সাফল্যের সাথে স্বপ্নের পথে ইউআইইউ কম্পিউটার ক্লাব

Evaly in News page (Banner-2)

সাইমুম সাদ, টেক শহর কনটেন্ট কাউন্সিলর : আইটি ইন্ড্রাস্টির সঙ্গে শিক্ষার্থীদের মেলবন্ধন ঘটাতে ২০১২ সালে যাত্রা শুরু করে ইউনাইটেড ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি কম্পিউটার ক্লাব (ইউআইইউসিসিএল)। মাত্র দশজন সদস্যের ক্লাবটি প্রথম বছরই নানা ইভেন্টে সাড়া জাগায়। কিন্তু পরের বছর থেকে সঠিক নেতৃত্বের অভাবে এর কার্যক্রম ঝিমিয়ে পড়ে। কিন্তু ২০১৪ সালের আগস্টে কম্পিউটার বিজ্ঞান ও প্রকৌশল বিভাগেরা একদল উদ্যমী তরুণ-তরুণী নতুন করে ক্লাবটির হাল ধরেন। মোবাইল, ওয়েব, গেইমস ও গ্রাফিক্স (জি অ্যান্ড জি) এবং এসিএম-তথ্যপ্রযুক্তির এই চার বিভাগ পুরো দমে কাজ শুরু হয়।

মঙ্গলবার বিকেলে ইউআইইউ ক্যাম্পাসে টেকশহরডটকমের সঙ্গে আড্ডায় বসেছিলেন ক্লাবের সদস্যরা। আড্ডায় ছিলেন সভাপতি জাকির হোসেন সাধারণ সম্পাদক ফারহান আনান হিমু, সহ-সভাপতি ফয়সাল আহমেদ, পিআর খুশনুর বিনতে জাহাঙ্গীর, ডেপুটি পিআর জাহিদ ইকবাল তুষার, গেমস অ্যান্ড গ্রাফিক্স বিভাগের অ্যাসিস্ট্যান্ট লিড ইফতিয়ার উদ্দিন আহম্মেদ।

নতুন দায়িত্ব পাবার পরই ক্লাবকে ঘিরে নতুন করে স্বপ্ন বুনতে শুরু করেন তারা। নতুন কমিটি গঠনের কয়েকদিনের মাথায় সফলভাবে বেশ কটি ইভেন্টের আয়োজন করে ক্লাবটি ফের আলোচনায় আসে।

UIU

নতুন দায়িত্ব পাবার পর কি কি ইভেন্টের আয়োজন করলেন? জাকির হোসেন জানালেন, ‘মাইক্রোসফটের সহযোগিতায় উইন্ডোজ ফোন অ্যাপস নিয়ে ওয়ার্কশপ করা হয়েছে। এরও সপ্তাহখানেকের মাথায় প্রোগ্রামিং কম্পিটিশনের উপর ওয়ার্কশপ আয়োজন করা হয়। এতে ইউআইইউয়ের শতাধিক শিক্ষার্থী অংশ নেন। পাশাপাশি ক্লাবের ওয়েব বিভাগ থেকে ওয়েব ডেভলপমেন্ট টুলস অ্যান্ড ল্যাঙ্গুয়েজের উপর দুটি ওয়ার্কশপ করা হয়। এছাড়া মাস খানেক আগে জিডিজির সঙ্গে ‘কানেক্ট বাংলা’ নামে আরও একটি সফটওয়ার প্রদর্শনীর আয়োজন করা হয়। এতে বাংলা নিয়ে বিভিন্ন সফটওয়্যার প্রদর্শন করা হয়।

জাকিরের সঙ্গে আরেকটু যোগ করলেন ফয়সাল আহমেদ, কয়েকদিন আগে দেশীয় ডেভেলপারদের নিয়ে ডেভ-ফেস্টের আয়োজন করা হয়। এতে দেশের বিভিন্ন প্রান্তের ডেভেলপাররা কুইজ-আড্ডায় অংশ নিয়ে একে অন্যের সঙ্গে অভিজ্ঞতা শেয়ার করেন।

