হবেই, আবার সেই টাকা বাংলাদেশে এনে ফ্রিল্যান্সারদের মাঝে বিতরণ করা যে কত ঝামেলার তা দু:স্বপ্নে পরিণত হবে। এ ছাড়া খরচের বিষয়টি ধরলে ফ্রিল্যান্সারদের থেকে অনেক টাকাই কাটতে হবে।

আবার গ্লোবালি অনেক কনসালটেন্ট নিয়োগ করতে হবে। অ্যাফিলিয়েট নিয়োগের পাশাপাশি নানা মার্কেটিং ইভেন্টের আয়োজন করতে হবে। প্রচলিত অনেক প্রতিবন্ধকতা মোকাবেলা ও সমস্যার সমাধান করতে হবে।

এক পাকিস্তানি বংশোদ্ভুত ক্লায়েন্ট আমার ওয়ারিয়র ফোরামের ইউজার নেইম দেখে বলেছিল আমি কেন আমার নাম ব্যবহার করেছি। তিনি জানালেন প্রাশ্চাত্যের অনেকেই পাকিস্তান, ভারত বা বাংলাদেশের কাউকে এক্সপার্ট ভাবে না ও ব্যবসা করতে স্বাচ্ছন্দ বোধ করে না। তারা শুধু স্বদেশীদের সঙ্গেই ব্যবসা করতে চায়।

এমনকি সেই ক্লায়েন্ট অকপটে বললেন, তিনি নিজেও কোনো পাকিস্তানির সঙ্গে ব্যবসা করতে চান না।

ক্লায়ান্টদের এ মানসিকতা বিশেষ গুরুত্বের সঙ্গে নিতে হবে। তারা ইল্যান্সের পরিবর্তে বাংলাদেশের ফ্রিল্যান্স মার্কেটপ্লেস ব্যবহারে কতটুকু অগ্রাধিকার দেবে তা ভাবার বিষয়।

প্রচুর অর্থ ব্যয় করে মার্কেটপ্লেস তৈরির পর লাখো ডলার খরচ করে মার্কেটিং শেষে ইল্যান্স-ওডেক্স আর ফ্রিল্যান্সারডটকম সাইটের সঙ্গে প্রতিযোগিতায় টিকে থাকা খুবই কঠিন। সফল হওয়ার জন্য যত কিছু করতে হবে, সেই তুলনায় প্রাপ্তির সম্ভাবনা খুবই কম।

তাই এ ধরনের প্রকল্প নেওয়ার আগে অনুরোধ করবো খুব ভালো করে সম্ভ্যবতা যাচাই করতে হবে। সেই সঙ্গে ফ্রিল্যান্স মার্কেটপ্লেসের ইতিহাস ও বাস্তবতা বিবেচনায় নিতে হবে।

ভাবতে হবে সানফ্রান্সিসকো থেকে সম্ভব হলে বাংলাদেশ থেকে তা সম্ভব কি-না।

৩ টি মতামত

  1. শরীফ said:

    আহারে এত দিনে আমাদের দুঃখের দিনের অবসান হতে যাচ্ছে। আমরা সব পারি। – জয় বাংলা!

  2. Rezaul Tipu said:

    I have read the article “Own market Place: Have to think many things” written by ICT expert Mr. Abul Kashem. Here very nicely explained what to do or not. The problems and prospects are carefully discussed. Problems are more than prospects, experts are also dropped their opinions that situation is not suitable to advance in this way. They also claimed against the quality and honesty of government officials. Therefore, now it is a challenge to the honorable ICT Minister whether he will take this initiative or not. If he takes he have to gain victory, otherwise his political future will may face many problems for this saying, getting experience from past.

  3. TonmoyParves said:

    প্রথমে আবুল কাশেম ভাইয়াকে ধন্যবাদ দিতে চাই এর উপর বিস্তারিত আলোচনা করা জন্য। উদ্যোগটা ভাল কিন্তু বুঝতে হবে আগে আলোচনায় আসা উচিত ছিল যারা এলাইন নিয়ে কাজ করতেছে অনেকদিন। হুট করেই একটা মার্কেটপ্লেস বানিয়ে কোটি কোটি টাকা বিনোয়োগ করার কোন দরকার এখন ছিল না। আগে ভাবতে হবে দেশের অবস্থান কোথায়? দক্ষ লোক না তৈরি করে খালি হাজার হাজার, লাখ লাখ মানুষকে আম-ঝালা বুঝাইয়া দিলেই হল !

*

*

আরও পড়ুন