গুগল ট্রান্সলেটে শব্দ যোগের নতুন রেকর্ড ডিআইইউ'র

Evaly in News page (Banner-2)

টেক শহর কনটেন্ট কাউন্সিলর : গুগল ট্রান্সলেটে শব্দ যোগ করার ক্ষেত্রে বিশ্ব রেকর্ড করেছে ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি (ডিআইইউ)। দশ দিনে ৩ লাখ ২৪ হাজার ৯৭৪ টি শব্দ যোগ করে নতুন এই রেকর্ড করে প্রতিষ্ঠানটির শিক্ষার্থীরা।

ফেইসবুকে ইভেন্ট খুলে ‘ট্রান্সলেট এ থন’ আয়োজন করে বিশ্ববিদ্যালয়টির শিক্ষার্থীরা রেকর্ডটি গড়ে।

এর আগে এই রেকর্ডটি শ্রীলংকার দখলে ছিলো। দেশটির গুগল স্টুডেন্ট অ্যাম্বাসেডর ১০ টি বিশ্ববিদ্যালয়কে নিয়ে এক লাখ ১০ হাজার শব্দ যোগ করে রেকর্ডটি গড়ে।

Translate a thon

ট্রান্সলেট এ থন সমাপ্তি উপলক্ষে ড্যাফোডিল বিশ্ববিদ্যালয়ের সোবহানবাগের ক্যাম্পাসে আয়োজিত অনুষ্ঠানে গুগল ডেভেলপার গ্রুপ (জিডিজি) বাংলার ব্যবস্থাপক জাবেদ সুলতান পিয়াস এ সব তথ্য দেন। পরে গুগলের কান্ট্রি ইঞ্জিনিয়ারিং কনসালটেন্ট খান মোঃ আনোয়ারুস সালাম এই অবদানকে আনুষ্ঠানিকভাবে বিশ্ব রেকর্ড ঘোষণা করেন।

ট্রান্সলেট এ থন আয়োজনটির উদ্যোগ নেন ড্যাফোডিলের শিক্ষার্থী তিতাস আহমেদ এবং মতিউর রহমান। এতে অংশগ্রহণ করেন এক হাজার ২৩ জন শিক্ষার্থী।

অসামান্য এই অর্জনে অবদান রাখার জন্য এই শিক্ষার্থীদ্বয়কে প্রথম ক্যাম্পাস অ্যাম্বাসেডর হিসেবে মনোনীত করে জিডিজি বাংলা।

অনুষ্ঠানে ২৬ মার্চ স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে ট্রান্সলেটে চার লাখ নতুন শব্দ যোগ করার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেন বিডিওএসএনর সাধারণ সম্পাদক মুনির হাসান।

তিনি বলেন, দেশের বেশিরভাগ মানুষ ইংরেজি জানে না। এ জন্য আমরা বিভিন্নভাবে পিছিয়ে আছি। কিন্তু ওয়েবে যদি আমরা বাংলাকে শক্তিশালী করতে পারি, তবে এই সমস্যা অনেকাংশেই দূর হয়ে যাবে।

চীনের উদাহরণ টেনে তিনি বলেন, চীনারাও মান্দারিন ছাড়া অন্য কোন ভাষায় তেমন পারদর্শী নয়। কিন্তু ওয়েবে তাদের ভাষা শক্তিশালী হওয়ায় তাদের আর অন্য ভাষায় নির্ভরশীল হতে হয় না।

১৪ই এপ্রিলের মধ্যে যে ট্রান্সলেটে সর্বোচ্চ শব্দ যোগ করবে তাকে সিঙ্গাপুরের গুগল অফিস ভ্রমণের সুযোগ দেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে ড্যাফোডিল গ্রুপের চেয়ারম্যান সবুর খান বলেন, তথ্য-প্রযুক্তিতে যত বেশি গুরুত্ব দেওয়া যাবে ততই তা দেশের জন্য মঙ্গলজনক হয়ে উঠবে। খাতটাকে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করেই অর্থনৈতিক বিপ্লব করতে পারে এ দেশ।

তিনি বলেন, গুগল ও ফেইসবুক বাংলাদেশকে খুবই গুরুত্বের সাথে নিচ্ছে। কিন্তু ওয়েবে বাংলা কনটেন্ট সমৃদ্ধ না থাকায় তারা বাংলাদেশে পুরোদমে ব্যবসায় নামতে পারছে না। এক্ষেত্রে তরুণ শিক্ষার্থীরাই ওয়েবে বাংলাকে সমৃদ্ধ করলে দেশের জন্য তা ভালো সুযোগ বয়ে আনতে পারে।

অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন ড্যাফোডিল বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রফেসর এমিরেটস আমিনুল ইসলাম, এসো ডটকমের প্রধান নির্বাহী দিদারুল আলম সানি, হাইফাই পাবলিকের প্রধান প্রযুক্তি কর্মকর্তা সাফকাত আলম।

অনুষ্ঠান শেষে দশজন শিক্ষার্থীকে আনুষ্ঠানিকভাবে গুগলের সার্টিফিকেট এবং পুরষ্কার তুলে দেওয়া হয়।

এদের মধ্যে ৩১ হাজার ২০৭ টি শব্দ যোগ করে প্রথম পুরষ্কার পেয়েছেন শাহনেওয়াজ আলআমিন। মেহেদী হাসান অভি ২০ হাজার ৩৩৭ শব্দযোগ করে দ্বিতীয়, শামস শাহরিয়ার ২০ হাজার ১৫১ টি শব্দ যোগ করে তৃতীয়, সালমান আবির ২০ হাজার ১৪৫ টি শব্দ যোগ করে চতুর্থ, মিনহাজুল ইসলাম ১৯ হাজার ৯৯৯ টি শব্দ যোগ করে পঞ্চম, তানভীর আহমেদ ১৭ হাজার ৫ টি শব্দ যোগ করে ষষ্ঠ, সৌমিক কুমার ঘোষ ১৫ হাজার ৪৬০ টি শব্দ যোগ করে সপ্তম, সাদমান আল ফারাবী ১৫ হাজার ২২৪ শব্দ যোগ করে অষ্টম, আসিফ হাসান ১৫ হাজার ১১০ টি শব্দ যোগ করে নবম এবং সজিবুল হাসান ১৫ হাজার শব্দ যোগ করে দশম স্থান অধিকার করেন।

এছাড়াও আরও ১০০ শিক্ষার্থীকে এই কার্যক্রমে অবদান রাখার জন্য গুগলের সার্টিফিকেট ও টি শার্ট দেওয়া হয়।

আগ্রহীরা এই ঠিকানায় গিয়ে গুগল ট্রান্সলেটে শব্দ যোগ করতে পারবেন।

ফখরুদ্দিন মেহেদী

*

*

আরও পড়ুন