অবশেষে কর্মীদের লভ্যাংশ দিচ্ছে জিপি

Evaly in News page (Banner-2)

আল আমীন দেওয়ান, টেক শহর কনটেন্ট কাউন্সিলর : অবশেষে কর্মীদের লভ্যাংশ পরিশোধের ঘোষণা দিয়েছে গ্রামীণফোন। বুধবার বিকালে গ্রামীণফোন পিপলস কাউন্সিলের (জিপিপিসি) সাথে বৈঠকে গ্রামীণফোন সিইও রাজীব শেঠি এ সিদ্ধান্ত জানান।

বৈঠকে জিপি সিইও বলেছেন, লিগ্যাল ভেটিং, বোর্ড অনুমোদনসহ কিছু প্রশাসনিক বিষয়ে আলোচনা-পর্যালোচনা করে কর্মীদের দাবি মেনে নেয়া হয়েছে। কর্মীদের চাওয়া অনুসারে ২০১৩ সালের লভ্যাংশ যেভাবে দেয়া হয়েছে ঠিক সেভাবে যোগ্য কর্মীদের তালিকা খুব তাড়াতাড়িই ট্রাস্টি বোর্ডে দেয়া হবে।

জিপি ট্রাস্টি বোর্ডের চেয়ারপার্সন ও জিপিপিসি কাউন্সিলর আহমেদ মনজুরুদৌলা টেকশহরডটকমকে জানিয়েছেন, লভ্যাংশ নিতে হলে প্রত্যেক কর্মীকে মূল টাকার সুদ দাবি নেই মর্মে লিখিত আবেদন করতে হবে। সেইসাথে লভ্যাংশ নেয়ার পর যদি যোগ্য কর্মীর তালিকা থেকে বাদ পড়েন তাহলে টাকা ফেরত দেয়ারও লিখিত স্বীকারোক্তি দিতে হবে।

আরও পড়ুন: লভ্যাংশ দিতে সমঝোতার চেষ্টা জিপির, কর্মীদের কর্মসূচীও চলছে

Untitled-1

এদিকে বিকাল সাড়ে ৩টা থেকে সাড়ে ৪টা পর্যন্ত একঘন্টা বৈঠকের পর এসব বিষয়ে কোন আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেয়নি গ্রামীণফোন পিপলস কাউন্সিল (জিপিপিসি) এবং গ্রামীণফোন অ্যামপ্লয়িজ ইউনিয়ন (জিপিইইউ)।

বিষয়টি নিয়ে আরো পর্যালোচনা করে সিদ্ধান্ত জানাবে বলে জানিয়েছেন সংগঠন দুটির নেতারা।

গ্রামীণফোন এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, জিপিপিসির অনুরোধের প্রেক্ষিতে গ্রামীণফোনের ম্যানেজমেন্ট কমিটি ২০১০ থেকে ২০১২ সালের কর্মীদের একটি তালিকা ট্রাস্টি বোর্ডের কাছে শীঘ্রই হস্তান্তর করবে।

এতে বলা হয়, বুধবার কমীদের দাবি মেনে নিয়ে আন্তুরিকতার সাথে উদ্ভুত সমস্যার সমাধান করেছে জিপি ম্যানেজমেন্ট কমিটি। এরপর ট্রাস্টি বোর্ড পরবর্তী প্রক্রিয়াগুলো দ্রুত শেষ করে কর্মীদের পাওনা অর্থ দিয়ে দেবে।

ওয়ার্কার্স প্রফিট পার্টিসিপেশন ফান্ড (ডব্লিউপিপিএফ) নিয়মানুসারে ২০১০ থেকে ২০১২ সালের লভ্যাংশের অর্থ ইতিমধ্যে ট্রস্টি বোর্ডের কাছে স্থানান্তর করা হয়েছে বলে বিবৃতি উল্লেখ করা হয়।

ম্যানেজমেন্টের এই বিবৃতিতে বলা হয়, গত সপ্তাহে জিপির ম্যানেজমেন্ট কমিটি ট্রাস্টি বোর্ডের সাথে সরাসরি আলাপ করে এই সিদ্ধান্তে এসেছে যে যত দ্রুত সম্ভব তারা এই অচলাবস্থা নিরসন করে উপযুক্ত দাবিদার কর্মীদের পাওনা পরিশোধ করবে।

GP_1

জিপিপিসি এবং জিপিইইউ সাধারণ সম্পাদক মিয়া মাসুদ টেকশহরডটকমকে জানান, ম্যানেজমেন্ট শর্তসাপেক্ষে লভ্যাংশের ৫ শতাংশের মূল টাকা পরিশোধে সম্মত হয়েছে। তবে টাকা নিতে প্রত্যেক কর্মীকে আপ্লিকেশন করে বলতে হবে যে, মূল টাকার সুদ তারা দাবি করছেন না।

এছাড়া লভ্যাংশ নেয়ার পর  যোগ্য কর্মীর তালিকা থেকে বাদ পড়লে টাকা ফেরত দেয়ারও লিখিত স্বীকারোক্তি দিতে হবে বলে জানান তিনি।

তিনি বলেন, জিপিপিসি এবং জিপিইইউ কোন সিদ্ধান্ত না জানালেও কোন কর্মী যদি শর্ত মেনে টাকা নিতে চান সেটা তার নিজের সিদ্ধান্ত। এ বিষয়ে সংগঠনের কোন আপত্তি নেই।

২০১০ থেকে ২০১২ সালের তিন বছরের লভ্যাংশ থেকে শ্রম আইন অনুযায়ী ৫ শতাংশ হারে মুনাফার দাবি দীর্ঘদিন থেকেই করে আসছে কর্মীরা। যেখানে ঘোষিত লভ্যাংশ অনুযায়ী পাওনা অর্থের পরিমান দাঁড়ায় ৪২০ কোটি টাকা । তবে এই টাকার সুদ প্রায় ১২০০ কোটি টাকা।

এরআগে প্রথমদফা আন্দোলনের পর লভ্যাংশ গ্রহণের বিষয়ে ম্যানেজমেন্টের সাথে একবার সমোঝাতা হয়েছিল এবং এতে সুদ ছাড়াই কর্মীরা লভ্যাংশ নিতে রাজি হয়। তখন ম্যানেজমেন্ট টাকা ট্রাস্টি বোর্ডে ট্রান্সফারও করে। কিন্তু ম্যানেজমেন্ট ট্রাস্টি বোর্ডকে যোগ্য কর্মীদের তালিকা দিতে পারেনি।

এরপর গত ১৭ ডিসেম্বর থেকে কর্মীরা আবারও আন্দোলন শুরু করে। ঐদিন জিপিপিসির সাথে এক বৈঠকে জিপি সিইও বলেছিলেন, আমরা কর্মীদের পাওনা পরিশোধে আন্তরিক। তবে যোগ্য কর্মীদের তালিকা তৈরির প্রক্রিয়া ঠিক করতে লিগ্যাল ভেটিং, বোর্ড অনুমোদনসহ ২৪ ডিসেম্বর পর্যন্ত সময় প্রয়োজন। আমাদের সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা রয়েছে যতদ্রুত সম্ভব কর্মীদের পাওনা পরিশোধ দিতে।

অবশেষে আজ ২৪ ডিসেম্বর কর্মীদের পাওনা পরিশোধের ঘোষণা দিয়ে তিনি তাঁর কথা রাখলেন।

আরও পড়ুন:

*

*

আরও পড়ুন