এছাড়াও ক্লাবটি প্রথমবারের মতো ইউআইইউ ক্যাম্পাসে ইন্টারন্যাশনাল কনফারেন্স অন সফটওয়্যার, নলেজ, ইনফরমেশন ম্যানেজমেন্ট অ্যান্ড অ্যাপ্লিকেশন (স্কিমা) নামের একটি অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। এতে ফ্রান্স, জার্মানি, পর্তুগাল, হাঙ্গেরি, ইউকে, পাকিস্তান, নেপাল, থাইল্যান্ড শ্রীলংকা থেকে ৮০ জন গবেষক তাদের গবেষণাপত্র উপস্থাপন করেন।

এত সব প্রোগ্রাম সফলভাবে সম্পন্ন করা হয়েছে ক্লাবের সব সদস্যদের অক্লান্ত পরিশ্রমের ফলে। সবার সঙ্গে কাজ করার অভিজ্ঞতাটা বেশ আনন্দের। যেমনটি জানালেন খুশনুর বিনতে জাহাঙ্গীর, ক্লাবের সঙ্গে কাজ করতে গিয়ে সিলেবাসের বাইরের অনেক কিছু শেখা হচ্ছে। কোন ইভেন্টে নিজেদের দায়িত্ব ভাগ করে সবার সঙ্গে কাজ কাজ করার মজাটা অন্যরকম।

ফারহান আনানের ব্যাখ্যা একটু আলাদা, টিচার ও বড় ভাইদের সঙ্গে কাজ করতে খুব ভালো লাগে। আমাদের একাডেমিক সিলেবাসের চেয়ে প্রফেশনের বিস্তর পার্থক্য আছে। ব্যবহারিক বিদ্যায় ক্লাবটি এগিয়ে আছে।

ক্লাবের সঙ্গে কাজ করার উদ্দেশ্যটা জানতে চাইলে ফয়সাল জানালেন, অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলতে গিয়ে আমাদের ক্যাম্পাসের শিক্ষার্থীরা পিছিয়ে পড়ছে। কারণ তারা প্রাকটিক্যালি কিছু শিখতে পারছে না। সবার মাঝে শেখার প্রবণতাটা ছড়িয়ে দিতেই কাজ করছি।

ইফতিয়ার উদ্দিনের কাজ অন্যান্যদের চেয়ে আলাদা। ক্লাবে কাজ করছেন গেমস অ্যান্ড গ্রাফিক্স ডিজাইন নিয়ে। তিনি জানালেন, ২০১৩ সাল থেকে ক্লাবের সঙ্গে কাজ করছি। নিয়মিত ওয়ার্কশপের আয়োজন করে নতুন নতুন গ্রাফিক্স ডিজাইনার ও গেমস ডেভেলপার বের করে আনতে চাই। নতুন মেম্বাররাও এতে বেশ আগ্রহী।

২০১৩ সাল থেকে ক্লাবের সঙ্গে কাজ করছেন জাহিদ ইকবাল। এখন ডেপুটি পিআরের দায়িত্ব পেয়েছেন। বিভিন্ন ইভেন্টের ইনফো সংগ্রহের কাজ করেন।

ক্লাবগুলোর সঙ্গে সচরাচর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রো-ভিসিরা থাকেন না। বড় জোড় বিভাগীয় প্রধানরা থাকেন। কিন্তু ইউআইইউয়ের প্রো-ভিসি মফিজুর রহমান একটু আলাদা। তিনিই প্রত্যক্ষভাবে ক্লাবটির তত্ত্বাবধায়কের দায়িত্ব পালন করছেন। ক্লাবটি ঘিরে তার স্বপ্নটাও অনেক বড়। তিনি টেকশহরডটকমকে জানালেন, ‘ইন্ড্রাস্টির সঙ্গে একাডেমিক শিক্ষার একটা ব্রিজ তৈরিতে কাজ করছে ক্লাবটি। আইটি ইন্ড্রাষ্টির সঙ্গে জড়িত ইউআইইউয়ের প্রাক্তন শিক্ষার্থীরা এ ব্যাপারে ক্লাবের সদস্যদের সহায়তা করছে।

মডারেটর হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-বিষয়ক পরিচালক সুমন আহমেদ। তিনি জানালেন, কম্পিউটার ক্লাব বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পুরোপুরি সহায়তা পাচ্ছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের সহযোগিতায় সেমিনার, কর্মশালার আয়োজন করা হচ্ছে।

*

*

আরও পড়ুন