তলাবিহীন ঝুড়ির অপবাদ ঘুচিয়েছে ডিজিটাল বাংলাদেশ : জয়

Evaly in News page (Banner-2)

টেক শহর কনটেন্ট কাউন্সিলর : বাংলাদেশ আর তলাবিহীন ঝুড়ির দেশ নয়। ১৯৭১ সালের এই অপবাদ ঘুচিয়ে গড়ে তোলা হচ্ছে ডিজিটাল বাংলাদেশ।

মঙ্গলবার ডিজিটাল ওয়ার্ল্ডের দ্বিতীয় দিনে মিস্ট্রিরিয়াল কনফারেন্সে কি-নোট উপস্থাপনকালে এ বক্তব্য রাখেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিষয়ক উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয়।

বক্তব্যের শুরুতেই তিনি বলেন, স্বাধীনতার পর মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী হেনরি কিসিঞ্জার বলেছিলেন, ‘বাংলাদেশ একটি তলাবিহীন ঝুঁড়ি’। কিন্তু আজ আমরা অবশ্যই তলাবিহীন ঝুড়ি নই।

জয় বলেন, ২০০৮ সালে দেশের দারিদ্র্যের হার ছিল ৪০ শতাংশ। ২০১৪ সালে এই হার হ্রাস পেয়ে ২৬ শতাংশ হয়েছে। আর সাক্ষরতার হার ছিল ৪৯ শতাংশ। বর্তমান সরকার হার ৬৫ শতাংশে নিয়ে এসেছে।

জয়

আগামী ৫ বছরের মধ্যে প্রতিবছর ইন্টারনেট ব্যবহারকারী এক কোটি বাড়বে এবং জিডিপিতে আইটি খাতের অবদান এক শতাংশ হবে উল্লেখ করে জয় বলেন, সারাদেশে ইলেকট্রিসিটি গ্রিড ২৭ থেকে ৬২ শতাংশ, ইন্টারনেট ০.৪ শতাংশ থেকে ২৭ শতাংশ, মোবাইল ফোন গ্রাহক ২০ মিলিয়ন থেকে ১২০ মিলিয়নে উন্নীত হয়েছে।

তিনি বলেন, সারাদেশে ৫৩ হাজার ডিজিটাল সেন্টার স্থাপন করা হয়েছে। এর মাধ্যমে সাধারণ মানুষ সহজেই সরকারি সব সেবা নিতে পারছেন। জন্ম-মৃত্যু নিবন্ধন, ভূমি রেকর্ড, পরীক্ষার ফলাফল, সরকারি বিভিন্ন ফরম, মোবাইল ব্যাংকিং, লাইফ ইন্স্যুরেন্স, ইংরেজি শিক্ষা, স্বাস্থ্য পরামর্শ আজ ডিজিটাল হয়েছে।

আগে ল্যান্ড রেকর্ডসহ সরকারি বিভিন্ন সেবা পেতে কয়েক সপ্তাহ লাগতো উল্লেখ করে তিনি বলেন, এই সেবা এখন দুই থেকে পাঁচ দিনের মধ্যে পাওয়া যাচ্ছে।

বর্তমানে সিদ্ধান্ত গ্রহণের সময় ৯০ শতাংশ কমে গেছে। ভ্রমণ খরচ অর্ধেকে নেমে এসেছে জানিয়ে জয় উল্লেখ করেন, আগে গ্রাম থেকে কাউকে শহরে যেতে যাতায়াত খরচ, থাকা, খাওয়াসহ অনেক খরচ লাগতো। এখন তার কিছুই লাগছে না। বিশ্বের সবচেয়ে বড় ওয়েবসাইট এখন আমাদের, যেখানে ৫০ হাজারের বেশি লোক কাজ করছেন।

প্রধানমন্ত্রীর এই উপদেষ্টা বলেন, সরকারি সব মন্ত্রণালয়, অধিদফতরের সঙ্গে জেলা, উপজেলা ও ইউনিয়ন পর্যায়ে ইন্টারনেট যোগাযোগ ব্যবস্থা স্থাপন করা হচ্ছে। এ সবের পাশাপাশি কালিয়াকৈরে হাইটেক পার্ক করা হয়েছে। এছাড়াও সব গুরুত্বপূর্ণ শহরগুলোতে ১২টি হাইটেক পার্ক করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।

তিনি বলেন, বর্তমানে জনসংখ্যার ৬৫ শতাংশের বয়স ২৫ বছরের নিচে। এরা তথ্যপ্রযুক্তি বিষয়ে ব্যাপকভাবে আগ্রহী। আইটি ফ্রি-ল্যান্সিংয়ের হার বাড়ছে দ্রুত। ১০ হাজারের বেশি আইটি গ্রাজুয়েট বের হচ্ছে প্রতিবছর।

কনফারেন্সে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, ইন্টারন্যাশনাল টেলিকমিউনিকেশন ইউনিয়নের (আইটিইউ) মহাসচিব হোউলিন ঝাও।

বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্ণর ড.আতিউর রহমানের সঞ্চালনায় কনফারেন্সে অর্থমন্ত্রী আব্দুল মাল আবুল মুহিত, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক, মালদ্বীপের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আহমেদ আদীম, নেপালের তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি মন্ত্রী ড. মিনেন্দ্র প্রসাদ রিজা ও ভুটানের তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি মন্ত্রী ডি এন ডানগাজেল বক্তব্য রাখেন।

আল-আমীন দেওয়ান

*

*

আরও পড়ুন