বিদ্যুৎ চুরি রোধের প্রযুক্তি বানালেন ইউআইইউর চার বন্ধু

Evaly in News page (Banner-2)

সাইমুম সাদ, টেক শহর কনটেন্ট কাউন্সিলর : অল্প খরচ ও স্বল্প শ্রমেও যে জাতীয় কোনো সমস্যা দূর করার মতো প্রযুক্তি তৈরি সম্ভব তার উদাহরণ তৈরি করেছেন ইউনাইটেড ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির (ইউআইইউ) চার শিক্ষার্থী।

জোবায়ের হোসাইন, সৈয়দ মাসরুর রহমান, মুস্তাক মাহমুদ রনি ও আবির রায় নামের এই শিক্ষার্থীরা বিদ্যুৎ চুরি রোধের যন্ত্র তৈরি করেছেন।

ইউআইইউ-এর ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেকট্রনিকের শেষ বর্ষের এ শিক্ষার্থীরা বিভাগের রুটিন রক্ষার প্রজেক্ট দিয়ে বাগিয়ে নিয়েছেন ‘জাতীয় বিদ্যুৎ সপ্তাহ’র নির্ধারিত প্রজেক্ট প্রতিযোগিতার দ্বিতীয় সেরার স্বীকৃতি। শুধু তাই নয়, সম্প্রতি প্রজেক্টটি পাইলট প্রকল্প হিসেবে ব্যবহার করার আগ্রহ দেখিয়েছে ঢাকা পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি।

UIU

‘অ্যান ইনটেলিজেন্ট সিস্টেম ফর ডিটেকটিং ইলেক্ট্রিসিটি থিফ’ নামের এই প্রজেক্ট তৈরির গল্পটা বলতে গিয়ে আবির রায় জানালেন, বিভাগের নিয়মানুযায়ী থিসিসের অংশ হিসেবে একটা প্রজেক্ট জমা দিতে হবে। কিন্তু কি নিয়ে কাজ করবো ভেবেই পাচ্ছিলাম না। একদিন রাস্তায় ঘুরতে গিয়ে দেখলাম কি, কয়েকজন বিদ্যুতের লাইন থেকে দিন-দুপরে বিদ্যুৎ চুরি করছে। তখনই বিদ্যুৎ চুরি রোধে প্রকল্প তৈরির পরিকল্পনা আমাদের মাথায় আসে।

সঙ্গে আরেকটু যোগ করলেন দলের আরেক সদস্য জুবায়ের হোসাইন, তিনি জানালেন, দেশে উৎপাদিত বিদ্যুতের ১৪ ভাগই চুরি হয়। এতে মোটা অংকের রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হয় দেশ। এই দিক থেকে আমরা যদি ১% বিদ্যুৎ অপচয় রোধ করতে পারি, তবে বছরে একহাজার কোটি টাকা বেঁচে যাবে। এই ভাবনা থেকে কাজ শুরু করি।

সৈয়দ মাসরুর রহমান জানালেন, ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেকট্রনিক বিভাগের ডিন প্রফেসর লুৎফুল কবিরের তত্ত্বাবধানে মাস খানেকের চেষ্টায় প্রজেক্টটি তৈরি করি আমরা। এটি তৈরিতে মোটে খরচ হয়েছে এক হাজার টাকা।
মুস্তাক মাহমুদ রনি জানান, অক্টোবরের শেষের দিকে প্রো-ভিসিই তাদেরকে প্রজেক্টটা ‘জাতীয় বিদ্যুৎ সপ্তাহ’য়ের প্রজেক্ট প্রতিযোগিতায় পাঠানোর প্রস্তাব দেন। এরপর লুৎফুল কবিরের কথামতো এই প্রজেক্ট নিয়ে ২০১৪ সালের ডিসেম্বরে আয়োজিত জাতীয় বিদ্যুৎ সপ্তাহের এই প্রতিযোগিতায় নাম লেখান চার বন্ধু।

এখানে ‘আন্তঃবিশ্ববিদ্যালয় বিদ্যুৎ বিষয়ক উদ্ভাবনী প্রকল্প পর্ব’ -এ ৬০ টি প্রকল্পকে পেছনে ফেলে দ্বিতীয় সেরার স্বীকৃতি পায় তাদের প্রজেক্ট।

জানা গেছে, প্রজেক্টে দুটো ডিভাইস আছে। এর একটি পোলের উপর রাখতে হয়। এখান থেকে ডিভাইসের ভেতর দিয়ে একটি তার মিটারের সাথে জুড়ে দিতে হয়। বাকি ডিভাইসটি থাকে মিটারের ভেতরে। এটি প্রয়োজনীয় বিদ্যুতের তথ্য মিটারে সংরক্ষণ করে।

এদিকে, মিটারের ভেতরে থাকা ডিভাইসটি পর্যবেক্ষণ করে, বাসায় কি পরিমাণ বিদ্যুৎ ব্যবহৃত হচ্ছে। সাপ্লাই ও ব্যবহৃত বিদ্যুতের পরিমাণের হেরফের হলেই বোঝা যায়, বিদ্যুৎ চুরি হচ্ছে কিনা।

যন্ত্রটি বিদ্যুৎ চুরির তথ্য জানাবে কিভাবে? এই প্রশ্নের উত্তরে উদ্ভাবকরা জানিয়েছেন, পোলের ডিভাইসে মোবাইল সিম যুক্ত করা হয়। এটি চুরির ঘটনা ঘটলে স্থানীয় বিদ্যুৎ অফিসে মেসেজ পাঠিয়ে দেয়।

*

*