দায়িত্ব নিয়েই আন্দোলনের মুখে জিপির নতুন সিইও

Evaly in News page (Banner-2)

আল আমীন দেওয়ান, টেক শহর কনটেন্ট কাউন্সিলর : টেলিনর গ্রুপের সবচেয়ে বড় কোম্পানির শীর্ষ পদের দায়িত্ব নেওয়ার শুরুটা ঠিক স্বস্তির হলো না রাজীব শেঠির। নতুন দায়িত্ব, নতুন দেশ। কোথায় একটু আনন্দের মুডে কাজ শুরু করবেন তা নয়, পথ চলার শুরুতেই আন্দোলনের মুখে পড়তে হলো তাঁকে।

দেশের শীর্ষ মোবাইল ফোন অপারেটর গ্রামীণফোনের প্রধান নির্বাহীর (সিইও) দায়িত্ব নিয়েই পড়লেন কর্মীদের আন্দোলনের মুখে। গত সোমবার থেকে অফিস করা শুরু করেছেন শেঠি।

তিন বছরের লভ্যাংশের ৫ শতাংশের দাবিতে কর্মীরা দীর্ঘদিন ধরেই আন্দোলন করছিলেন। বুধবার দাবি আদায়ে আবার মাঠে নামবেন তারা। এ জন্য গত কয়েকদিন নিজেদের মধ্যে বিভিন্নভাবে প্রচারনা চালিয়েছেন তারা।

আরও পড়ুন : লভ্যাংশের দাবিতে আন্দোলনে জিপি কর্মীরা 

gp

অন্যদিকে এ আন্দোলন নিয়ে বিপাকে থাকা গ্রামীণফোনের ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ মঙ্গলবার বিজয় দিবসের ছুটির মধ্যেও অফিস করেছেন। বিষয়টি সমাধানে ও আন্দোলন ঠেকাতে নানা পরিকল্পনা নিয়ে নিজেদের মধ্যে আলোচনা করতে অফিস করেছেন তারা বলে জানা গেছে।

যদিও এই বন্ধের দিনেই জিপিইইউসহ আন্দোলন সংশ্লষ্টদের নেতৃবৃন্দের সাথে বৈঠকে বসতে চেয়েছিল জিপি ম্যানেজমেন্ট। কিন্তু ১৬ ডিসেম্বর বিজয় দিবস থাকায় নেতারা বুধবার বৈঠকে বসতে চান।

বুধবার অবশ্য গ্রামীণফোন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমঝোতাও হতে পারে। কেননা এদিন সকাল সাড়ে নয়টা ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষের সঙ্গে বৈঠক রয়েছে তাদের। এতে কোনো সমঝোতা না হলে ওইদিন অবস্থান কর্মসূচী পালনসহ নতুন কর্মসূচী দেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন আন্দোলনরতরা।

সমঝোতা না হলে বুধবার সকাল ১১টা থেকে বসুন্ধরা আবাসিক এলাকায় প্রধান কার্যালয় জিপি হাউজে অবস্থান কর্মসূচীতে বসবেন গ্রামীণফোন পিপলস কাউন্সিল এবং গ্রামীণফোন অ্যামপ্লয়িজ ইউনিয়নসহ সাধারণ কর্মীরা।

গ্রামীণফোন অ্যামপ্লয়িজ ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক মিয়া মাসুদ টেকশহরডটকমকে জানান, তারা শান্তিপূর্ণ অবস্থান কর্মসূচীর জন্য প্রস্তুতি নিয়েছেন। এর অংশ হিসাবে সোমবার প্রতি ফ্লোরে কর্মী সংযোগ করেছেন তারা।

কর্মীরা তাদের প্রাপ্য পেতে উদগ্রীব উল্লেখ করে জিপির এ কর্মকর্তা বলেন, সকাল সাড়ে নয়টায় ম্যানেজমেন্টের সঙ্গে বৈঠক রয়েছে। সমঝোতা না হলে অবস্থান কর্মসূচী শেষে সকলের সঙ্গে আলোচনা করে নতুন কর্মসূচী দেওয়া হবে।

জিপি কর্মীদের দাবি ২০১০ সাল থেকে ২০১২ সাল পর্যন্ত তিন বছরে শ্রম আইন অনুযায়ী ৫ শতাংশ লভ্যাংশ থেকে ৪২০ কোটি টাকা প্রাপ্য রয়েছে। সেই সঙ্গে এ অর্থ এতদিন না দেওয়ায় সুদও দাবি করেন তারা।

সম্প্রতি সুদছাড়া ৪২০ কোটি টাকা পাওনা পরিশোধের বিষয়ে কর্মীদের সাথে ম্যানেজমেন্টের সমঝোতা হলে তা পরিশোধে বিষয়টি  ট্রাস্টি বোর্ডে যায়। পরে ট্রাস্ট্রি বোর্ড অর্থ পরিশোধে কারা পাওনা হবেন এর এলিজিবল কর্মীদের তালিকা চাইলে ম্যানেজমেন্ট তা দিতে পারেনি। তারা বিষয়টিতে আদালতে রিট আছে বলে জানায়।

জিপিইইউ নেতারা জানান, লভ্যাংশ গ্রহণের বিষয়ে ম্যানেজমেন্টের সাথে সমোঝাতা হয়েছিল এবং এতে সুদ ছাড়াই কর্মীরা লভ্যাংশ নিতে রাজি হয়। এরপর ম্যানেজম্যান্ট কমিটি টাকা ট্রাস্টি বোর্ডে ট্রান্সফার করে।

জিপি ট্রাস্ট্রি বোর্ডের চেয়ারপার্সন আহমেদ মনজুরুদৌলা টেকশহরডটকমকে জানান, ম্যানেজমেন্ট এলিজিবল তালিকা দিলে ট্রাস্ট্রি বোর্ড ১৫ দিনের মধ্যে কর্মীদের পাওনা ৪২০ কোটি টাকা বিতরণ করে দিতে পারবে।

দীর্ঘদিন থেকে এ বিষয়টির সমঝোতা না হওয়ায় চলতি মাস থেকে কর্মীরা পাওনা আদায়ে আবার আন্দোলনে নামেন।

আরও পড়ুন
আবারও মুনাফার চেয়ে বেশি লভ্যাংশ দিচ্ছে জিপি 

গ্রামীণফোন কর্মীরা লাভের অংশ পেলেন

ইউনিয়ন করতে আবারো বাধা দিচ্ছে গ্রামীণফোন

১০ হাজার কোটি টাকা আয়ের পথে গ্রামীণফোন

 

*

*

আরও পড়ুন